ঢাকা সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সামষ্টিক চাপে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন


সামষ্টিক চাপে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন

সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহের মধ্যে সরকার কিভাবে প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ঘাটতি বাজেট দেওয়ার একটি সংস্কৃতি বিদ্যমান রয়েছে।

এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়ে থাকে, এবং তার পরিশোধের চাপও বহন করতে হয়। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাজেট বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের সম্পূরক মঞ্জুরি দাবির ওপর চূড়ান্ত ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বিষয়ের কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আরও পড়ুন: দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে : হারুনুর রশীদ আজাদ

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, আর মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশে এসেছে। একই সময়ে, বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা রপ্তানি হ্রাস এবং আমদানি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফারহানা বলেন, শ্বেতপত্র অনুযায়ী গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে ১৪ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে।

অন্যদিকে, গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির তথ্য অনুযায়ী, ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাদি আইজেনকটের হাতে ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং দৃশ্যমান ব্যবসা না থাকা ব্যক্তিদের ঋণ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুদের হার ও ডলারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ডলারের ওপর চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে বিনিময় হার ধরে রাখার ফলে ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, শেয়ারবাজার ও কর ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হলে পুরো চাপ ব্যাংক খাতের ওপর গিয়ে পড়বে। কিন্তু খেলাপি ঋণের হার ইতোমধ্যে ৩৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এই অবস্থায় ব্যাংকগুলো কি বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত ঋণ দিতে পারবে, এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি জানিয়েছে যে, আগের ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে পরবর্তী কিস্তি দিতে হলে নতুন সরকারের সঙ্গে একটি নতুন সমঝোতায় আসতে হবে। ফলে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে চীন বা অন্যান্য দেশের দিকে তাকাতে হতে পারে।

রুমিন ফারহানা বলেন, এডিবি, বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের বাইরে অন্য উৎস থেকে ঋণ নিলে সাধারণত সুদের হার বেশি হয় এবং দ্রুত পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকে। তাই বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সরকারের জন্য বাজেট কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কিভাবে সম্ভব হবে, সেটিই বড় সমস্যা।

আরও পড়ুন: দেবিদ্বার বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বহিষ্কার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ দিয়ে চলাচলে ‘সেবা ফি’ নেওয়া হবে: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ পি.এম


হরমুজ দিয়ে চলাচলে ‘সেবা ফি’ নেওয়া হবে: ইরান

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে বিভিন্ন সেবার বিনিময়ে ফি নেওয়া হবে, এই তথ্য জানিয়েছেন ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাঈল বাঘাই বলেছেন, “হরমুজ প্রণালী আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই জলপথে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে আমাদের কিছু সময় প্রয়োজন হবে।”

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়ে তিনি বলেছেন, “ফি নেওয়া হবে।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি শুধু কোনও ধরনের চার্জ নয়; বরং জাহাজ চলাচলের জন্য বিভিন্ন ধরনের পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়ার অংশ হিসেবে এই অর্থ নেওয়া হবে।

তিনি বলেছেন, “পরিবেশ সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে। ইরান ও ওমানের পক্ষ থেকে আরও অনেক ধরনের সেবা দেওয়া হবে, আর এসব সেবার জন্য অর্থ ব্যয় হবে। সেই অনুযায়ী ফি থাকবে এবং বিষয়টি পরিষ্কার।”

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই নৌপথের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

ইরান ও ওমানের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক তেল বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ শহরের নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি নেটওয়ার্কের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সংযুক্তির পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মাহবুব আলম শাওন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ পি.এম


নওগাঁ শহরের নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি নেটওয়ার্কের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সংযুক্তির পরিকল্পনা

 

নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয়ের নেতৃত্বে এবং নওগাঁ জেলার সম্মানিত সুধীজন, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও পেশাজীবী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নওগাঁ শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো এবং ডিজিটাল করার জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে " সিসিটিভি নেটওয়ার্কের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি সংযুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ' গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও স্যার ভিলেন্স জোরদার করা যাবে।

বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন ও কৌশল প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। AI-সক্ষম সিসিটিভি ব্যবস্থা চালু হলে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত ক্যামেরাগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি, যানবাহন বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের আগে বা পরে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজ দ্রুত বিশ্লেষণ করা যাবে, যা তদন্ত কার্যক্রমকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক পাচার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, যানবাহন চুরি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত ও প্রতিরোধে AI-ভিত্তিক নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

এছাড়াও, এই উদ্যোগের ফলে একটি স্মার্ট ও নিরাপদ নওগাঁ গড়ে তোলার পথ সুগম হবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, জনসচেতনতা এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতার মাধ্যমে নওগাঁকে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভালুকায় তুলার গোডাউনে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


ভালুকায় তুলার গোডাউনে আগুন

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আংগারগাড়া বাজারসংলগ্ন ‘বিল্লাল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি তুলার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

এ ঘটনা রবিবার (১৪ জুন) রাত ১১টার দিকে ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গোডাউনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক দাবি করেছেন যে, এতে তাঁর প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১১টার দিকে গোডাউনের পেছনের অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে গোডাউনের ভেতরে থাকা তুলাসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী লিলি আক্তার বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে বাইরে বের হয়ে দেখি আগুন লেগেছে। গোডাউনের পেছনের দিক থেকে আগুন দেখা যাচ্ছিল। পরে আশপাশের লোকজন এসে দেখে পেছনের দিক থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং আগুনে পুড়ে তুলার গোডাউন ছাই হয়ে গেছে।’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘পেছনের দিক থেকে পরিকল্পিতভাবে কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আগুন লাগার সময় আমরা সবাই দোকানের সামনে খেলা দেখছিলাম। পরে একজন খবর দিলে এসে দেখি পেছনের দিক থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।’

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বিল্লাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. বিল্লাহ হোসেনও পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ গোডাউনের পেছনের দিক থেকে আগুন দিয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার এই গোডাউনে কোনো বিদ্যুৎ–সংযোগ নেই। এখানে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা আমাদের জানা নেই।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তাঁর প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাতের কারণ জানা যায়নি। আমাদের দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও জানান, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্যাতনের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন: সংসদে মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ পি.এম


নির্যাতনের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন: সংসদে মন্ত্রী

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর জন্য দ্রুত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে, এ পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এই কাজটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এসব বিষয় সম্পর্কে কথা বলেছেন।

সোমবার, জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে বর্তমান সরকার বিভিন্ন জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে চলেছে। এর আগে, সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসা শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬ সংসদের ১ম অধিবেশনে পাস করা হয়েছে এবং এখন থেকে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অপরাধগুলোর বিচার এই নতুন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪-এর বিধান অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।

এছাড়া, ২০২৫ সালের বিশেষ সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে অধিকতর গতিশীল ও দ্রুততর করা হয়েছে। এতে অভিযোগ গঠনের পর একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার কঠোর বিধান সংযোজিত হয়েছে।

নারী ও শিশুর সার্বিক সুরক্ষার নিমিত্তে সরকারের বিভিন্ন আইন, বিধিমালা, নীতিমালা এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের একটি চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় নারী নীতি ২০১১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬, ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪ ও বিধিমালা ২০১৭, বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা ২০১৮ এবং বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০৩০) প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের তাৎক্ষণিক সেবা দেয়ার পরিধি বাড়াতে, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে চালু থাকা ১৪টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুলিশি ও মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন, সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণ এবং আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এই সেবার আওতায় ইতোমধ্যে ৮২ হাজার ৬৭৮ জন সেবা পেয়েছেন।

এছাড়া, জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যায়ক্রমে ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ কেন্দ্রগুলো থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাৎক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা সেবাদানকারী ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার-১০৯ (টোল ফ্রি)-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত রেকর্ডসংখ্যক ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের জরুরি সেবা দেয়া সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং ৩৭টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের মাধ্যমে সেবা প্রসারিত করা হচ্ছে। বর্তমানে ন্যাশনাল ও ৮টি রিজিওনাল সেন্টার থেকে মোট ৩৮ হাজার ৬১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা দেয়া হয়েছে। এখানে সারভাইভারদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে তথ্য, আইনি পরামর্শ, উদ্ধার, বাল্যবিবাহ বন্ধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৩৯
মাগরিব ০৫:১৫
ইশা ০৬:২৮
সূর্যোদয় : ০৬:০৯ সূর্যাস্ত : ০৫:১৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%