ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গড়িয়ারপার-কাউখালী সড়কে গলার কাঁটা পরিত্যক্ত ভবন, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি


গড়িয়ারপার-কাউখালী সড়কে গলার কাঁটা পরিত্যক্ত ভবন, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

 

পিরোজপুরের কাউখালী-স্বরূপকাঠী-গড়িয়ার পার বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের কচুয়াকাঠী এলাকায় ৪০ বছর পুরনো একটি জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবন বর্তমানে সড়কের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের মাঝখানে অবস্থিত ভবনটির মালিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এর সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। সড়ক ও জনপদ বিভাগের পক্ষ থেকে কচুয়াকাটি খালের উপর একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের উচ্ছেদের জন্য নোটিশ প্রদান করা হলেও, ক্ষতিপূরণের আশায় তারা স্থাপনাগুলো অপসারণ করছে না। ফলে রাস্তা সম্প্রসারণ ও সেতু নির্মাণের কাজ থমকে রয়েছে।

সরোজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, সিএন্ডবি নামে পরিচিত সড়কের পিচ ঢালাইয়ের পাশের জায়গা দখল করে একাধিক ব্যক্তি বাড়ি ও দোকান নির্মাণ করছেন। সড়ক ও জনপদ বিভাগের উদাসীনতার কারণে এই দখলের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা সড়ক সম্প্রসারণ ও যানবাহনের নিরাপত্তাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

এছাড়া, সড়কের উপরে অবস্থিত পুরানো ও পরিত্যক্ত ভবনটি পথচারী ও যানবাহনের চালকদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং কচুয়াকাঠী বেইলি ব্রিজের স্থলে নতুন সেতু নির্মাণের কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরু ও দৃষ্টি বাধাগ্রস্ত অংশটিতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ মন্তব্য করেন, "সড়ক ও জনপদ বিভাগের সড়কের পাশে অবৈধ ঘরবাড়ি দোকানপাট দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা চিহ্নিত করণ পিলার না থাকায় অনেকেই দখল করে ঘর বাড়ি তৈরি করেছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য সড়কের জায়গা চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে সড়ক নির্মাণের সময় ওই এলাকার বিভিন্ন জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির মালিক মাওলানা আব্দুল হক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রেকর্ড যথাযথ না থাকায় সে সময় ক্ষতিপূরণ দাবি বা গ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে সড়ক বিভাগ ভবনটি অপসারণের উদ্যোগ নিলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

আঞ্চলিক এই মহাসড়কটির কচুয়াকাঠী বেইলি ব্রিজের স্থানে আধুনিক পাকা সেতু নির্মাণের টেন্ডার হওয়ায় সম্প্রতি পিরোজপুর দুই আসনের সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর নতুন সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

উক্ত এলাকার বাসিন্দা ও বিএনপির নেতা গিয়াসউদ্দিন অলি জানান, "ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় নতুন ব্রিজ নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।" তিনি বলেন, "সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সমাধানের জন্য উক্ত পরিত্যক্ত ভবনের মালিকপক্ষের সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, পিরোজপুর সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।" তবে ভবন মালিক তাতে সম্মত না হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকদের অভিযোগ, বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে অ্যাপ্রোচ সড়কের একটি অংশজুড়ে ভবনটি অবস্থান করায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগে থেকে দেখা যায় না। ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ব্যস্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। তাই দ্রুত ভবনটির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ভবনের মালিক মাওলানা আব্দুল হকের ছেলে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ মামুন তালুকদার জানান, "এই সড়কটির বহু আগেই আমাদের জায়গার উপরে বিল্ডিং নির্মিত হয়। সরকার নীতিমালা অনুযায়ী ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিলে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।" তিনি অভিযোগ করেন, "সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করছে।"

পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাসেল জানান, "সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এখানে ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন। পরিত্যক্ত ভবনের মালিকের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। ব্রিজে নির্মাণে কোন বাধা নেই, তবে অ্যাপ্রস করতে হলে ভবনটি অপসারণ করা প্রয়োজন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, "ওই পরিত্যক্ত ভবন মালিক জনদুর্ভোগের বিষয়টি বুঝতে পারবেন এবং ভবনটি অপসারণ করতে সহযোগিতা করবেন।" কাউখালী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির বলেন, "মানুষের জীবন ও সড়ক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনটি অপসারণের জন্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বের বৃহৎ স্টেডিয়াম হচ্ছে ভারতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


বিশ্বের বৃহৎ স্টেডিয়াম হচ্ছে ভারতে

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ভারতে অবস্থিত। দেশটির আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম রেকর্ড সংখ্যাক দর্শক খেলা দেখার সুযোগ পান। তবে এরই মধ্যে হায়দরাবাদে আরও একটি বৃহত্তম স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে।

রাজ্যটির ফিউচার সিটিতে প্রস্তাবিত এই স্টেডিয়ামে ১ লাখ ৩২ হাজারেরও বেশি দর্শকের বসার ব্যবস্থা থাকবে। যা নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামকে ছাড়িয়ে যাবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে নতুন এই স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে এমন একটি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে যা ক্রিকেট প্রশাসক এবং রাজ্য সরকারের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেলেঙ্গানা সরকার এই প্রকল্পের জন্য জমি বরাদ্দ করবে এবং বিসিসিআই নির্মাণকাজের অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

স্টেডিয়ামটি ‘ফিউচার সিটি’-র অন্তর্গত একটি বৃহত্তর ‘স্পোর্টস সিটি’ প্রকল্পের অংশ হবে। উল্লেখ্য, এই ‘ফিউচার সিটি' এলাকাটি তেলেঙ্গানার ‘নেট-জিরো সিটি’ (কার্বন নিঃসরণমুক্ত শহর) ভিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই অবস্থানের কারণে স্টেডিয়ামটি কেবল একটি প্রথাগত ক্রিকেট মাঠের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি একটি বৃহৎ পরিসরের নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামটির নকশা ইংল্যান্ডের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত স্টেডিয়ামগুলোর আদলে তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আদর্শগুলোর ওপর ভিত্তি করে এমন একটি স্থাপনা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর সাথে আধুনিক অবকাঠামোগত মানের সমন্বয় ঘটবে। যা চূড়ান্ত স্টেডিয়ামটির জন্য একটি উচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করবে।

এই পর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান বা নকশা পরামর্শক চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রকল্পের বিশাল পরিসর এবং পরিকল্পিত শহরের কাঠামোর সাথে এর সমন্বয় করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামের বিস্তারিত নকশার কাজ এখনও চলছে। চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পর, এই ভেন্যুটি সর্বোচ্চ মানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে; যেখানে আধুনিক ও বিশেষায়িত পরিবেশে ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি দর্শকের ধারণক্ষমতা থাকবে। রেকর্ড-গড়া দর্শক ধারণক্ষমতা এবং স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার সমন্বয় করে মাঠটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও বিখ্যাত ক্রিকেট ভেন্যুর কাতারে নিয়ে যেতে চায় ভারত।

‘ফিউচার সিটি’-র স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামটি ‘আউটার রিং রোড’ এবং ‘রিজিওনাল রিং রোড’ উভয়ের সাথেই সরাসরি সংযুক্ত থাকবে। যার ফলে হায়দারাবাদ ও এর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শকরা সহজেই মাঠে পৌঁছাতে পারবেন।

স্টেডিয়াম এলাকার পরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট উপলক্ষে হায়দ্রাবাদে আসা বিদেশি দল ও দর্শকদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সুবিধাজনক বিষয়। এছাড়া পরিকল্পিত মেট্রো রেল সম্প্রসারণের আওতায় এই এলাকাটিও যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা ম্যাচের দিন বিপুল সংখ্যক দর্শকের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও অধিক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৬ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগে সাজু মিয়া আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎ ‎স্টাফ রিপোর্টার:: মোহাম্মদ নূর

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


১৬ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগে সাজু মিয়া আটক

‎

পুলিশের একটি অভিযানে সাজু মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যিনি ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে এক মিষ্টি কারিগরের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। পুলিশ জানায়, সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। আটক করার সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের একাধিক সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

‎

ভুক্তভোগী মামুন আহমদ সুনামগঞ্জের দক্ষিণ বাদাঘাটের মুকশেদপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি মিষ্টির দোকানে কারিগর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে সাজু মিয়া তার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

‎

মামুনের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে সাজু মিয়া তাকে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে ১৬ লাখ টাকা নেন। টাকা সংগ্রহ করতে মামুন বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারদেনা করেন। পরে যখন তিনি টাকা ফেরত চান, সাজু নানা অজুহাত তৈরি করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে মামুন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেনের কাছে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে যান। পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

‎

পুলিশ জানায়, সাজু মিয়া বিভিন্ন অপারেটরের সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করতেন। পরে ব্যবসা কিংবা বিভিন্ন সুযোগের কথা বলে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আটক করার সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের একাধিক সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

‎

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ওসি রতন শেখের তত্ত্বাবধানে সুনামগঞ্জ শহর ফাঁড়ির ইনচার্জ অভিজিৎ ভৌমিকের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তের পর ৩০ আগস্ট রবিবার ভোররাতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের তাজউদ্দিনের বসতবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাজু মিয়াকে আটক করা হয়।

পুলিশের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাজু মিয়ার ঠিকানা সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর এলাকার মুসলিমপুর।

‎

‎

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাজু মিয়া মামুন আহমদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে পুলিশকে তিনি জানান, "মামুনের কাছ থেকে আমি ধাপে ধাপে ১৬ লাখ টাকা নিয়েছি।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেন, “একজন মিষ্টি কারিগর ১৬ লাখ টাকা প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন স্যারের কাছে আসেন। স্যার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে আমাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তাঁর নির্দেশনায় আমার তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে শহর ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ অভিজিৎ ভৌমিকের নেতৃত্বে বৃষ্টিভেজা ভোররাতে অভিযান চালিয়ে সাজু মিয়াকে আটক করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “আটকের সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের একাধিক সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার ব্যবহৃত সিমকার্ড ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলি, নারীসহ গুলিবিদ্ধ ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


ঢাকায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলি, নারীসহ গুলিবিদ্ধ ৩

রাজধানীর গোন্ডারিয়ায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় গোন্ডারিয়ার একটি অফিসের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- চা দোকানি আলমগীর (৩৩), পথচারী সিয়াম (১৮) ও পথচারী আশা আক্তার (২০)। এর মধ্যে সিয়ামের বুকের বাম পাশে, আলমগীরের মাথায় এবং আশার ডান পায়ে গুলি লেগেছে।

এদিকে আহত সিয়াম জানিয়েছেন, তিনি যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকেন। সেখানে একটি হোটেলে কাজ করেন। সন্ধ্যায় গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেকে নিজের ফুফার চায়ের দোকানে এসেছিলেন। হঠাৎ রাস্তায় মারামারি শুরু হলে তিনি দোকানের ভেতর থেকে শাটার বন্ধ করে দিচ্ছিলেন। তখনই তার বুকের বাম পাশে কাঁধে দিকে একটি গুলি এসে লাগে।

অন্যদিকে আহত আলমগীরের স্ত্রী জান্নাতি আক্তার জানান, তার স্বামীও সেখানে চা দোকান করেন। সন্ধ্যায় দোকানের সামনে মারামারি ও গোলাগুলি শুরু হয়। তখন দোকানের ভেতর থাকা অবস্থায়ই তিনি কপালের ঠিক মাঝ বরাবর গুলিবিদ্ধ হন।

এ ছাড়া আহত আশা আক্তার জানিয়েছেন, তিনি ওই এলাকাতেই থাকেন। সন্ধ্যায় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মারামারি মাঝে পড়ে যান তিনি। এতে তার ডান পায়ের রানে একটি গুলি বিদ্ধ হয়। তবে কারা গোলাগুলি করছিল, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে যুব নেতৃত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ পি.এম


সুনামগঞ্জে যুব নেতৃত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

 

‘ইঁরষফরহম ণড়ঁঃয খবধফবৎংযরঢ় ড়হ চষঁৎধষরংস ধহফ ঝড়পরধষ ঐধৎসড়হু’ প্রকল্পের আওতায় তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের সহযোগিতায় ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার-সুনামগঞ্জের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণের সময় সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করা হয়। আলোচনার মধ্যে ছিল সক্রিয় নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, বাংলাদেশের সফলতা ও দারিদ্র্যের চিত্র, উন্নয়নের ধারা, সমবেত প্রত্যাশা, সক্রিয় নাগরিক হওয়ার নীতিমালা, অ্যাডভোকেসি এবং সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের মতো বিষয়গুলো প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে উপস্থাপন করা হয়।

ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে তিনদিনের কর্মশালায় দায়িত্ব পালন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের মুহিন আফসারী, নাজমুল হুদা মিনা, কুদরত পাশা, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গারের সিলেট রিজিওনাল সাবেক কো-অর্ডিনেটর বর্ণা এবং সুনামগঞ্জ জেলা কো-অর্ডিনেটর আলী ইমরান। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক, সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী।

তিনি বলেন, “দি হাঙ্গার প্রজেক্ট একটি স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠন। আমরা এখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করি। আজ যারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলে, তাতে আমরা আরও সমৃদ্ধ হলাম। আমি মনে করি, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। তোমাদের নেতৃত্বেই আমরা ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।” প্রশিক্ষণের শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুটি ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়। প্রথম ইউনিটে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে উম্মে ফাব্বিহা জামান ইলন, যুগ্ম কো-অর্ডিনেটর মোস্তাকিম খান রোহান ও লামিসা, কর্মশালা সম্পাদক ইসরাত, দপ্তর সম্পাদক তাকান্না ইসলাম মাহা, অর্থ সম্পাদক রামিসা এবং প্রচার, প্রকাশনা ও পাঠাগার সম্পাদক হিসেবে অনিক দাস দায়িত্ব পান।

অন্য ইউনিটে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে আবিদা আক্তার আখিঁ, যুগ্ম কো-অর্ডিনেটর রুবাইয়া শাহরিন নাভা ও মোহাম্মদ তাহসিন আহমেদ, কর্মশালা সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম, শিক্ষার্থী উন্নয়ন সম্পাদক সাফিয়া আক্তার কুসুম, প্রতিযোগিতা সম্পাদক সিয়াম, দপ্তর সম্পাদক রিজবী আক্তার, অর্থ সম্পাদক তানজিদা আক্তার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শান্ত দাস, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক অর্পিতা তালুকদার, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক তন্দ্রা রায় জয়া এবং বিশেষ দিবস পালন সম্পাদক মাহমুদা আক্তার সাদিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া আয়েশা ও হাফসাসহ অন্যান্যদের কার্যকরী সদস্য করা হয়েছে। তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ, বহুত্ববাদ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%