জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৪:৪৭ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাঢ় নীল এবং হালকা জলপাই রঙের শার্ট ও খাকি প্যান্টে বাংলাদেশ পুলিশ আবার ফিরে এসেছে। গত জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় বাংলাদেশের পুলিশের সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে পোশাকে একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকার গঠনের পর আগের সেই পোশাক আবার বদলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের পর বুধবার (১ জুলাই) থেকে পুলিশ সদস্যদের নতুন ইউনিফর্মে কাজ করতে দেখা গেছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে আইজিপিকে গাঢ় নীল শার্ট এবং খাকি প্যান্ট পরা অবস্থায় দেখা যায় এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে হালকা জলপাই রঙের শার্ট ও খাকি প্যান্টে দেখা যায়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ জানান, আজ থেকে পুলিশ সদস্যরা নতুন পোশাক পরছেন। তবে এখনও সব পুলিশ সদস্যের কাছে নতুন পোশাক পৌঁছায়নি। পর্যায়ক্রমে সব সদস্যই এই বিশেষ পোশাক পাবেন। বর্তমানে যারা নতুন পোশাক পেয়েছেন তারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন নতুন ইউনিফর্মে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কার ও ইউনিফর্ম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জোর দাবি উঠতে শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ২০ জানুয়ারি আইন-শৃঙ্খলাসংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদের সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী পুলিশ শার্টের রং আয়রন বা লোহা-ধূসর এবং প্যান্টের রং কফি শেল বা কফি-বাদামি ধূসর নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত বছরের ২৫ নভেম্বর এই নতুন পোশাকে মাঠে নেমেছিল পুলিশ।
তবে ওই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। বেশ কিছু পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেননি এবং পোশাকের রং নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশের পোশাক পুনরায় পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জুন পুলিশের পোশাকের রং পরিবর্তন সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর।
নতুন প্রজ্ঞাপনে পুলিশের শার্ট ও প্যান্টের রং পরিবর্তনের পাশাপাশি জার্সি, কার্টিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারী পুলিশদের পোশাক, মাথার আবরণ এবং পূর্ণহাতা পোশাকের রং-সংক্রান্ত বিধানে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগের লোহা-ধূসর রঙের শার্টের পরিবর্তে এখন গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান অথবা পুলওভার যুক্ত হওয়া হয়েছে।
নতুন বিধান অনুসারে, জেলা পুলিশ এবং এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র্যাব ছাড়া অন্য ইউনিটের ক্ষেত্রে ট্রাউজার বা প্যান্ট হবে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের। আর শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ে। শার্টটির সামনে চারটি পকেট এবং সমদূরত্বে সাতটি বোতাম থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে নারী পুলিশের পোশাকের বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে যে, নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে শাড়ি পরতে পারবেন। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ এবং মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজ পরা যাবে। এছাড়া নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের মাথার আবরণ বা হিজাব ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যরা সারা বছর পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে সক্ষম হবেন এবং গর্ভাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে সাধারণ পোশাক পরায় অনুমতি পাবেন।
মৌসুম অনুযায়ী শার্টের ধরনও প্রজ্ঞাপনে নির্ধারণ করা হয়েছে যেখানে গ্রীষ্মকালে শার্ট হবে অর্ধহাতা এবং শীতকালে শার্ট হবে পূর্ণহাতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় তিন মাসব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের ৭ম ব্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। বুধবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম সভাপতিত্ব করেন।
এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এই কোর্সটি চালু করেছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।
এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই প্রকল্পের আওতায় ৭ম ব্যাচে ৪৮০০ হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন বিভিন্ন বিষয়ের জন্য। এ উদ্যোগ তাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সহায়তা করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সহায়তা করবে। সরকারের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বেকারত্ব হ্রাস এবং পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, ‘দেশের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষণার্থীরা যদি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, তবে তারা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে সফলভাবে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন। এই উদ্যোগ তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরও সুগম করবে।’
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার শিক্ষিত যুব-যুবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে দেশে আটটি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এ প্রশিক্ষণ চালানো হচ্ছে।
আজ ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী ৭ম ব্যাচের প্রশিক্ষণে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেবেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস তরুণ-তরুণীরা এ সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ছয়টি ব্যাচে ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ১১ হাজার ৩৫৩ জন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন।
এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মোট আয় ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯০ মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৭ টাকা। সব মিলিয়ে তাদের মোট উপার্জনের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ২১৫ টাকা। প্রশিক্ষণার্থীদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রশिक्षণার্থীরা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিন মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংরেজি, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ভিডিও এডিটিং।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) মাস্টার্স ইন ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড ক্রিমিনাল জাস্টিস (এমসিসিজে) প্রোগ্রামের ২৬১ টার্মের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বিভাগ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২৬১ টার্মের ৪র্থ ব্যাচের ২য় সেমিস্টার এবং ৩য় ব্যাচের ৪র্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা আগামী ২১ আগস্ট থেকে শুরু হবে। এই পরীক্ষা চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, পরীক্ষার সময়সূচি, কেন্দ্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা যেন নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেন এবং পরীক্ষার নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের হয়ে পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি মওকুফ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
বুধবার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) তাইয়েবা তাসনীম সিরাজ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শুধু সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট ফি পরিশোধ করতে হবে। আহত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্যান্য ফি মওকুফের সুবিধা পেতে নিজেদের সংশ্লিষ্ট কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আহতদের তালিকার পর্যালোচনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ২৬৯ জন আহত শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে।
এ সকল শিক্ষার্থীদের সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ছাড়া পরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্যান্য সব ফি মওকুফের উদ্দেশ্যে অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ