মামুন বিল্লাহ (কালিগঞ্জ)সাতক্ষীরা
০৬:০৪ এম
জেলা প্রশাসকের নিহত স্কুল ছাত্রীর বাড়ি পরিদর্শণ
কালিগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার-১, সুমাইয়ার লাশ দাফন
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা -কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা নাজমা খাতুন বাদি হয়ে একজনের নাম উল্লেখসহ অপ্সাতনামা তিন জনের বিরুদ্ধে বৃহষ্পতিবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহষ্পতিবার সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাওছার আজিজ নিহত ফারজানা সুলতানার বাড়িতে যেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ন্যয় বিচারের আশ^াস দিয়ে সহায়তা করেছেন ১০ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের ও বর্তমানে একই উপজেলার কলুরমেদে গ্রামের শেখ আব্দুল লতিফের ছেলে ও গনপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া খাতুনের ভাই।
এদিকে গণপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া খাতুনের লাশ বুধবার রাত ১২টার দিকে কলুরমেদে মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে পাশর্^বর্তী কবরস্থনে দাফন করা হয়।
মামলা ও ঘটনার বিবরনে জানা যায়. ফারজানা সুলতানা ৬৯ নং কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। তার রোল নং- ১। সম্প্রতি জন্মদিনে তার মা নাজমা খাতুন ২২ হাজার টাকা দিয়ে দুই আনা ওজনের একজোড়া সোনার দুল বানিয়ে দেন। বিদ্যালয়ের সামনে নিজ বাড়ি সংলগ্ন দোকানে ভাজা মুড়ি বিক্রি করতেন আমিনুল ইসলামের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। কয়েকদিন ধরে ফারজানাকে বিনা টাকায় ঝালমুড়ি খাওয়াতো সুমাইয়া। গত সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শ্রেণীকক্ষের মধ্যে টেবিলের ড্রয়ারের মধ্যে ব্যাগ রেখে বাইরে চলে যায় ফারজানা। সে কোন ক্লাসে হাজির ছিল না। দুপুর একটায় ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে অবহিত করে মাইকিং করা হয়। অন্যত্র অবস্থানকারি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার বোন সুমাইয়া খাতুনকে মুঠোফোনে বাড়িতে ডেকে আনা হয় বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে। এ সময় পুলিশ তালা খুলে ওয়ালসোকেসের ভিতরে হাত ও পা বাঁধা ফারজানার লাশ উদ্ধার করে। সোয়া ছয়টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সুমাইয়াকে উঠানে ফেলে ইট দিয়ে থেঁতলে ও পিটিয়ে হত্যা করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ফারজানা ও সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার কওে পরদিন দুপুরে ময়না তদন্তের জন্য দুটি লাশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে কাশিবাটি টাইগার ক্লাব মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ফারজানার লাশ দাফন করা হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বুধবার রাত ১২টার দিকে কুলির মেদে গ্রামের মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে পিতা লতিফ শেখের বাড়ির পাশে সুমাইয়ার লাশ দাফন করা হয়। বুধবার মামলা রেকর্ড হওয়ার পর বৃহষ্পতিবার ভোওে দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের নানা জেহের আলীর বাড়ির সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে। তবে মামলায় কি কারণে ফারজানাকে হত্যা করার হলো তা উল্লেখ করা হয়নি।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার ভগ্নিপতি আমিরুল ইসলাম একজন জুয়াড়ি ও মাদকাসক্ত। সম্প্রতি তার বাবার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে সে গোপালগঞ্জে চলে যায় কাজের জন্য। জুয়া খেলতে ও নেশার টাকা যোগাতে আমিরুল তার বোনকে দিয়ে অনেক টাকা ঋণ করিয়েছে। সোমবার সকালে সে বোন সুমাইয়ার বাড়িতে গিয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, ফারজানা নিখোঁজ হওয়ার পর দুপুর সোয়া একটার দিকে একটি অচেনা মোবাইল নম্বার থেকে তার কাছে ফোন আসে। জানতে চাওয়া হয় সুমাইয়া ও ফারজানা তাদের বাড়িতে গেছে কিনা। তার বোনের কাছে কিছু জানার চেষ্টা না করে বা তাকে কিছু বলার সূযোগ না দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করায় অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেলো। উপরন্তু তাকেও হয়রানিমূলকভাবে এ মামলায় জড়ানো হলো। সে তার বোন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করে বলে, ফারজানা হত্যার আসল ঘটনা চাপা দিতে তার বোনকে নির্মমভাবে ইট দিয়ে থেঁতলে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম জানান, প্রকৃতপক্ষে ফারজানা হত্যার ব্যাপারে তারা এখনো অন্ধকারে। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমাণ্ড আবেদন জানানো হবে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, সুমাইয়া খাতুনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বৃহষ্পতিবার বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে ফারজানা হত্যার ঘটনায় তার মা নাজমা খাতুন বাদি হয়ে বুধবার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।# সাতক্ষীরা প্রতিনিধি। তাংÑ ২৩.০৭.২৬ ছবি আছে আব্দুল্লাহ আল মামুনের। জেলা প্রশাসক মিজ কাওছার আজিজ বৃহষ্পতিবার কাশিবাটির বাড়িতে যেয়ে নিহত ফারাজানর বাবার হাতে নগদ টাকা তুলে দিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে, বৃষ্টির কারণে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. আল আমিন (৩০) নামে এক যুবক মারা গেছেন। বিয়ের মাত্র ৩ দিন পরে তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কের কুটির বাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আল আমিন ১ নম্বর ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ছাতারপাইয়া পশ্চিম-দক্ষিণপাড়া গ্রামের রশিদ ব্যাপারী বাড়ির আব্বাস ক্বারির সেজ ছেলে এবং স্থানীয় চিকিৎসক ডা. মমিনের ছোট ভাই। গত সোমবার (২০ জুলাই) তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোনাইমুড়ী থেকে মোটরসাইকেলে করে নিজ গ্রামে ফেরার পথে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পিচ্ছিল সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আল আমিন দুর্ঘটনার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রহিম সরকার জানিয়েছেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামাজ ইসলাম ধর্মের অন্যতম স্তম্ভ। প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর ওপর নামাজ পড়া ফরজ। কিয়ামতের দিন প্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের উপর। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য জরুরি হলো, নামাজের সময়সূচি জানা।
প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জন্য সময়মতো নামাজ পড়া ফরজ। এজন্য জরুরি হলো, নামাজের সময়সূচি জানা। আজ শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ইংরেজি, ০৯ শ্রাবন ১৪৩৩ বাংলা, ০৯ সফর ১৪৪৮ হিজরি।
ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো। চলুন দেখে নিই ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি:—
ফজর- ০৩:৫৭ মিনিট।
জোহর- ১২:০৬ মিনিট।
আসর- ০৪:৪৪ মিনিট।
মাগরিব- ০৬:৪৮ মিনিট।
এশা- ০৮:১২ মিনিট।
তাহাজ্জুদ ও সেহরির শেষ সময়- ০৩:৫৬ মিনিট।
আজকের ইফতারের সময়সূচি - ৬:৫০ মিনিট।
আজ সূর্যোদয় (Today Sunrise Time)- ০৫:২২ মিনিট।
আজ সূর্যাস্ত (Today Sunset Time)- ৬:৪৮ মিনিট।
আগামীকাল (শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬) ফজর শুরু - ৩টা ৫৮ মিনিট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে দীর্ঘ ২৬ দিন ধরে অনশনে থাকার পর অবশেষে তা ভেঙেছেন ভারতের জলবায়ু, পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি তরল খাবার গ্রহণ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে সোনামের অনশন ভাঙার ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওতে শয্যাশায়ীর পাশে সোনামের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জীতেন্দ্র সিংকে দেখা গেছে। তার স্ত্রী গীতাঞ্জলী আংমোও তার পাশে আছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের সাইটে ভিডিওটি শেয়ার করেছে।
সমন্বিত মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে তরুণ-তরুণীদের রাজনৈতিক মঞ্চ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন কর্মসূচিকে সমর্থন করে গত ২৮ জুন রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় সোনাম অনশনে বসেছিলেন।
ভিডিওতে সোনাম বলেছেন, “আমি অনশন ভাঙতে পেরে খুবই কৃতজ্ঞ, ধন্যবাদ। গীতাঞ্জলি সবসময় আমার পাশে ছিলো। তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই না, আমি শুধু আমার অনুভূতি প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও বলেছেন, “পাশাপাশি, আমি আপনাদের সবার প্রতি সহিংসতার প্রতি খুব সতর্ক থাকার আহ্বান জানাব। কোথাও যেন কোনো প্রকার সহিংসতা না হয়।”
অনশন শুরু করার পর ২০ তম দিন অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত তিনি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকারেই ছিলেন। ২১ তম দিন শনিবার ভোরের দিকে দিল্লি পুলিশ তাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনায় নালিশ জানিয়ে সোনামের স্ত্রী গীতাঞ্জলী দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে নয়াদিল্লির মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিটের প্রশ্নফাঁসের জন্য সিজেপি এবং সোনাম ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনও পদত্যাগ করেননি, তবে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বিনীত যোশীকে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে পঞ্চায়েত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পরেই সোনাম অনশন ভেঙেছেন।
মেদান্ত হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত ২৬ দিনের অনশনে সোনামের ওজন ১১ কেজি কমেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
উল্লেখ্য, সাধারণত উপকূল বা জোয়ারের রেখার সবচেয়ে কাছের অংশ সুরক্ষিত রাখতে ৫০ মিটারের মধ্যে স্থায়ী বা বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেইসঙ্গে উপকূলের পরিবেশগত সুরক্ষার জন্য ৫০০ মিটারের মধ্যে বড় ধরনের রিসোর্ট, হোটেল কিংবা শিল্প স্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, কক্সবাজারে ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। যেখানে পর্যটন উন্নয়ন হবে, সেখানে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠতে হবে। পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করেই উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, কিন্তু এমন কঠোর বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয় যাতে বিনিয়োগই না আসে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে, বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ, যার জন্য পরিকল্পিতভাবে উল্লম্ব (ভার্টিক্যাল) উন্নয়নকে উত্সাহিত করতে হবে। অন্যথায় শিল্পাঞ্চল, জলাধার এবং কৃষিজমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্বের বড় বড় পর্যটন নগরীগুলোতে বহুতল ভবনের মাধ্যমে পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়েছে; কক্সবাজারেও সেই দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের বড় পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ এগোচ্ছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে, এবং চট্টগ্রাম থেকে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে কক্সবাজার অন্যতম গ্রোথ হাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পর্যটন, বাণিজ্য এবং সেবা খাতের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে কক্সবাজারের ভূমিকা আরো শক্তিশালী হবে।
বৈঠকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। তিনি জানান, বৈঠকে পর্যটন, পরিবেশ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ভূমি, জন প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং কক্সবাজার পৌরসভার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বছরের (২০২৬) মধ্যে একটি মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। মাস্টারপ্ল্যানের মূল লক্ষ্য হলো কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক পর্যটন হাব এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পর্যটন এলাকা নির্ধারণ, মেরিন ড্রাইভ ও উপকূলীয় এলাকার বিদ্যমান বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। পর্যটন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারে বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সুবিধা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও পানি শোধনাগারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ