প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পুলিশের একটি অভিযানে সাজু মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যিনি ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে এক মিষ্টি কারিগরের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। পুলিশ জানায়, সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। আটক করার সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের একাধিক সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মামুন আহমদ সুনামগঞ্জের দক্ষিণ বাদাঘাটের মুকশেদপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি মিষ্টির দোকানে কারিগর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে সাজু মিয়া তার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
মামুনের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে সাজু মিয়া তাকে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে ১৬ লাখ টাকা নেন। টাকা সংগ্রহ করতে মামুন বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারদেনা করেন। পরে যখন তিনি টাকা ফেরত চান, সাজু নানা অজুহাত তৈরি করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে মামুন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেনের কাছে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে যান। পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, সাজু মিয়া বিভিন্ন অপারেটরের সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করতেন। পরে ব্যবসা কিংবা বিভিন্ন সুযোগের কথা বলে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আটক করার সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের একাধিক সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ওসি রতন শেখের তত্ত্বাবধানে সুনামগঞ্জ শহর ফাঁড়ির ইনচার্জ অভিজিৎ ভৌমিকের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তের পর ৩০ আগস্ট রবিবার ভোররাতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের তাজউদ্দিনের বসতবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাজু মিয়াকে আটক করা হয়।
পুলিশের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাজু মিয়ার ঠিকানা সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর এলাকার মুসলিমপুর।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাজু মিয়া মামুন আহমদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে পুলিশকে তিনি জানান, "মামুনের কাছ থেকে আমি ধাপে ধাপে ১৬ লাখ টাকা নিয়েছি।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেন, “একজন মিষ্টি কারিগর ১৬ লাখ টাকা প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন স্যারের কাছে আসেন। স্যার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে আমাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তাঁর নির্দেশনায় আমার তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে শহর ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ অভিজিৎ ভৌমিকের নেতৃত্বে বৃষ্টিভেজা ভোররাতে অভিযান চালিয়ে সাজু মিয়াকে আটক করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “আটকের সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের একাধিক সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার ব্যবহৃত সিমকার্ড ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন