বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:০২ পি.এম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড তৈরি করার কথা বলে এক বিধবার (৪৩) কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও একটি কাগজে টিপসই নেওয়া হয়েছে। এরপর গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেছে। তাকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়। তবে তিনি দাবি করেন যে, তিনি কোনো বিয়েতে সম্মতি দেননি।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস ছাত্তার কৌশলে তার কাছ থেকে টিপসই নেন। সেই টিপসই ব্যবহার করে জালিয়াতি করে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।
কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম উল্লেখ রয়েছে। কুদ্দুস পূর্বে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু তিনি কখনো প্রস্তাবে রাজি হননি। কুদ্দুসের সংসারে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, ছেলেমেয়েসহ নাতি-নাতনি রয়েছে।
স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, বিয়ের বিষয়ে তার স্বামী তাকে আগে কখনো কিছু জানাননি। ঘটনার প্রকাশ্যে আসার পর কুদ্দুস দাবি করেন যে, তিনি ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন; কিন্তু তিনি কারো কথায় কান দেননি।
অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তার একটি কসমেটিকসের দোকান রয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই নারীর কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি কোনো টিপসই নেননি। তিনি দাবি করেন, এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়েছি। তিনি (ছাত্তার) জামায়াতের পদধারী কোনো নেতা নন; বিগত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। আগে তিনি বিএনপি করতেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক।’
কাবিননামায় দেখা যায়, কাজি গোলাম মোস্তফা বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। এতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম রয়েছে। সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কোনো বিয়ের সাক্ষী হননি।
কাজি গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি এই বিয়ের কিছু সম্পন্ন করেননি। তার দাবি, যে কাগজ ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ জাল। এর আগে ২০২০ সালে এমন একটি জাল কাগজ তৈরি হওয়ায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবার কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
গত সোম ও বুধবার গ্রামে দুই দফা সালিস অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সালিসে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন না। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরও আবদুস ছাত্তার যদি অবস্থান স্পষ্ট না করেন, তবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালিসের নেতৃত্বে থাকা মোহাম্মদ রুস্তম আলী। তিনি বলেন, ‘কিভাবে কী হলো, আমরা যাচাই করছি। সালিসের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।’
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি তাঁরা বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন। তবে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার জন্য সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সই করেছে। এই চুক্তির স্বাক্ষর আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে সম্পন্ন হয়।
প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের আওতায় অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইসা কাজিম উপস্থিত ছিলেন।
এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড।
এদিকে, চুক্তির বিরুদ্ধে আজ দুপুরে ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটরিয়ামের সামনে বেশ কয়েকটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল ও সংগঠন অবস্থান নেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে মাদক কারবারি মিরাজুল ইসলামের বাসায় একটি মাদকের আসর চলছিল। ওই আসরে উপস্থিত ছিলেন এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন, মাদক কারবারি নাহিদ হাসান (২৬) এবং ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০)।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ওই বাসভবনটি ঘেরাও করেন। আত্মসমর্পণের জন্য তাদের আহ্বান জানানো হলেও, পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা কাদার মধ্যে পড়ে যান। পরে তাকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ডিএনসির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম বৃহস্পতিবার ভোরে পাচগাঁও গ্রামে মিরাজের বাসা ঘিরে রাখে এবং ভেতরে থাকা সবাইকে আত্মসমর্পণের জন্য আহ্বান করে। কিন্তু তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বাসার টিন ভেঙে লাফিয়ে কাদা মাটিতে পড়ে যান। তখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা তাকে ধরতে গেলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি ঘটে। এক পর্যায়ে তাকেসহ চারজনকে আটক করা হয়।
আটক চারজনের মধ্যে এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি এসেছিলেন এবং আটক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে তার জিম্মায় নিয়ে গেছেন। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন ধোলাইখাল ট্রাকস্ট্যান্ড অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) একটি চিঠি প্রদান করেছেন। এই চিঠিটি গত ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।
চিঠিতে ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, "আমার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত ধোলাইখাল এলাকায় বিদ্যমান ট্রাকস্ট্যান্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় যানজট, শব্দ ও বায়ুদূষণ, সড়ক নিরাপভাহীনতা এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে ভারী যানবাহনের চলাচল ও সড়কের ওপর ট্রাক অবস্থানের কারণে এলাকার স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এছাড়া, চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধোলাইখাল রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায়, বর্তমান স্থানে ট্রাকস্ট্যান্ড পরিচালনা জনস্বার্থ, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ইশরাক হোসেন বলেন, "একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও জনবান্ধব নগর বাবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রাকস্ট্যান্ডটি উপযুক্ত বিকল্প স্থানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।"
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক আরও বলেন, "এমতাবস্থায় জনস্বার্থে ধোলাইখাল ট্রাকস্ট্যান্ডের বর্তমান অবস্থান সরেজমিনে পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করে উপযুক্ত বিকল্প স্থান নির্ধারণপূর্বক ট্রাকস্ট্যান্ডটি অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।"
তিনি বিষয়টির জনস্বার্থ ও পুরুত বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে গৃহীত ব্যবস্থা ও অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের নিকটবর্তী দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ৪২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও হেরোইন জব্দ করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে সেন্ট মার্টিনের বিসিজি স্টেশনের একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা (আইএমবিএল) সংলগ্ন বাংলাদেশের জলসীমায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে সমুদ্রের মধ্যে একটি সন্দেহভাজন ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাকে থামার সংকেত দেয় কোস্ট গার্ড। কিন্তু কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পাচারকারীরা তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা সাগরে ফেলে দ্রুত মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে, আভিযানিক দল সাগরে ভাসমান তিনটি বস্তা উদ্ধার করে এবং তল্লাশি চালায়। উদ্ধারকৃত বস্তাগুলির মধ্যে ৪ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও ২১ কেজি ৫০০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪২ কোটি টাকা।
সেন্ট মার্টিন স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার মারুফ আহমেদ সৌখিন জানান, উদ্ধারকৃত মাদকের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা আরও জানান, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের সার্বিক নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, পরিবেশ রক্ষা এবং সকল প্রকার চোরাচালান ও মানব পাচার রোধে কোস্ট গার্ড সার্বক্ষণিক টহল ও অভিযান চালিয়ে আসছে। দ্বীপটিকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখতে এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এমন জিরো টলারেন্স অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ