০৯:১৭ এম
উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ফেরিটিতে মোট ২৫৯ জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু উপস্থিত ছিলেন। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য তুরস্কের সহযোগিতায় ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, ফেরিটি উপকূলীয় শহর কিরেনিয়া থেকে যাত্রা করার পর এটি পানিতে ডুবতে শুরু করে। পরে ফেরিটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের জন্য ফেরিটির ক্যাপ্টেন এবং সাতজন ক্রুকে আটক করা হয়েছে।
ফেরিটি স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জনপ্রিয় পর্যটন শহর কিরেনিয়া থেকে তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ফেরির যাত্রা কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
উনাল উস্তেল তুরস্কের গণমাধ্যম টিআরটিকে জানিয়েছেন, ফেরিটি দুটি বড় ঢেউয়ের আঘাতের শিকার হয়। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করার সময় দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। এরপর ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেটি উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার এবং কোস্টগার্ডের নৌযান পাঠানো হয়। তীরে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়। উত্তর সাইপ্রাসের পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ জন যাত্রীকে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তুর্কি সাইপ্রিয়টদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফা কোচ নিজের নৌকা নিয়ে প্রায় ৬৫ জনকে উদ্ধার করেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, "সমুদ্র শান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফেরিটির যাত্রা করা উচিত ছিল না।" তাঁর মতে, সেদিন সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
কোচ আরও জানান, ফেরিটি শনিবার কিরেনিয়ায় এসেছিল এবং এর সামনের অংশে কিছুটা ক্ষতি ছিল।
৪০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত উচ্চগতির ফিলো জেট নামের ফেরিটি তুরস্কের পতাকায় চলাচল করত বলে মেরিন ট্রাফিকের তথ্য থেকে জানা গেছে। রবিবার সন্ধ্যায় দেশটির পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি জানান, ফেরিটি সম্পূর্ণরূপে ডুবে গেছে।
ফেরিটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফিলো দেনিজজিলিক এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। যাত্রীদের স্বজনদের তথ্য দেওয়ার জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। তবে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের জাতীয়তা এবং আহতদের অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছবিতে পানিতে উল্টে থাকা ফেরির ওপর লাইফ জ্যাকেট পরা মানুষদের দেখা গেছে। উদ্ধারকারী নৌযানগুলোও ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
দুর্ঘটনার কারণ এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং সামান্যতম অবহেলাও খুঁজে বের করা হবে। তিনি বলেন, "দায়ী ব্যক্তি যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রকে শুধুমাত্র তুরস্ক স্বীকৃতি দেয়। সাইপ্রাস দ্বীপটি ১৯৭৪ সাল থেকে বিভক্ত এবং দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তর সাইপ্রাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সূত্র:
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন