ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একই সঙ্গে চলার সুযোগ নেই


আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একই সঙ্গে চলার সুযোগ নেই

হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ রায়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি একাধিক ফৌজদারি মামলায় আলাদাভাবে দণ্ডিত হন, তবে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া সেই সাজা একই সঙ্গে চলার বা গণনার জন্য কোনো আইনি সুযোগ নেই।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে যে, পৃথক মামলায় দণ্ড দেওয়ার সময় যদি বিচারিক আদালতের রায়ে ‘সাজা একই সঙ্গে চলবে’ বলে উল্লেখ না থাকে, তাহলে একটি মামলার নির্ধারিত সাজা ভোগ শেষ হওয়ার পরই কেবল ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী মামলার সাজা কার্যকর হবে।

এক আসামির সাজা ভোগ ও কারাগারে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেছেন। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট প্রদত্ত উক্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে: নেতানিয়াহুর আহ্বান

আরো পড়ুন

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, "অর্থ হরিলুটের কারণে আজ বিদ্যুতের ঘাটতি।" মামলার নথি ও প্রকাশিত রায়ের বিবরণী থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট), ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়েরকৃত চেক ডিজঅনারের পৃথক ছয়টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত হন। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নির্ধারিত সাজার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে দাবি করে তাকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগ এনে ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন নাসির উদ্দিন।

ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করে এবং রিটকারীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করে। রুল শুনানিতে রিটকারীর আইনজীবী দাবি করেন, বিচারাধীন অবস্থায় রিটকারী কারাগারে ছিলেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী হাজতবাসের মেয়াদ মূল সাজা থেকে সমন্বয় করলে তার কারাভোগ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

আরো পড়ুন

আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে অপসারিত হলো ইমাম হোসেনের পিঠের দুই কেজির টিউমার

বিবাদীদের আইনজীবী আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি অন্য মামলায় পুনরায় দণ্ডিত হলে আদালত যদি সুস্পষ্টভাবে সাজা ‘একসঙ্গে চলবে’ বলে নির্দেশ না দেন, তবে একটির সাজা শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী সাজা শুরু হবে। আলোচ্য ক্ষেত্রে বিচারিক আদালত সাজা একসঙ্গে চলার কোনো নির্দেশ দেননি।

সুপ্রিম কোর্টের সার্কুলার ও আইন অনুযায়ী, আসামি নির্দিষ্ট যে মামলায় বিচারের সময়ে হেফাজতে ছিলেন, কেবল সেই নির্দিষ্ট মামলার মোট সাজা থেকেই ওই মেয়াদ বাদ যাবে। এক মামলার হাজতবাস অন্য মামলার সাজা কাটানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে না। দুই পক্ষের শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর রুলটি চূড়ান্তভাবে খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী যেহেতু বিচারিক আদালত পৃথক মামলাগুলোতে সাজা একই সঙ্গে চলার নির্দেশ দেননি, তাই প্রতিটি মামলার সাজা একের পর এক (ধারাবাহিকভাবে) কার্যকর হবে।

আরো পড়ুন

আরও পড়ুন: অর্থনীতির বিপদ টের পেতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীনরা

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী আসামি যে নির্দিষ্ট মামলায় বিচার চলাকালে কারাভোগ করেছেন, কেবল সেই মামলার মূল সাজা থেকেই ওই সময় বাদ যাবে। সংশ্লিষ্ট আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া রিট এখতিয়ারের অধীন কোনো ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করার সুযোগ নেই এবং হাইকোর্ট রিট এখতিয়ার প্রয়োগ করে বিচারিক আদালতের বিচারিক রায়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামনে ভাইয়ের বিয়ে, রাতে সীতাকুণ্ডে যুবলীগ কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


সামনে ভাইয়ের বিয়ে, রাতে সীতাকুণ্ডে যুবলীগ কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক যুবলীগ কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির লোকজন তাকে নিজের ঘরে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নাম মো. আব্দুল্লাহ আল পাশা (২৩)। তিনি সীতাকুণ্ড পৌরসভার নুনাছাড়া এলাকার মো. নুরুল আফছারের ছেলে এবং নিষিদ্ধ যুবলীগের কর্মী ছিলেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাশার মেজো ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা শেষে রাত ৮টায় বাড়ির লোকজন ঘরে ফিরে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।’

নিহতের চাচি ঝর্ণা আক্তার বলেন, ‘পাশা সাত মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছিল।’ পাশা মাদকাসক্ত ছিল বলেও জানান তিনি।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, ‘নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের হয়ে আসবে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাতাল অবস্থায় উড্ডয়নের আগে ভারতীয় পাইলট বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


মাতাল অবস্থায় উড্ডয়নের আগে ভারতীয় পাইলট বরখাস্ত

জুরিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, সুইজারল্যান্ডের বৃহত্তম বিমানবন্দরে, উড্ডয়নের ঠিক পূর্বমুহূর্তে মদ্যপ অবস্থায় থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার এক কো-পাইলটকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর দিল্লিগামী ফ্লাইটের উড্ডয়নের ঠিক আগে কো-পাইলটের মদ্যপ অবস্থায় থাকার সন্দেহে তাকে বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক অ্যালকোহল টেস্টে তিনি ফেল করেন। এরপর তাকে বিমান থেকে নামিয়ে সাধারণ যাত্রী হিসেবে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়।

চূড়ান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তিনি বরখাস্ত থাকবেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার কারণে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট এআই ১৫১ নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন করতে পারেনি। পরবর্তীতে পরের দিন ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়।

এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তা, নিয়মকানুন বা প্রতিষ্ঠানের নীতি লঙ্ঘনের বিষয়ে তাদের অবস্থান আপসহীন। নিয়মভঙ্গের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তা কঠোরভাবে দমন করা হয় এবং বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর আগে, গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে বড় ধরনের বিপত্তি ঘটেছিল। ওড়িশার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী ও ক্রু আহত হন।

পরে জানা যায়, ওই ফ্লাইটের মূল পাইলট সুদীপ বশিষ্ঠ ডোপ টেস্টে (মারিজুয়ানা) পজিটিভ হয়েছিলেন। যদিও পাইলট দাবি করেছিলেন তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন, তবে এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।

এসব ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে তাদের সব পাইলটের জন্য নতুন করে বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্টের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মচারীদের মধ্যে নিয়ম মানার সংস্কৃতি জোরদার করতে তারা অতিরিক্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাইকোহ্যাক্টিভ বা মনস্তাত্ত্বিক উপাদানের জন্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি বৃদ্ধি এবং কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষা নিশ্চিত করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমতলীর টাউন হল ঐতিহ্যবাহী টাউন হল দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কালের বিবর্তনে ঐতিহ্য হারিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


আমতলীর টাউন হল ঐতিহ্যবাহী টাউন হল দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কালের বিবর্তনে ঐতিহ্য হারিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে
 
 
আমতলী পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী টাউন হল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনটির অবস্থা এখন বেহাল। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে টাউন হলের টিনের চালা উড়ে যাওয়ার পর আর উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।
 
অথচ আমতলী উপজেলা শহরে সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, সামাজিক ও নাগরিক আয়োজনের জন্য আধুনিক কোনো অডিটরিয়াম নেই। ফলে ঐতিহ্যবাহী টাউন হলটি দ্রুত সংস্কার করে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
 
স্থানীয়দের কাছে টাউন হলটি শুধু একটি পুরোনো ভবন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমতলীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাস। একসময় এ ভবন ও এর চত্বর ছিল সভা-সমাবেশ, নাটকের মহড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। সময়ের পরিক্রমায় সেই ব্যস্ততা হারিয়ে এখন ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে অনেকটা নীরব সাক্ষী হয়ে।
 
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালের মে মাসে তৎকালীন সরকার দেশের প্রতিটি থানায় একটি করে অডিটরিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে আমতলীকে অন্তর্ভুক্ত করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহমেদ তালুকদার। জায়গা নির্ধারণ ও অর্থ বরাদ্দের পর ওই বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। অডিটরিয়ামটির নাম দেওয়া হয় ‘আমতলী টাউন হল’।
 
নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্বাধীনতার পর আমতলী থানার প্রথম বেসরকারি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম পাশা তালুকদার। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহমেদ তালুকদারের পরামর্শে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন গাজী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আতাহার উদ্দিন আকন টাউন হলটির নকশা প্রস্তুত করেন।
তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর নির্মাণকাজ থমকে যায়। দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকার পর ১৯৭৭ সালের দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহ আলম তালুকদারের উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে চাঁদা তুলে সেখানে একটি ব্যায়ামাগার চালু করা হয়।
 
 কিছুদিন কার্যক্রম চলার পর সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।
১৯৮৬ সালে উপজেলা পরিষদ টাউন হলটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে সিনেমা হল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য বরগুনার শ্যামলী সিনেমা হলের মালিক জুলফিকার শাহিনের সঙ্গে উপজেলা পরিষদ চুক্তি করে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা আন্দোলন গড়ে তোলেন।
 
 পরে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম তালুকদারের সময়ে সেখানে ‘সুরভি সিনেমা হল’ চালু হয়।
দীর্ঘদিন সিনেমা হলটি চালু থাকলেও ব্যবসায়িকভাবে সফল না হওয়ায় একপর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে উপজেলা পরিষদের ভাড়াও বকেয়া পড়ে। পরে হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মাহবুব উল আলম ঝুন্টু তালুকদারের পরামর্শে সাংবাদিক বাহাদুর খানসহ স্থানীয় তরুণরা উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে টাউন হলের মঞ্চসহ কিছু অংশ সংস্কার করেন।
এরপর সেখানে আমতলী উদীচী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও একতা ক্লাবের উদ্যোগে নিয়মিত নাটকের মহড়া ও মঞ্চায়ন শুরু হয়।
 
 নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে গলাচিপার আব্দুল আলিমের মালিকানায় ভবনটি আবার ‘লাভলু সিনেমা হল’ নামে চালু হয়। ২০০৪ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান তালুকদারের নির্দেশে সিনেমা হলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
 
এর তিন বছর পর ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে ভবনটির টিনের চালা উড়ে যায়। এরপর থেকে ভবনটির আর কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার না হওয়ায় ধীরে ধীরে এটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে।
 
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, আমতলী শাখার সভাপতি অশোক মজুমদার বলেন, ‘আমতলীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একসময় প্রাণকেন্দ্র ছিল এই টাউন হল। এখানে পহেলা বৈশাখ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান বিজয় দিবস ও মহান স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। দেশাত্মবোধক গান, নাটক ও আবৃত্তির মহড়া ও মঞ্চায়নে অসংখ্য মানুষের সমাগম হতো। বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য টাউন হলটি পুনরায় সংস্কার করা জরুরি।’
 
মানবাধিকারকর্মী আবদুর রহমান সালেহ বলেন, ‘আমতলীর ঐতিহ্যবাহী টাউন হলটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারি উদ্যোগে এটি সংস্কার ও মেরামত করা হলে ভবনটি আবারও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। এতে শহরের নাগরিকদেরও উপকার হবে।’
 
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘টাউন হলটি কীভাবে সুন্দর, নান্দনিক ও জনগণের ব্যবহারের উপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। টাউন হলটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর ঐতিহ্য ও নান্দনিকতা সংরক্ষণে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আমতলীর ঐতিহ্যবাহী টাউন হলটি আবারও সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে গাজীপুরের যুবক আব্দুল্লাহর প্রাণ গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


সৌদিতে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে গাজীপুরের যুবক আব্দুল্লাহর প্রাণ গেল

মো. আব্দুল্লাহ (৩০) সাত বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী জীবনযাপন করছিলেন, যেখানে তিনি স্বপ্নপূরণ ও পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য কাজ করছিলেন। দেশে থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, আড়াই বছরের কন্যাসন্তান এবং বৃদ্ধ মা-বাবা নিয়ে তার ভবিষ্যতের সব পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কর্মস্থলে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যালের সংস্পর্শে এসে তার জীবন শেষ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানী রিয়াদে কর্মস্থলে কেমিক্যাল দূষণের ঘটনায় আব্দুল্লাহসহ চারজন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, যা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহত আব্দুল্লাহ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্বাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রায় সাত বছর ধরে রিয়াদের ‘আব্দুল লতিফ কম্পানি’তে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি দুইবার ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। সর্বশেষ প্রায় এক মাস আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি।

 

নিহতের বড় ভাই মো. আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে হঠাৎ একটি কেমিক্যাল গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক সহকর্মী গুরুতরভাবে আক্রান্ত হলে আব্দুল্লাহ কোনো কিছু না ভেবে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। এ সময় তিনি নিজেও বিষাক্ত কেমিক্যালের সংস্পর্শে আক্রান্ত হন। পরে ঘটনাস্থলেই আব্দুল্লাহসহ আরো তিনজন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের কাছে খবর আসে।

তিনি বলেন, ‘আমার ভাই সব সময় খুব পরোপকারী ছিল। নিজের কথা না ভেবে বিপদে পড়া সহকর্মীকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ কেড়ে নিল।’

আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। বৃদ্ধ মা-বাবার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দুর্বাটি গ্রামের বাড়ির পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, স্ত্রী-সন্তান ও মা-বাবার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন আব্দুল্লাহ। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া এই যুবকের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আব্দুল্লাহর স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। তাদের আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাবার মৃত্যুর অর্থ বোঝার বয়সও হয়নি ছোট্ট মেয়েটির। অন্যদিকে অনাগত সন্তানটিও পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বাবাকে হারিয়েছে।

এদিকে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকার্ত পরিবার আব্দুল্লাহর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছে।

 

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%