প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের কাউখালী-স্বরূপকাঠী-গড়িয়ার পার বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের কচুয়াকাঠী এলাকায় ৪০ বছর পুরনো একটি জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবন বর্তমানে সড়কের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের মাঝখানে অবস্থিত ভবনটির মালিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এর সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। সড়ক ও জনপদ বিভাগের পক্ষ থেকে কচুয়াকাটি খালের উপর একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের উচ্ছেদের জন্য নোটিশ প্রদান করা হলেও, ক্ষতিপূরণের আশায় তারা স্থাপনাগুলো অপসারণ করছে না। ফলে রাস্তা সম্প্রসারণ ও সেতু নির্মাণের কাজ থমকে রয়েছে।
সরোজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, সিএন্ডবি নামে পরিচিত সড়কের পিচ ঢালাইয়ের পাশের জায়গা দখল করে একাধিক ব্যক্তি বাড়ি ও দোকান নির্মাণ করছেন। সড়ক ও জনপদ বিভাগের উদাসীনতার কারণে এই দখলের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা সড়ক সম্প্রসারণ ও যানবাহনের নিরাপত্তাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এছাড়া, সড়কের উপরে অবস্থিত পুরানো ও পরিত্যক্ত ভবনটি পথচারী ও যানবাহনের চালকদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং কচুয়াকাঠী বেইলি ব্রিজের স্থলে নতুন সেতু নির্মাণের কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরু ও দৃষ্টি বাধাগ্রস্ত অংশটিতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ মন্তব্য করেন, "সড়ক ও জনপদ বিভাগের সড়কের পাশে অবৈধ ঘরবাড়ি দোকানপাট দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা চিহ্নিত করণ পিলার না থাকায় অনেকেই দখল করে ঘর বাড়ি তৈরি করেছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য সড়কের জায়গা চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে সড়ক নির্মাণের সময় ওই এলাকার বিভিন্ন জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির মালিক মাওলানা আব্দুল হক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রেকর্ড যথাযথ না থাকায় সে সময় ক্ষতিপূরণ দাবি বা গ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে সড়ক বিভাগ ভবনটি অপসারণের উদ্যোগ নিলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
আঞ্চলিক এই মহাসড়কটির কচুয়াকাঠী বেইলি ব্রিজের স্থানে আধুনিক পাকা সেতু নির্মাণের টেন্ডার হওয়ায় সম্প্রতি পিরোজপুর দুই আসনের সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর নতুন সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
উক্ত এলাকার বাসিন্দা ও বিএনপির নেতা গিয়াসউদ্দিন অলি জানান, "ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় নতুন ব্রিজ নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।" তিনি বলেন, "সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সমাধানের জন্য উক্ত পরিত্যক্ত ভবনের মালিকপক্ষের সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, পিরোজপুর সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।" তবে ভবন মালিক তাতে সম্মত না হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকদের অভিযোগ, বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে অ্যাপ্রোচ সড়কের একটি অংশজুড়ে ভবনটি অবস্থান করায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগে থেকে দেখা যায় না। ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ব্যস্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। তাই দ্রুত ভবনটির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ভবনের মালিক মাওলানা আব্দুল হকের ছেলে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ মামুন তালুকদার জানান, "এই সড়কটির বহু আগেই আমাদের জায়গার উপরে বিল্ডিং নির্মিত হয়। সরকার নীতিমালা অনুযায়ী ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিলে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।" তিনি অভিযোগ করেন, "সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করছে।"
পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাসেল জানান, "সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এখানে ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন। পরিত্যক্ত ভবনের মালিকের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। ব্রিজে নির্মাণে কোন বাধা নেই, তবে অ্যাপ্রস করতে হলে ভবনটি অপসারণ করা প্রয়োজন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, "ওই পরিত্যক্ত ভবন মালিক জনদুর্ভোগের বিষয়টি বুঝতে পারবেন এবং ভবনটি অপসারণ করতে সহযোগিতা করবেন।" কাউখালী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির বলেন, "মানুষের জীবন ও সড়ক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনটি অপসারণের জন্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন