প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির ফাঁদে পড়েছিলেন সিফাদ আহম্মেদ (১৯) পাসপোর্ট করতে গিয়ে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশাল একটি জালিয়াত চক্রের সন্ধান পান।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ইউএনও ফাতেমা জান্নাতের নেতৃত্বে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে ‘মামুন কম্পিউটার’ নামের দোকান থেকে জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা রফিকুল ইসলাম বাদল (৫০) আটক হন। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ১৯টি ভুয়া সিল এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যয়নপত্র উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী সিফাদ আহম্মেদকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা নেন কম্পিউটার দোকানি বাদল। পরবর্তীতে সিফাদ উচ্চশিক্ষার্থে বা জীবিকার তাগিদে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন।
পাসপোর্ট অফিস জানায়, অনলাইনে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের কোনো অস্তিত্ব বা রেকর্ড নেই। ভুয়া এনআইডি নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হয়ে সিফাদ আহম্মেদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ইউএনও ফাতেমা জান্নাত অভিযুক্ত বাদলের ‘মামুন কম্পিউটার’ দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালীন দোকানটিতে তল্লাশি চালিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মোট ১৯টি জাল সিল উদ্ধার হয়। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এবং নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী)-এর সিল রয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ ইউনিয়ন পরিষদের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র পাওয়া যায়, যা ব্যবহার করে বাদল দীর্ঘদিন ধরে নানা অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, "আমরা মূলত সিফাদ আহম্মেদের জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির ঘটনাটি তদন্ত করতে বাদলের দোকানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে তল্লাশি করতেই যেন ‘কেঁচো খুঁড়তে সাপ’ বেরিয়ে আসে। এনআইডি জালিয়াতির পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের জাল সিল ব্যবহার করে এত বড় জালিয়াতির ঘটনা সত্যিই বিরল।"
তিনি আরও জানান, জালিয়াতির অপরাধে অভিযুক্ত বাদলকে হাতেনাতে আটক করে থানায় পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে। এই চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন