শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৬ পি.এম
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে একটি ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থিত পুকুরে পড়ে যাওয়ার ফলে চালক সুজন মিয়া (৩০) নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় গাড়িতে থাকা এক নারী যাত্রীও আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের তারাটিয়া বাজারসংলগ্ন হালির মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সুজন মিয়া রাজিবপুর উপজেলার বালিয়ামারি ক্যাম্পপাড়া গ্রামের শহীদুল ইসলামের সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের সময় সুজন মিয়া তার ভ্যানে একজন যাত্রীকে নিয়ে তারাটিয়া বাজারের দিকে যাত্রা শুরু করেন। বাজারের নিকটবর্তী পৌঁছানোর পর হালির মোড় এলাকায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানটি রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যান। এ সময় গাড়িতে থাকা যাত্রীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে চালক সুজন মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, কমলনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে একটি মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাজিরহাট বাজারে এই মিছিল ও পথসভা আয়োজন করা হয়। মিছিলটি উপজেলা বাসদ কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জিরো পয়েন্টে এসে পথসভায় মিলিত হয়।
পথসভায় বক্তারা মন্তব্য করেন, "এমনিতেই সকল ধরণের পণ্যের বাজার মূল্য উর্ধ্বমুখি, সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।" তারা আরও বলেন, "তার উপর জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, ‘মড়ার উপর খাড়ার ঘাঁ’!" বক্তাদের মতে, এই মূল্য বৃদ্ধি শুধুমাত্র পেট্রোল পাম্পে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাব কৃষকের ফসলি জমি, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎখাত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের উপর পড়বে। এতে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বে। বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করা উচিত এবং জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর পরিবর্তে বাড়ানো উচিত।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বাসদের জেলা কমিটির আহ্বায়ক কমরেড এম এ মজিদ, সদস্য সচিব এডভোকেট মিলন মন্ডল, উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ইব্রাহীম খলিল, সদস্য সচিব ফিরোজ আলম এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নেতা পারভেজ মোশারেফ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার আটঘরিয়ায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন, যা ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম-২০২৬’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এই কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির মাহফুজ, আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি আজহার আলী, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, পৌর সচিব মুনসুর আলম, প্রকৌশলী জীবন কুমার এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আনারুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ সময় ইউএনও তাহমিদুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি, ময়লা-আবর্জনা এবং মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায় আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
দলটির নেতারা মন্তব্য করেন, নির্বাচিত সরকারের সময়েও মব সংস্কৃতি বন্ধ না হওয়া দুঃখজনক। এটি রাষ্ট্রের আইন ও প্রশাসনের সক্ষমতার প্রতি একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, এটি কেবল একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনা নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসনের সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি আঘাত। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দুই শতাধিক লোক রাতের আঁধারে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ তা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়—এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।
এবি পার্টির নেতারা আরও বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নগদ অর্থ লুট করেছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থাপনাটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তারা বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের জমি নিয়ে বৈধ দাবি থাকে, তাহলে তা নিষ্পত্তির জন্য আইন, আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কোনো লিজ বা মালিকানার দাবি কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর, লুটপাট বা দখলের বৈধতা দেয় না। জমির মালিকানা বা লিজ নিয়ে বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে হবে। রাতের আঁধারে দলবল নিয়ে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় কারও রাজনৈতিক পরিচয়, পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা আবশ্যক। গণমাধ্যমে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি বা স্থানীয় নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করতে হবে।
এবি পার্টির নেতারা বলেন, সরকার যদি সত্যিই বলে থাকে দেশে মব কালচারের দিন শেষ, তাহলে মিরপুরের এই ঘটনায় তার বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চান তারা। মবের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান শুধু বক্তব্যে নয়, মাঠেও প্রমাণ করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর আগে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘মব কালচার শেষ’ এবং দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানায় দলটি। হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি লুট হওয়া সরকারি টিকা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নথিপত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবি পার্টি। জমির মালিকানা বা লিজ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চিকিৎসা, মাতৃসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত পুনর্বহালেরও দাবি জানানো হয়েছে।
অধ্যাপক ওহাব মিনার এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাষ্ট্রের শক্তি দুর্বল ও অসহায় মানুষের ওপর প্রয়োগ করে দেখানোর বিষয় নয়। যারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দলবল নিয়ে হাসপাতাল ভাঙে, সরকারি টিকা লুট করে এবং জবরদখলের চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের শক্তি প্রমাণ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে জমি দখল, মব সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে আইনকে প্রতিস্থাপন করার সংস্কৃতি কোনোভাবেই চলতে পারে না। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কর্মী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা অবিলম্বে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘পঞ্চায়েত’খ্যাত অভিনেতা আসিফ খান সম্প্রতি বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন। এই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ‘বিগ বস ২০’-এর ঘরে তার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। পুরুষত্ব এবং গোঁফ নিয়ে তার বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা এবং সমালোচনা।
সম্প্রতি ‘বিগ বস’-এর ঘরে অধিনায়কত্ব নির্বাচন নিয়ে প্রতিযোগীদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এই সময় প্রতিযোগী গুল্লু অভিযোগ করেন, আরেক প্রতিযোগী ইয়াং ডিএসএ তার দলের সকল সদস্যের গোঁফ নিজের পছন্দমতো সাজিয়ে দিচ্ছেন।
আসিফ খান তার জবাবে রাজস্থানি সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজস্থান থেকে এসেছি। এই গোঁফ আমাদের পরিচয়, আর যাদের গোঁফ নেই, তাদের আমরা পুরুষ মানুষ বলে গণ্যই করি না! তাই দাড়ি-গোঁফ এমনই রাখা হয়।’
আসিফের এই মন্তব্যের পর অনুষ্ঠানের অন্যান্য প্রতিযোগীরা প্রতিবাদ জানান। তাদের বক্তব্য ছিল, গোঁফ থাকা বা না থাকার সঙ্গে পুরুষত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সালমান খানের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন, কারণ সালমান খানকেও সবসময় গোঁফে দেখা যায় না।
অন্য এক প্রতিযোগী আসিফের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, একজন প্রকৃত পুরুষ কখনো উগ্র বা হিংসুটে হন না; বরং তিনি পুরো পরিবারকে একসঙ্গে আগলে রাখেন।
এদিকে, আসিফ খানের মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। নেটিজেনদের একটি অংশ মনে করছেন, তার বক্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সালমান খানকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। যদিও আসিফ খানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এ ঘটনার পর ‘বিগ বস ২০’-এর ঘরে বিতর্ক আরও গড়ায় কি না, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ