০১:৪৩ পি.এম
বগুড়ায় ব্যবসায়ী রাকিবুল হাসান হৃদয় (২৮) হত্যার ঘটনায় আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এ ছাড়া, প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার এই রায় ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সদর থানায় ৫৯ দিনে ১ হাজার ৫৯ আসামি গ্রেফতার
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—বগুড়া সদর উপজেলার ধাওয়াপাড়া এলাকার টিয়া মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন (২৩) এবং আসলামের ছেলে মো. রাব্বি (২৪)। যাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, তারা হলেন—একই এলাকার মমতাজের ছেলে আশিক (২২), মনু মিয়ার ছেলে মো. শাকিল (২৩) এবং সাফির ছেলে মতিন (২৫)।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার কৈপাড়া এলাকায় হৃদয় ভ্যারাইটি স্টোরে আসামিরা এসে ঈদের চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে রাকিবুল হাসান হৃদয় ও তার বাবা, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদকে (৫৮) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদয়ের মৃত্যু ঘটে।
আরও পড়ুন: রাজনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল নির্বাচিত
এই ঘটনায় নিহতের মা মোছা. আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলায় মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত এই রায় প্রদান করে।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এস এম মাসুদুর রহমান স্বপন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। আমরা এতে সন্তোষ প্রকাশ করছি।’
আরও পড়ুন: এমপি নূরুল ইসলাম নূরুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে শনিবারে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
এদিকে, রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানান মামলার বাদী ও নিহত হৃদয়ের মা আয়শা সিদ্দিকা।
তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিল। ঈদের আগের দিন ওরা আমার ছেলেকে খুন করে। আর ঈদের পরের দিন আমার ছেলের এক পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। যে শিশু কোনো দিন তার বাবাকে দেখতে পারল না। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং দ্রুত এই রায় কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।’
আরও পড়ুন: মিরসরাইয়ে ১ নং করেরহাট ইউনিয়নে রেজাউল করিম হক সাবের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন