বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৯ এম
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে শুরু করে পৌরসভার অলিগলি-সবত্রে বেড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া দৌরাত্ম্য। নিয়ম ও শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, হঠাৎ ইউটার্ন, বিপরীতমুখী চলাচল এবং অতিরিক্ত গতির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ যাত্রীরা।
কালিয়াকৈর-চন্দ্রা ও কালিয়াকৈর-নবীনগর মহাসড়কের সফিপুর, মৌচাকসহ বিভিন্ন অংশে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থেকে এবং মাঝসড়কে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। কালিয়াকৈর সদর বাজার, চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অটোরিকশার জন্য দীর্ঘ যানজট প্রতিদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় এক চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "অফিসে যাওয়ার সময় প্রতিদিনই যানজটে পড়তে হয়। ৫ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে কখনো কখনো ৩০ মিনিট লেগে যায়।" এক অভিভাবক জানান, অলিগলিতে অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা দেওয়ান জসিম উদ্দিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কালিয়াকৈরের রাস্তাঘাট আজ অটোরিকশার দখলে। কোনো নিয়ম-নীতি না থাকায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। জনগণের দোয়ায় পৌরসভার দায়িত্ব পেলে আমার প্রথম কাজই হবে নির্দিষ্ট রুট, স্ট্যান্ড ও চালকদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করে কালিয়াকৈরের যানজট নিরসন করা।" তিনি অবিলম্বে ট্রাফিক পুলিশ বৃদ্ধি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এ অবস্থায় কালিয়াকৈরের শিল্পাঞ্চলের বিপুল জনসংখ্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ট্রাফিক অভিযান, নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ এবং চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে একটি স্থায়ী নীতিমালার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর সদর উপজেলার যোগিনীমুরা গ্রামের বাসিন্দা আবেদ আলী টুনি সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদ আলী টুনির উপস্থিতি লক্ষ্য করে শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর পোশাক ও সার্বিক অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর প্রয়োজনের বিষয়টি উপলব্ধি করেন।
এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আবেদ আলী টুনিকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় নতুন পোশাক কেনার ব্যবস্থা করা হয়।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, "মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার সুন্দরতম প্রকাশ।" তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষটির পাশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে, ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘অপরাধের জন্য অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলতে থাকবে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া বক্তব্যে জোলফাগারি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানি এই সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, এসব হামলায় মার্কিন অবকাঠামো, স্থাপনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও জানান, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন কমান্ডার ও সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। তবে ইরানের এই ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের বড় ধরনের মার্কিন হতাহতের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জোলফাগারি বলেন, ‘আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণাত্মক অভিযান চলতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়।’ তিনি যুক্ত করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরানের জবাব আরও ‘ভারী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক’ হবে।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকের মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
জোলফাগারি আরও বলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করবে, তাদেরও এর ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ মেনে নিতে হবে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আঞ্চলিকভাবে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর ডিলার পর্যায়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দের সার অগ্রিম ডিলারদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ফলে, বর্তমানে ডিলার পর্যায়ে পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা সরকারের নির্ধারিত মূল্যেই সার কিনে জমিতে প্রয়োগ করতে সক্ষম হচ্ছেন। চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁয় সারের কোন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়, সেই উদ্দেশ্যে চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ জেলা পর্যায়ে অগ্রিম নিয়ে আসা হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলার কোন সার ডিলার যেন বেশি দামে সার বিক্রি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে জেলাজুড়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং সারের বাজার প্রতিনিয়ত কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নগুলোতে চাহিদার ভিত্তিতে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে, এমন সরবরাহের ঘটনাকে অনেকেই সার পাচার বলে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছেন, এমনটি জানিয়েছেন জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো: মনজুর হোসেন।
জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমনধানের চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে জমিতে আমনধানের গাছ মাঝারি আকার ধারণ করেছে। তাই, বর্তমানে জমিতে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন রয়েছে। গত জুলাই মাসে নওগাঁর জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিলো ৬৬৭৭ মেট্রিক টন, টিএসপি ১২৮৯ মেট্রিক টন, এমওপি ৩০৪১ মেট্রিক টন, ডিএপি ৩৯১৬ মেট্রিক টন। আগস্ট মাসে বরাদ্দ ছিলো ইউরিয়া ৯৯৯১ মেট্রিক টন, টিএসপি ১০৯৭ মেট্রিক টন, এমওপি ২৭৭৫ মেট্রিক টন ও ডিএপি ২৮৫৩ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে ইউরিয়া ৬৩৬৯ মেট্রিক টন, টিএসপি ৭৬৬ মেট্রিক টন, এমওপি ১৯৯৩ মেট্রিক টন ও ডিএপি সার ২৩১২ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ ইতোমধ্যেই জেলার সার ডিলারদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ডিলাররা তাদের বরাদ্দের সার উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে নওগাঁর ডিলার পর্যায়ে সারের কোন সংকট নেই। বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫০ টাকায়, ডিএপি ১০৫০ টাকায়, টিএসপি ১৩৫০ টাকায় ও এমওপি ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে, কৃষকদের জমিতে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্ব স্ব এলাকার উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসারে সার ছিটানো উচিত। মৃত্তিকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সার ছিটানোর কোন বিকল্প নেই। বর্তমানে দেশের কৃষকরা জমিতে জৈব সার প্রয়োগ না করে বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। এর ফলে জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগের কারণে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশও দূষিত হচ্ছে, এবং বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তাই, জমিতে সার ছিটানোর বিষয়ে কৃষকদের কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণের কোন বিকল্প নেই বলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সিংগারপাড়ার আদর্শ কৃষক মোস্তাক হোসেন জানান, বর্তমানে ডিলারদের দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে। স্লিপের মাধ্যমে তারা ন্যায্য দামে সার পাচ্ছেন। তিনি বলেন, "সবার আগে কৃষকদের সচেতন হতে হবে। প্রয়োজন নেই, তবুও আমরা কৃষকরা সার পাবো কি পাবো না এই গুজবে কান দিয়ে প্রয়োজনের চাইতে বাড়িতে অতিরিক্ত সার মজুত করছি।" এছাড়া, প্রতিনিয়ত পুকুরগুলোতে সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু পুকুরে ব্যবহৃত সারের কোন আলাদা বরাদ্দ নেই। ফলে, প্রতি মৌসুমে সারের কিছুটা অতিরিক্ত চাহিদা বাড়ছে। তাই, পুকুরগুলোতে ব্যবহৃত সারের তালিকা নিয়ে আলাদা করে বরাদ্দ প্রদান করা হলে কৃষি জমির জন্য বরাদ্দকৃত সারের উপর চাপ কমবে এবং সারের কোন কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হবে না। তাই, সরকারের এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোন বিকল্প নেই।
সদর উপজেলার চকউজির গ্রামের কৃষক এবাদুল প্রামাণিক জানান, "আমরা কৃষকরা প্রতিযোগিতা করে জমিতে সার ছিটাই। আমরা কৃষি কর্মকর্তাদের নয় কীটনাশকের দোকানদারের পরামর্শে জমিতে সার ও কীটনাশক দিয়ে থাকি যা আমাদের জমির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।" অপরদিকে, কৃষকদের খরচও বেড়ে যায়। জমিতে অতিরিক্ত টিএসপি সার প্রয়োগের ফলে জমিতে এতো পরিমাণ ফসফরাসের মজুত হয়েছে যা প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি। কিন্তু কৃষকরা মৃত্তিকা পরীক্ষা না করেই প্রতিযোগিতা করে জমিতে সার দিয়ে আসছেন, যার কারণে ব্যাপকভাবে জমির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে, ততই জমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে মাটি তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এই খারাপ অভ্যাস থেকে কৃষকদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ছাড়া জমিতে সার ও কীটনাশক না দিতে কৃষকদের প্রতি অনুরোধ জানান এই কৃষক।
জেলার বদলগাছি উপজেলার কোলা-ভান্ডারপুর এলাকার কৃষক রমিজ উদ্দিন জানান, বর্তমানে তারা ডিলারদের দোকানে সরকারের বেধে দেওয়া দামেই চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন। তবে, সার নিয়ে যারা অযথা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং যারা দুষ্ট খুচরা সার বিক্রেতারা কৃষকদের জিম্মি করে দাম বেশি নেওয়ার আশায় অবৈধভাবে সার মজুত করছেন, তাদেরকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে দেশে সার নিয়ে আর কেউ গুজব সৃষ্টির সুযোগ পাবে না। এছাড়া, মাঠ পর্যায়ে থাকা কৃষি কর্মকর্তাদেরও আরো সক্রিয় হতে হবে। তাদেরকে স্বজনপ্রীতির ধারা থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ জানান এই কৃষক।
রাণীনগর উপজেলা বিএডিসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: রেজাউল ইসলাম জানান, প্রতিনিয়তই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারের বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। যার কারণে বেশি দামে সার বিক্রির কোন সুযোগ নেই। কোন সার ব্যবসায়ী কৃষকদের যেন না ঠকান, সেই বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে সকল সদস্যদের কঠোর হুশিয়ারী প্রদান করা হয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে গুজবহীন পরিবেশে সার বিতরণের জন্য তিনি কৃষক থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষের কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রাণীনগর উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: আব্দুস সাত্তার শাহ জানান, বাজারে যখন ক্রেতারা কোন একটি নির্দিষ্ট পণ্য প্রয়োজনের চাইতে বেশি কিনতে শুরু করেন, তখন সেই পণ্যের সরবরাহ কমে যায় এবং কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হয় বলে ক্রেতারা মনে করেন। কৃষকরা ভবিষ্যতের কথা ভেবে বাড়িতে অতিরিক্ত সার মজুত করার কারণে এবং মাঝে মাঝে ডিপোগুলো থেকে সার সরবরাহের ক্রটির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়, এতে কৃষকরা মনে করেন দেশে সারের সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে, কৃষকরা বাড়িতে কীটনাশক মজুত করেন না বলে বাজারে কোন কীটনাশকের সংকট হয় না। কৃষকদের সচেতন হয়ে এমন খারাপ অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিজে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে এবং অন্যদের পরামর্শ নিয়ে জমির প্রয়োজন অনুসারে সার ও কীটনাশক প্রয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এই ডিলার।
রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা শশাঙ্ক কুমার জানান, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ধানের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করে এবং কোন জমিতে কতটুকু সারের প্রয়োজন, সেই জরিপ করার পর স্লিপের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে সব সময় কৃষকদের সচেতন করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। তবুও কিছু কিছু কৃষক গুজবে কান দিয়ে বাড়িতে অতিরিক্ত সার মজুত করার চেষ্টা করছেন। জমিতে সার বেশি দিলেই ফসল বেশি হবে এমন ধারণা থেকে কৃষকদের বের করে আনতে এবং কৃষি বিষয়ে যে কোন পরামর্শ কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে এই কর্মকর্তা জানান।
জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো: মনজুর হোসেন জানান, জেলায় কতটুকু সারের প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী চাহিদাপত্র তৈরি করে সরকারের কাছে প্রেরণ করা হয়। চলতি আমনধান মৌসুমে জেলায় চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সারের বরাদ্দ প্রতি মাসের চাহিদা অনুসারে পাওয়া যায়। নওগাঁয় যেন সারের কোন সংকটের সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ আগেই নিয়ে এসে ডিলারদের মাঝে সার প্রদান করা হয়েছে। তবে, সারের ব্যবহার নিয়ে কৃষকদের সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই। পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, আগের যুগের কৃষকরা বাড়িতে থাকা গৃহপালিত পশুর গোবর থেকে তৈরি জৈব সার বেশি বেশি জমিতে ব্যবহার করতেন। ফলে, সেই উৎপাদিত ফসল ছিলো বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যবান্ধব। জৈব সার ব্যবহারে পরিবেশেরও কোন ক্ষতি হয় না। রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে। তাহলে দেশের কৃষি আরো সমৃদ্ধশালী হওয়ার পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে এবং দীর্ঘদিন যাবত সুস্থ্য মাটি থেকে কৃষকরা ফসলের ফলনও ভালো পাবেন। তাই কৃষকসহ সকলকে সার নিয়ে কোন গুজবে কান না দিতে এবং কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে সরকার যে সকল সার আমদানি করে কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করছেন, সেই সকল সার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে পরিবেশকে রক্ষা করে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের অনুরোধ জানিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনকে কঠোরভাবে সারের বাজার মনিটরিং করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিনিয়তই উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে সার মজুতকারী ও বেশি দামে সার বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রেখেছে। জেলার বিভিন্ন গ্রাম এলাকার কিছু অতিলোভী খুচরা সার বিক্রেতারা কৃষকদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতেও এই ধরণের অভিযান চলমান থাকবে। সার নিয়ে কোন অরাজকতা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি কঠোর হুশিয়ারী প্রদান করেন। এছাড়া, সার নিয়ে যে কোন অভিযোগ থাকলে জেলাবাসীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ জানান এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে যে, অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক শাখা একটি সতর্কবার্তায় এই নির্দেশনা প্রদান করে। সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে এবং অপ্রত্যাশিতভাবে অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ হওয়া এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার জন্যও বলা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, ইরান এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করতে পারে। এসব সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের তাদের নিজ নিজ দেশের সর্বশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ