০৯:২৯ এম
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় লারাক দ্বীপে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর হামলার কিছু ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে, দেশটির বিভিন্ন কৌশলগত স্থান থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমা ও আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এবং রয়টার্স ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে এই বিধ্বংসী আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে, দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা প্রেস টিভি জানায়, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌযানগুলোকে নিশানা বানিয়ে এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে
সংবাদ চ্যানেলগুলোতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর সিরিকে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের খবর প্রচার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে এসব বিকট শব্দের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
মার্কিন অভিযানের কঠোর জবাব নিশ্চিত করে ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “আরেকবার আমাদের প্রতিরোধ আর দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে আসবেন না, এতে আরও চড়া মাশুল গুনতে হবে। আমাদের ধ্বংসাত্মক জবাব কিন্তু আসছেই, এখন কেবল দৌড়ান!” তিনি সতর্ক করে আরও জানান, নতুন অপরাধের জন্য আমেরিকা ও তার সহযোগীদের এমন শিক্ষণীয় সাজা দেওয়া হবে যা তাদের চূড়ান্ত পরাজয়ের রাস্তা ত্বরান্বিত করবে।
এর আগে, রোববার (৩০ আগস্ট) মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পয়েন্ট লক্ষ্য করে ঝটিকা বিমান হামলা চালায়। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানায়, লারাক দ্বীপে জাহাজবিধ্বংসী ও মাইনবাহী রকেট প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলেই ওয়াশিংটন ওই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যা জুলাই মাসের পর প্রথমবারের মতো ঘটল।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওই মার্কিন ড্রোন হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে নিহতের ঘটনা নিশ্চিত করে সর্বাত্মক বদলা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টায় জুনে দুই পক্ষ একটি সাময়িক সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের বিবাদ কেন্দ্র করে জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় পূর্ণমাত্রায় নৌ-অবরোধ ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন