ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সমুদ্র থেকে উদ্ধার যান্ত্রিক বস্তু, তদন্তের জন্য ঢাকায় প্রেরণ


সমুদ্র থেকে উদ্ধার যান্ত্রিক বস্তু, তদন্তের জন্য ঢাকায় প্রেরণ

বরগুনার পাথরঘাটায় জেলেদের জালে উদ্ধার হওয়া রহস্যময় যান্ত্রিক বস্তুটি পরীক্ষা করার পাশাপাশি তদন্তের উদ্দেশ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, এটি সমুদ্র গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হওয়া একটি যন্ত্র হতে পারে যা পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং অন্যান্য পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ করে। তবে বর্তমানে বস্তুটির প্রকৃত পরিচয়, উৎস ও উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, সোমবার (১ জুন) পাথরঘাটার দক্ষিণ চরদোয়ানী এলাকায় সাগর মোহনার বলেশ্বর নদী থেকে এই যান্ত্রিক বস্তুটি জেলেদের জালে উঠে আসে, পরে এটি পাথরঘাটা থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় সাগর মোহনায় পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেরা নদীতে ফেলা জাল টেনে তুলতেই তাদের জালে একটি লাল ও হলুদ রঙের যান্ত্রিক বস্তু আটকে যায়। বস্তুটির মধ্যে তারের সংযোগসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দেখে তারা ভীত হয়ে পড়েন এবং মনে করেন যে এটি হয়তো মিসাইল অথবা বোমা সদৃশ কিছু।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন

সোমবার (১ জুন) সকালে স্থানীয় জনসাধারণ বিষয়টি জানার পর বস্তুটি দেখার জন্য ভিড় করে। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়, এবং তারা পুলিশকে খবর দেয় যে এটি মিসাইল অথবা বোমা সদৃশ কিছু হতে পারে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বানিজ্যিক মানের সেই যান্ত্রিক বস্তুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার পর এটি নিয়ে চাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে পুলিশ গতকাল (১ জুন) রাতে এই যান্ত্রিক বস্তুটির প্রকৃত তথ্য ও ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ঢাকায় বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই অনুযায়ী কোস্ট গার্ডের কাছে এটি হস্তান্তর করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোস্ট গার্ডের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই যান্ত্রিক বস্তুটি সমুদ্র গবেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়, যেটির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে সমুদ্রের পরিবেশ, পানির গুণাগুণ, লবণাক্ততা ও অন্যান্য জলবায়ু তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সমুদ্রপ্রাণী গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী মন্তব্য করেছেন যে, পানির গুণাগুণ, তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সাধারণত এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহৃত হয়। তিনি জানান, যেহেতু যান্ত্রিক বস্তুটি জালে উদ্ধার করা হয়েছে, সে জন্য হয়তো এটি তার সিগনালে সমস্যার কারণে আটকে পড়েছে।

আরও পড়ুন: নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত ১৮

তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের যন্ত্র সাধারণত পানির গুণাগুণ গভীরতাসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয়। অথচ যদি বাইরে থেকে সাগরের থেকে অন্য কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয় তবে সেটির বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। এটি অন্য দেশেরও হতে পারে এবং হয়তো আমাদের দেশেরও। তবে এই ধরনের যন্ত্র যা অনুযায়ী বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়, সঠিকভাবে বলা মুশকিল।

বরগুনার জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানিয়েছেন, জেলেদের জালে যে যান্ত্রিক বস্তুটি পাওয়া গেছে তার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করার জন্য এবং অধিকতর তদন্তের উদ্দেশ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়ে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাড়ির ফটকে ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারী, মোহাম্মদপুরে গ্রেফতার আরও একজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩১ পি.এম


বাড়ির ফটকে ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারী, মোহাম্মদপুরে গ্রেফতার আরও একজন

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে বাড়ির সামনে চাপাতি ধরে ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারীর কাছ থেকে অপরাধী আনোয়ার হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট দুইজনকে গ্রেফতার করা হলো।

মঙ্গলবার (২ জুন) নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় র‌্যাব-২ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।

এসময় তার হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ২টি চাপাতি ও ১টি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়াও, তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাই করা মালামালসহ তিনটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে একই দিনে, মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ থেকেই জুয়েল নামে অপর একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাত তিনটার দিকে মোহাম্মদপুরে এই ছিনতাইয়ের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভিডিওতে দেখা যায় যে রিকশা থেকে নেমে দুই নারী বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ওই সময় তাদের সঙ্গে থাকা রিকশাচালকও পাশে ছিলেন। হঠাৎ করে লুঙ্গি পরা, কালো গেঞ্জি ও মাথায় ক্যাপ পরা এক ব্যক্তি চাপাতি হাতে সেখানে উপস্থিত হন। তার সঙ্গে আরও একজন ব্যক্তি দেখা যায়।

এই দুই ব্যক্তি চাপাতির ভয় দেখিয়ে রিকশাচালককে ধাক্কা দেয় এবং দুই নারীর কাছ থেকে ব্যাগ, লাগেজ ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার সময়ে ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন ও অলংকারও তারা তল্লাশি করে নিয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাজিদের ব্যবহৃত ইহরাম কাপড় নিয়ে নতুন কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


হাজিদের ব্যবহৃত ইহরাম কাপড় নিয়ে নতুন কর্মসূচি

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর হাজিদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড়কে আবর্জনায় রূপান্তর না করার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব সম্পদে পরিণত করার জন্য সৌদি আরব একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের নাম টেকসই ইহরাম। গত এক বছরের মধ্যে হাজিদের ব্যবহৃত কাপড় রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার করে ৫ হাজারেরও বেশি নতুন পণ্য তৈরি করা হয়েছে।

সৌদি আরবের জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র সুলতান আল-হার্থি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক, বিশেষ করে জাতীয় রূপান্তর কর্মসূচি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সংগতিপূর্ণ।

ইহরামের সাদা কাপড় আসলে সাম্য, পবিত্রতা ও নম্রতার প্রতীক। হজের সময় পুরুষদের জন্য সেলাইবিহীন দুটি সাদা সুতি কাপড় পরা আবশ্যক, যা সব ধরনের সামাজিক বা অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসে। হজের নিয়ম অনুযায়ী, ১০ জিলহজ জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করার পর হাজিরা প্রথম দফায় ইহরামের অবস্থা থেকে বের হয়ে যান এবং তাওয়াফে ইফাদাহ শেষ করার পর স্বাভাবিক পোশাকে ফিরে আসেন। এই তসবির পর বিপুল পরিমাণ ইহরামের কাপড় উদ্বৃত্ত হয়ে যায়।

সুলতান আল-হার্থি মন্তব্য করেছেন যে এই প্রকল্প শুধু পরিবেশ রক্ষা করতে সাহায্য করছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনে এবং অলাভজনক খাতকে শক্তিশালী করছে। এর মাধ্যমে বিশেষ করে উৎপাদনমুখী পরিবারের নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, এই উদ্যোগের ফলে হাজিদের সেবার মান আরও উন্নত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাবের ব্যাপারে তিনি জানান, ফেলে দেওয়া ইহরামের কাপড়ের মাধ্যমে ৫ হাজারেরও বেশি পণ্য তৈরি করা হয়েছে, যা পরিবহন এবং ডাম্পিং বা বর্জ্য ফেলার খরচে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৩০টি খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং ২৫ জন প্রান্তিক নারী দর্জিকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব হয়েছে, যা চক্রাকার অর্থনীতি বা সার্কুলার ইকোনমির উদাহরণ।

পরিবেশগতভাবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২১১ টনেরও বেশি কাপড়ের বর্জ্য ল্যান্ডফিলে বা আবর্জনার স্তূপে যাওয়া থেকে আটকানো হয়েছে, যা হজের মৌসুমে কার্বন নিঃসরণ কমাতে একটি বড় ভূমিকা রাখে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রচারিত বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ হাজি পরিবেশ সুরক্ষার এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।

প্রকল্পের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে মুখপাত্র জানান, প্রথমে পবিত্র স্থানগুলোর নির্দিষ্ট বুথ থেকে ব্যবহৃত কাপড় সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে বাছাই করে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিতে জীবাণুমুক্ত করা হয়, যাতে কাপড়ে কোনও ধরনের ময়লা বা ত্রুটি না থাকে। শতভাগ স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পরেই এগুলো দিয়ে নতুন পণ্য তৈরির কাজ শুরু হয়। বর্তমানে এই প্রক্রিয়াজাত করা কাপড় দিয়ে আকর্ষণীয় ব্যাগ, বালিশ, বিভিন্ন ধরনের কভার এবং উপহার সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের সফলতার পেছনে সরকারি, বেসরকারি এবং অলাভজনক ২২টি সংস্থার যৌথ অংশীদারিত্বকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন আল-হার্থি। তিনি জানান, প্রতি বছর হাজিদের মধ্যে ইহরামের কাপড় দান করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিবেশ সচেতনতার একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নির্দেশ করে।

এটি কেবল কাপড়ের প্রসঙ্গ নয়, হজের সময় বেঁচে যাওয়া উদ্বৃত্ত খাবারকে জৈব সারে রূপান্তর করতে জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কাজ করছে। এই সফল মডেলটি আগামী দিনে সৌদি আরবের অন্যান্য বড় প্রকল্পেও ধারা অব্যাহত রাখতে পাশে আসবে, যা বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গঠন করবে।

সূত্র : আরব নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তন্ত্রমন্ত্রের ফাঁদে গৃহবধূ খুন, স্বর্ণের লোভে হত্যাকাণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪০ পি.এম


তন্ত্রমন্ত্রের ফাঁদে গৃহবধূ খুন, স্বর্ণের লোভে হত্যাকাণ্ড

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানায়, স্বর্ণের কলসি এবং পুতুল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নাসিমা আক্তার নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তান্ত্রিক ও কবিরাজ মো. সামশুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন এসব তথ্য জানান। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার ১ জুন সকাল ৭টার দিকে ভাতুড়িয়া এলাকার একটি নির্জন স্থানে অর্ধদগ্ধ অবস্থায় এক নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে আসার পর মরদেহের গলায় রশির দাগ ও পোড়ার চিহ্নসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তদন্ত কার্যক্রমে জানা যায় যে, নিহত নাসিমা আক্তারের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের কলসি ও স্বর্ণের পুতুল পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন অভিযুক্ত সামশুল হক। ঘটনার দিন, নাসিমা যখন প্রতিশ্রুত স্বর্ণ দেওয়ার জন্য চাপ দেন, তখন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান সামশুল। সেখানে তন্ত্রমন্ত্রের আচার পালন করার কথা বলে, তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

পরে, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে এবং আলামত নষ্ট করতে, নাসিমার বোরখায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে আগুন পুরোপুরি ছড়িয়ে না পড়ার কারণে মরদেহের পেছনের অংশে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, নিহতের ১২ বছর বয়সী মেয়ের দেওয়া তথ্য, অর্থ লেনদেনের সূত্র এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

অভিযুক্ত সামশুল হককে ঘটনার দিনেই গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ নাসিমার কাছ থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকাও উদ্ধার করেছে। পুলিশ আরও জানায় যে, সামশুল হক দীর্ঘদিন ধরে অলৌকিক শক্তি ও গুপ্তধনের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেফতার হওয়া সামশুল হক হরিপুর উপজেলার টেঙরিয়া মকবুলপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। নিহত নাসিমা আক্তার রানীশংকৈল উপজেলার রাউতনগর গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহর স্ত্রী। পুলিশ জানায়, প্রায় ক্লুলেস অবস্থায় শুরু হওয়া এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এই ঘটনার কারণে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ জানায় যে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪২ পি.এম


মাদারীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

সব ধরনের কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও সময়মতো পাসপোর্ট না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নানা অজুহাতে আবেদনকারীদের ঘুরতে হয় দিনের পর দিন। অথচ দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে দ্রুত মিলছে পাসপোর্ট— এমন অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে সক্রিয় একটি দালালচক্রের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করেও অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দালালদের শরণাপন্ন হলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। এমনকি আবেদনপত্রে বিশেষ ধরনের ‘সাংকেতিক চিহ্ন’ ব্যবহার করে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর পৌরসভার ১২৩ নম্বর কুকরাইল মৌজায় ২৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়টি ২০২০ সালে কার্যক্রম শুরু করে। জেলার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ও বিদেশগামী মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা কেন্দ্র। তবে শুরু থেকেই সেবা নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্ভোগের অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাসপোর্ট গ্রাহক জানান, “আমি এক দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন করেছিলাম। তারা ফরমে একটি বিশেষ চিহ্ন দিয়ে দেয়। এরপর খুব দ্রুত পাসপোর্ট পেয়ে যাই। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েই কাজ হয়ে গেছে, অন্য কোনো কাগজও লাগেনি।”

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসের সীমানা ঘেঁষে এবং আশপাশের এলাকায় সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি টিনশেড দোকান। এসব দোকানে কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব দোকানের অনেকগুলোই দালালদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, অফিসে প্রবেশের আগেই দালালরা আবেদনকারীদের ঘিরে ধরেন। কাগজপত্রে সমস্যা আছে কিংবা আবেদন প্রক্রিয়া জটিল বলে ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। নতুন আবেদনকারী বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে কম জানাশোনা ব্যক্তিরাই বেশি প্রতারণার শিকার হন।

অভিযোগ রয়েছে, দালালদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা হওয়ার পর আবেদনপত্রে বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। পরে ওই চিহ্ন দেখে সংশ্লিষ্টদের ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। ফলে সাধারণ আবেদনকারীরা দীর্ঘসূত্রতায় ভুগলেও দালালের মাধ্যমে আবেদনকারীরা তুলনামূলক দ্রুত সেবা পান।

স্থানীয়দের মতে, মাদারীপুরে বিদেশগামী ও প্রবাসী মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সারাবছর পাসপোর্ট অফিসে আবেদনকারীদের চাপ থাকে। এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করেই সক্রিয় রয়েছে দালালচক্র।

সচেতন মহল বলছে, সরকারি সেবাকে দালালমুক্ত করতে হলে পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%