ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাইপ্রাস উপকূলে ফেরিডুবি: নিহত ৮


সাইপ্রাস উপকূলে ফেরিডুবি: নিহত ৮

উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ফেরিটিতে মোট ২৫৯ জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু উপস্থিত ছিলেন। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য তুরস্কের সহযোগিতায় ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, ফেরিটি উপকূলীয় শহর কিরেনিয়া থেকে যাত্রা করার পর এটি পানিতে ডুবতে শুরু করে। পরে ফেরিটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের জন্য ফেরিটির ক্যাপ্টেন এবং সাতজন ক্রুকে আটক করা হয়েছে।

ফেরিটি স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জনপ্রিয় পর্যটন শহর কিরেনিয়া থেকে তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ফেরির যাত্রা কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

উনাল উস্তেল তুরস্কের গণমাধ্যম টিআরটিকে জানিয়েছেন, ফেরিটি দুটি বড় ঢেউয়ের আঘাতের শিকার হয়। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করার সময় দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। এরপর ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেটি উল্টে যায়।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার এবং কোস্টগার্ডের নৌযান পাঠানো হয়। তীরে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়। উত্তর সাইপ্রাসের পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ জন যাত্রীকে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তুর্কি সাইপ্রিয়টদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফা কোচ নিজের নৌকা নিয়ে প্রায় ৬৫ জনকে উদ্ধার করেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, "সমুদ্র শান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফেরিটির যাত্রা করা উচিত ছিল না।" তাঁর মতে, সেদিন সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

কোচ আরও জানান, ফেরিটি শনিবার কিরেনিয়ায় এসেছিল এবং এর সামনের অংশে কিছুটা ক্ষতি ছিল।

৪০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত উচ্চগতির ফিলো জেট নামের ফেরিটি তুরস্কের পতাকায় চলাচল করত বলে মেরিন ট্রাফিকের তথ্য থেকে জানা গেছে। রবিবার সন্ধ্যায় দেশটির পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি জানান, ফেরিটি সম্পূর্ণরূপে ডুবে গেছে।

ফেরিটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফিলো দেনিজজিলিক এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। যাত্রীদের স্বজনদের তথ্য দেওয়ার জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। তবে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের জাতীয়তা এবং আহতদের অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছবিতে পানিতে উল্টে থাকা ফেরির ওপর লাইফ জ্যাকেট পরা মানুষদের দেখা গেছে। উদ্ধারকারী নৌযানগুলোও ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

দুর্ঘটনার কারণ এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং সামান্যতম অবহেলাও খুঁজে বের করা হবে। তিনি বলেন, "দায়ী ব্যক্তি যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"

উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রকে শুধুমাত্র তুরস্ক স্বীকৃতি দেয়। সাইপ্রাস দ্বীপটি ১৯৭৪ সাল থেকে বিভক্ত এবং দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তর সাইপ্রাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সূত্র:

বিবিসি 

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে আকস্মিক বন্যা: পাহাড়ের বনে সারি সারি গণকবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


নেপালে আকস্মিক বন্যা: পাহাড়ের বনে সারি সারি গণকবর

নেপালের চিতওয়ান জেলার দেবঘাট বন এখন আর একটি নিরিবিলি সবুজ এলাকা নয়। আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানের পর এই বনটি পরিচয়হীন মরদেহের অস্থায়ী কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। স্বজনেরা যখন নিখোঁজ প্রিয়জনের খোঁজে ছুটছেন, তখন কর্তৃপক্ষ একের পর এক মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বুধবার নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর চিতওয়ানের দেবঘাট বনে এসব মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। দুর্যোগকবলিত রসুয়া অঞ্চলের উপত্যকাগুলো থেকে বনাঞ্চলটির দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার।

কয়েক দিন আগে দেবঘাটের বনপথ ছিল সকালের হাঁটার জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান। বর্তমানে সেখানে অস্থায়ী গণকবর তৈরি করা হয়েছে। পানিতে ভেসে আসা এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া যেসব মরদেহ এতটাই পচে গেছে যে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোই সেখানে দাফন করা হচ্ছে।

চিতওয়ানের ভারতপুরের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার গণেশ আর্যাল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, "মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।"

শনিবার দেবঘাটের বনাঞ্চলে ৯৬টি পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করা হয়েছে। রবিবার আরও শতাধিক মরদেহ দাফনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে উদ্ধারকারী দল নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মরদেহের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছেন প্রায় ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য কর্মকর্তা। তারা মরদেহের তথ্য নথিভুক্ত করছেন, ছবি তুলছেন, স্বজনদের শনাক্তকরণে সহায়তা করছেন এবং দাফনের জন্য মরদেহ প্রস্তুত করছেন।

প্রতিটি মরদেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেটিও বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করছে কর্তৃপক্ষ। কবরের ওপর ও মাটির নিচে শনাক্তকরণ চিহ্ন রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি কবরের সুনির্দিষ্ট অবস্থানের তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

পরবর্তীতে কোনো মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হলে যাতে সেটি খুঁজে বের করা যায়, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পরিচয়হীন মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। পরিবারের দাবি, সরকারি নথি কিংবা জেনেটিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে এসব দেহাবশেষ উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

এ কাজে নেপালের সঙ্গে ভারত ও চীনের দলও কাজ করছে। ভারত ইতিমধ্যে একটি ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে, যারা নেপালের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে কাজ করবে। চীনের একটি দলের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে নেপাল।

এদিকে চিতওয়ানের ভারতপুর হাসপাতালেও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের একটি অস্থায়ী মর্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহ রাখা হচ্ছে। মর্গটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০টি মরদেহ হলেও সেখানে প্রায় ১২৫টি মরদেহ পড়ে ছিল। অনেক মরদেহই কয়েক দিন বন্যার পানিতে থাকার কারণে পচে গেছে।

মরদেহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা পরিদর্শক অনিল থাপা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, "উদ্ধার করা মরদেহের অর্ধেকের বেশি শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই। অনেক মরদেহের মুখও চেনার উপায় নেই।"

মর্গের বাইরে থেকেই পচা মরদেহের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। মরদেহ সামলাতে থাকা পুলিশ ও হাসপাতালের কর্মীদের অনেকেই শুধু সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করছিলেন।

হাসপাতাল থেকে কয়েকশ মিটার দূরের চিতওয়ান এক্সপো সেন্টারেও স্বজনদের ভিড় বাড়ছে। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সেখানে আসছেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি দেখে পরিচয় শনাক্তের সুযোগ পাওয়ার আশায় একটি হলের বাইরে দুই শতাধিক মানুষ অপেক্ষা করছিলেন।

অনেকের সঙ্গে ছিল ব্যাগ ও লাগেজ। এতে বোঝা যায়, নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে তারা দূরবর্তী এলাকা থেকে সেখানে এসেছেন। কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, তারা আগের দিনই সেখানে পৌঁছালেও এখনো হলের ভেতরে ঢোকার সুযোগ পায়নি।

এদিকে মরদেহ শনাক্তের অপেক্ষায় থাকা আরেকটি পুরোনো একতলা ভবনও অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবনের বাইরে নেপাল রেড ক্রসের একটি সহায়তা ডেস্ক এবং পুলিশের নিবন্ধনকেন্দ্র বসানো হয়েছে।

মরদেহ পচে যাওয়ার গতি কমাতে সেখানে ড্রাই আইস, এয়ার কন্ডিশনার ও একটি শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত কুলিং ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। ভবনের ভেতরে বাঙ্ক বেডের ওপর সারি করে রাখা হয়েছে মরদেহের ব্যাগ।

এর মধ্যেই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি গাড়িতে করে একসঙ্গে ১৩টি মরদেহ ওই অস্থায়ী মর্গে আনা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে সেখানে ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সও অবস্থান করছিল। বাইরে অপেক্ষা করছিল আরও একটি গাড়ি।

মরদেহ আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। তাদের একটাই অপেক্ষা, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে তাদের নিখোঁজ প্রিয়জন আছেন কি না।

মরদেহ সামলাতে থাকা কর্মীদের ওপরও পড়ছে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রভাব। পরিদর্শক অনিল থাপা বলেন, "সেখানে কাজ করতে এসে তার খাবারের কথাই মনে হয় না। এমনকি পানি পান করতেও ইচ্ছা করে না।"

গত বুধবার হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। দুর্যোগের পর শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র:

রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার হরমুজে মার্কিন জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ এম


এবার হরমুজে মার্কিন জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় লারাক দ্বীপে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর হামলার কিছু ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে, দেশটির বিভিন্ন কৌশলগত স্থান থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমা ও আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এবং রয়টার্স ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে এই বিধ্বংসী আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে, দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা প্রেস টিভি জানায়, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌযানগুলোকে নিশানা বানিয়ে এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

সংবাদ চ্যানেলগুলোতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর সিরিকে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের খবর প্রচার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে এসব বিকট শব্দের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

মার্কিন অভিযানের কঠোর জবাব নিশ্চিত করে ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “আরেকবার আমাদের প্রতিরোধ আর দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে আসবেন না, এতে আরও চড়া মাশুল গুনতে হবে। আমাদের ধ্বংসাত্মক জবাব কিন্তু আসছেই, এখন কেবল দৌড়ান!” তিনি সতর্ক করে আরও জানান, নতুন অপরাধের জন্য আমেরিকা ও তার সহযোগীদের এমন শিক্ষণীয় সাজা দেওয়া হবে যা তাদের চূড়ান্ত পরাজয়ের রাস্তা ত্বরান্বিত করবে।

এর আগে, রোববার (৩০ আগস্ট) মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পয়েন্ট লক্ষ্য করে ঝটিকা বিমান হামলা চালায়। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানায়, লারাক দ্বীপে জাহাজবিধ্বংসী ও মাইনবাহী রকেট প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলেই ওয়াশিংটন ওই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যা জুলাই মাসের পর প্রথমবারের মতো ঘটল।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওই মার্কিন ড্রোন হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে নিহতের ঘটনা নিশ্চিত করে সর্বাত্মক বদলা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টায় জুনে দুই পক্ষ একটি সাময়িক সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের বিবাদ কেন্দ্র করে জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় পূর্ণমাত্রায় নৌ-অবরোধ ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
লা লিগা

৪ গোলে জিতে তিনে তিন রিয়ালের, তবু খুশি নন বেলিংহাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


৪ গোলে জিতে তিনে তিন রিয়ালের, তবু খুশি নন বেলিংহাম

লা লিগার এই মৌসুমে নবাগত মালাগাকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। জোসে মরিনহোর দল ৪-০ গোলে জয়লাভ করেছে।

 

টানা তিনটি জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানটি নিজেদের দখলে রেখেছে রিয়াল। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন জুড বেলিংহাম। তবে এই দাপুটে জয়ের পরেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন এই তারকা মিডফিল্ডার।

ম্যাচ শেষে বেলিংহাম মন্তব্য করেন, ‘প্রথমার্ধটা দুর্দান্ত ছিল।

 

কিন্তু শেষ ২০ মিনিট ছিল ভয়াবহ। কেন এমন হয়েছে, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’

তবে রিয়ালের নতুন কোচ মরিনহোর অধীনে ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা উপভোগ করছেন বেলিংহাম। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ইংলিশ তারকা বলেন, ‘আমি খুব খুশি।

 

আমি আমার ফুটবল উপভোগ করছি এবং যে স্বাধীনতা আমাকে দেওয়া হচ্ছে, সেটি কাজে লাগিয়ে ভালো খেলছি।’

নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কাল রাতে ম্যাচের শুরু থেকেই মালাগার ওপর চড়াও হয় রিয়াল। ১৯ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় দুর্দান্ত গোল করে দলের জন্য এগিয়ে দেন বেলিংহাম।

এরপর তার হেড থেকে আসা বল মালাগার গোলকিপার আলফোনসো হেরেরোর গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। গোলটি শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হিসেবে গণ্য হয়।

 

৩০ মিনিটের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়ালের লিড বাড়িয়ে ৩-০ করেন।

প্রথমার্ধে রিয়ালের দাপট ছিল স্পষ্ট। তারা ৬০ শতাংশের বেশি বলের দখল রেখে চারটি শট লক্ষ্যে রেখেছিল।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। মালাগাও নিজেদের রক্ষণ শক্তিশালী করে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। যোগ করা সময়ে আর্দা গুলের রিয়ালের ৪-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।

লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী ম্যাচ আগামী শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে; প্রতিপক্ষ রিয়াল বেতিস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত পুলিশি পাহারায় সরকার পতনের দিবাস্বপ্ন দেখছে : রাশেদ খাঁন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


জামায়াত পুলিশি পাহারায় সরকার পতনের দিবাস্বপ্ন দেখছে : রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেছেন যে জামায়াতে ইসলামী পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে সরকার পতনের দিবাস্বপ্ন দেখছে।

গতকাল রবিবার (৩০ আগস্ট) রাতে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই অভিযোগটি প্রকাশ করেন।

 

রাশেদ খাঁন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী জামানায় জামায়াত কখনো সংসদ ভবনের আশপাশে গেছে? আর আজকে সংসদ অধিবেশন চলাকালীন মব সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গিয়ে সংসদ ভবন ঘেরাও করেছে জামায়াত! আর তারা হুমকি দিচ্ছে যে পরবর্তীতে নাকি ভিতরে ঢুকে ২৪ এর মত অবস্থা করবে!’

তিনি আরও লিখেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় জামায়াতের কোন নেতা সংসদের ভিতরে ঢুকেছিলো? আজকে যারা সংসদ ভবন ঘেরাওয়ে গেলো, তাদের মধ্যে একজনও কি বিগত ১৬ বছরে সংসদের আশপাশে গিয়েছিলো? আওয়ামী মুক্ত দুনিয়ায় তারা জানে পুলিশ কিছু বলবে না, আর এজন্য প্রতিনিয়ত পুলিশি পাহারায় সরকার পতনের দিবাস্বপ্ন দেখছে! কিন্তু তারা ভুলে গেছে পুলিশ প্রটেকশনে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান হয়নি!’

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, ‘পুলিশ প্রটেকশন নিয়ে লংমার্চ কিংবা সচিবালয়- জাতীয় সংসদ ঘেরাও করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না। যারা বিরোধীদলই চালাতে পারে না, তারা হয়তো রাষ্ট্রকে অশান্ত করতে পারবে, কিন্তু কখনোই ক্ষমতায় গিয়ে দেশ চালাতে পারবে না।’

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%