শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৩ পি.এম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক যুবলীগ কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির লোকজন তাকে নিজের ঘরে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের নাম মো. আব্দুল্লাহ আল পাশা (২৩)। তিনি সীতাকুণ্ড পৌরসভার নুনাছাড়া এলাকার মো. নুরুল আফছারের ছেলে এবং নিষিদ্ধ যুবলীগের কর্মী ছিলেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাশার মেজো ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা শেষে রাত ৮টায় বাড়ির লোকজন ঘরে ফিরে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।’
নিহতের চাচি ঝর্ণা আক্তার বলেন, ‘পাশা সাত মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছিল।’ পাশা মাদকাসক্ত ছিল বলেও জানান তিনি।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, ‘নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের হয়ে আসবে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুরিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, সুইজারল্যান্ডের বৃহত্তম বিমানবন্দরে, উড্ডয়নের ঠিক পূর্বমুহূর্তে মদ্যপ অবস্থায় থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার এক কো-পাইলটকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর দিল্লিগামী ফ্লাইটের উড্ডয়নের ঠিক আগে কো-পাইলটের মদ্যপ অবস্থায় থাকার সন্দেহে তাকে বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক অ্যালকোহল টেস্টে তিনি ফেল করেন। এরপর তাকে বিমান থেকে নামিয়ে সাধারণ যাত্রী হিসেবে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়।
চূড়ান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তিনি বরখাস্ত থাকবেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার কারণে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট এআই ১৫১ নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন করতে পারেনি। পরবর্তীতে পরের দিন ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়।
এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তা, নিয়মকানুন বা প্রতিষ্ঠানের নীতি লঙ্ঘনের বিষয়ে তাদের অবস্থান আপসহীন। নিয়মভঙ্গের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তা কঠোরভাবে দমন করা হয় এবং বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এর আগে, গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে বড় ধরনের বিপত্তি ঘটেছিল। ওড়িশার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী ও ক্রু আহত হন।
পরে জানা যায়, ওই ফ্লাইটের মূল পাইলট সুদীপ বশিষ্ঠ ডোপ টেস্টে (মারিজুয়ানা) পজিটিভ হয়েছিলেন। যদিও পাইলট দাবি করেছিলেন তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন, তবে এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।
এসব ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে তাদের সব পাইলটের জন্য নতুন করে বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্টের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মচারীদের মধ্যে নিয়ম মানার সংস্কৃতি জোরদার করতে তারা অতিরিক্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাইকোহ্যাক্টিভ বা মনস্তাত্ত্বিক উপাদানের জন্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি বৃদ্ধি এবং কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষা নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মো. আব্দুল্লাহ (৩০) সাত বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী জীবনযাপন করছিলেন, যেখানে তিনি স্বপ্নপূরণ ও পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য কাজ করছিলেন। দেশে থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, আড়াই বছরের কন্যাসন্তান এবং বৃদ্ধ মা-বাবা নিয়ে তার ভবিষ্যতের সব পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কর্মস্থলে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যালের সংস্পর্শে এসে তার জীবন শেষ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানী রিয়াদে কর্মস্থলে কেমিক্যাল দূষণের ঘটনায় আব্দুল্লাহসহ চারজন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, যা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিহত আব্দুল্লাহ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্বাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রায় সাত বছর ধরে রিয়াদের ‘আব্দুল লতিফ কম্পানি’তে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি দুইবার ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। সর্বশেষ প্রায় এক মাস আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি।
নিহতের বড় ভাই মো. আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে হঠাৎ একটি কেমিক্যাল গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক সহকর্মী গুরুতরভাবে আক্রান্ত হলে আব্দুল্লাহ কোনো কিছু না ভেবে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। এ সময় তিনি নিজেও বিষাক্ত কেমিক্যালের সংস্পর্শে আক্রান্ত হন। পরে ঘটনাস্থলেই আব্দুল্লাহসহ আরো তিনজন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের কাছে খবর আসে।
তিনি বলেন, ‘আমার ভাই সব সময় খুব পরোপকারী ছিল। নিজের কথা না ভেবে বিপদে পড়া সহকর্মীকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ কেড়ে নিল।’
আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। বৃদ্ধ মা-বাবার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দুর্বাটি গ্রামের বাড়ির পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, স্ত্রী-সন্তান ও মা-বাবার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন আব্দুল্লাহ। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া এই যুবকের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আব্দুল্লাহর স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। তাদের আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাবার মৃত্যুর অর্থ বোঝার বয়সও হয়নি ছোট্ট মেয়েটির। অন্যদিকে অনাগত সন্তানটিও পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বাবাকে হারিয়েছে।
এদিকে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকার্ত পরিবার আব্দুল্লাহর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিডসে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছেন জস বাটলার। তিনি প্রথম ইংলিশ ব্যাটার হিসেবে ক্রিকেটের দুই ছোট ফরম্যাট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি, মিলিয়ে ১০ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন।
ম্যাচে, বাটলার দলের হয়ে ৪৯ বলে ৫টি চার ও ৫টি ছক্কা সহ ৬৯ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। ১৪০.৮২ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে, তিনি শেষ পর্যন্ত রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন।
তবে, বাটলারের এই স্মরণীয় দিনে ইংল্যান্ড জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। সফরকারী শ্রীলঙ্কার কাছে তারা ১৬ রানে পরাজিত হয়েছে। লঙ্কানদের গড়া ৩২১ রানের জবাবে, ইংল্যান্ডের ইনিংস ৩০৫ রানে শেষ হয়। ফলে, এই জয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় শ্রীলঙ্কা।
সাদা বলের ক্রিকেটে, ৩৬৭ ম্যাচের ৩২৬ ইনিংসে বাটলারের মোট রান এখন ১০০৬২। এর মধ্যে ১৩টি শতক এবং ৬০টি অর্ধশতক রয়েছে। ইংলিশ ব্যাটারদের মধ্যে, সাদা বলের দুই ফরম্যাট মিলিয়ে এই অর্জন আর কারো নেই।
ফরম্যাটভিত্তিক পরিসংখ্যানে, ওয়ানডেতে ২০৪ ম্যাচে ৫৬৭৮ রান নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রাহক। আর টি-টোয়েন্টির ১৬৩ ম্যাচে তার রান ৪৩৮৪।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ