প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর হাজিদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড়কে আবর্জনায় রূপান্তর না করার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব সম্পদে পরিণত করার জন্য সৌদি আরব একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের নাম টেকসই ইহরাম। গত এক বছরের মধ্যে হাজিদের ব্যবহৃত কাপড় রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার করে ৫ হাজারেরও বেশি নতুন পণ্য তৈরি করা হয়েছে।
সৌদি আরবের জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র সুলতান আল-হার্থি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক, বিশেষ করে জাতীয় রূপান্তর কর্মসূচি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সংগতিপূর্ণ।
ইহরামের সাদা কাপড় আসলে সাম্য, পবিত্রতা ও নম্রতার প্রতীক। হজের সময় পুরুষদের জন্য সেলাইবিহীন দুটি সাদা সুতি কাপড় পরা আবশ্যক, যা সব ধরনের সামাজিক বা অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসে। হজের নিয়ম অনুযায়ী, ১০ জিলহজ জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করার পর হাজিরা প্রথম দফায় ইহরামের অবস্থা থেকে বের হয়ে যান এবং তাওয়াফে ইফাদাহ শেষ করার পর স্বাভাবিক পোশাকে ফিরে আসেন। এই তসবির পর বিপুল পরিমাণ ইহরামের কাপড় উদ্বৃত্ত হয়ে যায়।
সুলতান আল-হার্থি মন্তব্য করেছেন যে এই প্রকল্প শুধু পরিবেশ রক্ষা করতে সাহায্য করছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনে এবং অলাভজনক খাতকে শক্তিশালী করছে। এর মাধ্যমে বিশেষ করে উৎপাদনমুখী পরিবারের নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, এই উদ্যোগের ফলে হাজিদের সেবার মান আরও উন্নত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাবের ব্যাপারে তিনি জানান, ফেলে দেওয়া ইহরামের কাপড়ের মাধ্যমে ৫ হাজারেরও বেশি পণ্য তৈরি করা হয়েছে, যা পরিবহন এবং ডাম্পিং বা বর্জ্য ফেলার খরচে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৩০টি খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং ২৫ জন প্রান্তিক নারী দর্জিকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব হয়েছে, যা চক্রাকার অর্থনীতি বা সার্কুলার ইকোনমির উদাহরণ।
পরিবেশগতভাবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২১১ টনেরও বেশি কাপড়ের বর্জ্য ল্যান্ডফিলে বা আবর্জনার স্তূপে যাওয়া থেকে আটকানো হয়েছে, যা হজের মৌসুমে কার্বন নিঃসরণ কমাতে একটি বড় ভূমিকা রাখে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রচারিত বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ হাজি পরিবেশ সুরক্ষার এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।
প্রকল্পের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে মুখপাত্র জানান, প্রথমে পবিত্র স্থানগুলোর নির্দিষ্ট বুথ থেকে ব্যবহৃত কাপড় সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে বাছাই করে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিতে জীবাণুমুক্ত করা হয়, যাতে কাপড়ে কোনও ধরনের ময়লা বা ত্রুটি না থাকে। শতভাগ স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পরেই এগুলো দিয়ে নতুন পণ্য তৈরির কাজ শুরু হয়। বর্তমানে এই প্রক্রিয়াজাত করা কাপড় দিয়ে আকর্ষণীয় ব্যাগ, বালিশ, বিভিন্ন ধরনের কভার এবং উপহার সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের সফলতার পেছনে সরকারি, বেসরকারি এবং অলাভজনক ২২টি সংস্থার যৌথ অংশীদারিত্বকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন আল-হার্থি। তিনি জানান, প্রতি বছর হাজিদের মধ্যে ইহরামের কাপড় দান করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিবেশ সচেতনতার একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নির্দেশ করে।
এটি কেবল কাপড়ের প্রসঙ্গ নয়, হজের সময় বেঁচে যাওয়া উদ্বৃত্ত খাবারকে জৈব সারে রূপান্তর করতে জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কাজ করছে। এই সফল মডেলটি আগামী দিনে সৌদি আরবের অন্যান্য বড় প্রকল্পেও ধারা অব্যাহত রাখতে পাশে আসবে, যা বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গঠন করবে।
সূত্র : আরব নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন