১০:০২ পি.এম
ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়মের শাস্তি নিয়ে কানাডার জাতীয় দলের কোচ জেসি মার্শ কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি ২০২২ সালে মাত্র ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডে (প্রায় ৬৬ মিলিয়ন ডলার) এরলিং হলান্ডকে দলে ভেড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে সিটির আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সাবেক লিডস ইউনাইটেড কোচ হিসেবে।
সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের যে তদন্তে ক্লাবটি বড় ধরনের আর্থিক বিধিভঙ্গের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল, সেটি ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের সময়কালকে ঘিরে। তবে মার্শের দাবি, সিটির অনিয়ম নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে অনেক কিছুই আগে থেকেই ‘সবার জানা’ ছিল এবং তিনি মনে করেন যে তা পরবর্তী সময়েও চলেছে।
দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্শ বলেন, “আমার মনে হয়, ম্যানচেস্টার সিটির কঠোর শাস্তি পাওয়া উচিত। আমার মনে হয়, তাদের নিচের বিভাগে নামিয়ে দেওয়া উচিত। আর হ্যাঁ, সবাই এটা জানত। সবাই জানত।”
আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডও হারল পাকিস্তানের কাছে
২০২২ সালের গ্রীষ্মের কথা উল্লেখ করে মার্শ বলেন, তখন লিডস ও সিটি ছিল এমন দল, যারা খেলোয়াড় বিক্রি করে অর্থ আয় করেছিল। লিডস রাফিনহা ও কালভিন ফিলিপসকে বিক্রি করে বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছিল। সেই তুলনায় সিটির হলান্ড কেনার মূল্য তাঁর কাছে অবাক করার মতো মনে হয়েছিল।
মার্শ বলেন, “যখন তারা বলল, তারা এরলিং হলান্ডকে ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডে পেয়েছে, তখন আমি ভাবলাম—হ্যাঁ, ঠিক আছে! এটা যেন একটা রসিকতা। আমি বুঝতে পারছিলাম, হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি আছে। কিন্তু আপনি কীই-বা করতে পারেন? হাত তুলে বলতে হয়, ‘এটাই ফুটবল।’”
২০২২ সালে বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ স্ট্রাইকার ছিলেন হলান্ড। ২১ বছর বয়সী এই নরওয়েজিয়ানকে নিয়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। সেই সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অ্যান্টনিকে প্রায় ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডে এবং লিভারপুল দারউইন নুনিয়েজকে প্রায় একই অঙ্কে দলে নেয়। নিউক্যাসল ইউনাইটেড রিয়াল সোসিয়েদাদ থেকে আলেক্সান্ডার ইসাককে কিনেছিল প্রায় ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে।
এর তুলনায় হলান্ডের জন্য সিটির ৫২ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করাটা তাই বেশ কম মনে হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনার উড়তে থাকা জয়রথ থামাল পিএসজি, ৪-২ ব্যবধানে জয়
তবে এর পেছনে ছিল হলান্ডের চুক্তিতে থাকা রিলিজ ক্লজ। ২০২২ সালের গ্রীষ্মে সেই ধারা কার্যকর হলে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হাতে খেলোয়াড়কে ধরে রাখার সুযোগ কার্যত ছিল না। সিটি দ্রুত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হলান্ডকে দলে ভেড়ায়।
ডর্টমুন্ডের সাবেক নির্বাহী হান্স-ইয়োয়াখিম ভাটস্কে জানিয়েছিলেন, হলান্ডের চুক্তিতে রিলিজ ক্লজ না রাখলে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে চলে যেতে পারতেন।
এর এক বছর আগেই হলান্ডকে দলে ভেড়াতে চেয়েছিল চেলসি। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তখন বলা হয়েছিল, চেলসি খেলোয়াড় অদলবদলের প্রস্তাবও দিয়েছিল। এমনকি হলান্ডের জন্য প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত খরচ করতে প্রস্তুত ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।
তবে সিটির দেওয়া ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডই হলান্ডকে দলে ভেড়ানোর সম্পূর্ণ খরচ ছিল না। ক্লাবটির ঘোষণার পর জানা যায়, এজেন্ট ফি, সাইনিং বোনাসসহ বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে পুরো চুক্তির ব্যয় প্রায় ৮৫.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন: আরাফাত মিনহাসের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পাকিস্তানের সহজ জয়
তবে এসব অতিরিক্ত অর্থ ট্রান্সফার বাজারে অস্বাভাবিক কিছু নয়। সাধারণত খেলোয়াড়ের ট্রান্সফার ফি হিসেবে যে অঙ্কটি প্রকাশ করা হয়, সেখানে এজেন্ট ফি বা সাইনিং বোনাসের মতো খরচ ধরা হয় না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হালান্ডকে দলে ভেড়ানোর ক্ষেত্রে সিটির কোনো অনিয়মের অভিযোগ বা প্রমাণ প্রতিবেদনে নেই। তাঁর তুলনামূলক কম ট্রান্সফার ফি মূলত চুক্তিতে থাকা রিলিজ ক্লজের ফল।
ইংল্যান্ডে পা রাখার পর অবশ্য সেই অর্থের যথার্থতা মাঠেই প্রমাণ করেছেন হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে তিনি নিজেকে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম ভয়ংকর গোলস্কোরার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং ২০২২ সালের দলবদলকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ‘বাজি’ হিসেবেই দেখা হয়।
আরও পড়ুন: র্যাঙ্কিংয়ে এগোলেন শারমিন ২৫তম ও স্বর্ণা ৮৬তম স্থানে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন