প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড তৈরি করার কথা বলে এক বিধবার (৪৩) কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও একটি কাগজে টিপসই নেওয়া হয়েছে। এরপর গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেছে। তাকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়। তবে তিনি দাবি করেন যে, তিনি কোনো বিয়েতে সম্মতি দেননি।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস ছাত্তার কৌশলে তার কাছ থেকে টিপসই নেন। সেই টিপসই ব্যবহার করে জালিয়াতি করে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।
কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম উল্লেখ রয়েছে। কুদ্দুস পূর্বে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু তিনি কখনো প্রস্তাবে রাজি হননি। কুদ্দুসের সংসারে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, ছেলেমেয়েসহ নাতি-নাতনি রয়েছে।
স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, বিয়ের বিষয়ে তার স্বামী তাকে আগে কখনো কিছু জানাননি। ঘটনার প্রকাশ্যে আসার পর কুদ্দুস দাবি করেন যে, তিনি ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন; কিন্তু তিনি কারো কথায় কান দেননি।
অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তার একটি কসমেটিকসের দোকান রয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই নারীর কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি কোনো টিপসই নেননি। তিনি দাবি করেন, এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়েছি। তিনি (ছাত্তার) জামায়াতের পদধারী কোনো নেতা নন; বিগত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। আগে তিনি বিএনপি করতেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক।’
কাবিননামায় দেখা যায়, কাজি গোলাম মোস্তফা বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। এতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম রয়েছে। সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কোনো বিয়ের সাক্ষী হননি।
কাজি গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি এই বিয়ের কিছু সম্পন্ন করেননি। তার দাবি, যে কাগজ ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ জাল। এর আগে ২০২০ সালে এমন একটি জাল কাগজ তৈরি হওয়ায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবার কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
গত সোম ও বুধবার গ্রামে দুই দফা সালিস অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সালিসে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন না। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরও আবদুস ছাত্তার যদি অবস্থান স্পষ্ট না করেন, তবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালিসের নেতৃত্বে থাকা মোহাম্মদ রুস্তম আলী। তিনি বলেন, ‘কিভাবে কী হলো, আমরা যাচাই করছি। সালিসের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।’
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি তাঁরা বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন। তবে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন