মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:২১ পি.এম
বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলের প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যে ৯৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ভবনসহ সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে, তবে ১০ তলা ভবনের লিফট সংযোজনের কাজ আগামী মার্চ নাগাদ শেষ হবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুরো প্রকল্প এলাকার সীমানার প্রাচীর ও বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের নির্মাণ এবং তা চালু করার কাজ চলতি অর্থ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সাব-স্টেশন ভবনের কাজও ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ট্রান্সফর্মার স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, লিফট সংগ্রহের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এলসি খোলার কথাও বলা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সমুদয় লিফট সরঞ্জাম প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পরেই তার সংযোজন শুরু হবে।
‘গ্রীন স্মার্ট বিল্ডিং’এর আদলে ‘বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প’র আওতায় বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম ও বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা/বরগুনা জাতীয় মহাসড়কের পাশে দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নতুন ভবনটি এখন দৃশ্যমান। গত বছর ৩০ জুন ভবনটির ৩ ও ৪র্থ তলা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার পর সেখানে দাপ্তরিক কাজ শুরু হয়েছে।
২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘মেসার্স খান বিল্ডার্স-শফিক এন্টারপ্রাইজ জেভি’র সাথে ভবনটির নির্মাণে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১৬ কোটি ৪৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে চুক্তি সম্পাদিত হয়। নকশা সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রকল্প এলাকার জমি নিয়ে বিরোধের কারণে ২০ মাসের কাজ ৮০ মাসেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে লিফটের মূল্য বৃদ্ধি এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ প্রকল্পভুক্ত করায় মোট প্রকল্প ব্যয় ২৫ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। বরিশাল ছাড়াও চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস ভবনসমূহের নির্মাণ কাজও সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বরিশাল আঞ্চলিক কেন্দ্রের ভবনটি প্রায় ১ লাখ বর্গ ফুটের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন। এতে রিসেপশন, ওয়েটিং রুম, ওয়্যার হাউস, পরিচালক, রেজিস্ট্রার, প্রোগ্রামার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও শাখা কর্মকর্তাদের দপ্তর, সভাকক্ষ, সম্মেলন কক্ষ, আইসিটি সুবিধাসংবলিত ক্লাস রুম, আধুনিক রান্নাঘর, ডাইনিং, কমনরুম, ভিভিআইপি কক্ষ ও লাউঞ্জসহ প্রশিক্ষণগ্রহণকারীদের জন্য আবাসন সুবিধা রয়েছে। ভবনটির ৬ষ্ঠ তলায় শূন্য উদ্যানের সুবিধাসহ কয়েকটি তলায় খোলা ছাদ রাখা হয়েছে।
মূল ভবনটির নির্মাণসহ সাজসজ্জার কাজের প্রায় ৯৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল বিভাগীয় ভবনটি নির্মাণে সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি কাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
গত বছর জুলাই থেকে ভবনটির ৩ ও ৪র্থ তলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাপ্তরিক কাজ করছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক জানান, নির্মাণাধীন ভবনটি সম্পূর্ণ ব্যবহার উপযোগী হলে, এটি এ অঞ্চলের ১৮৫টি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান তদারকিসহ উন্নয়নে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : মরক্কো থেকে অভিবাসীদের ঢল নামার পর থেকে সংকটে থাকা স্পেনের সেউতা শহরে সফর করছেন রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রানি লেতিসিয়া। মঙ্গলবার তাদের এই সফর কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সংকটের মাঝে শহরটির প্রতি সমর্থন প্রদানের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে যাচ্ছেন।
২০০৭ সালের পর এই প্রথমবারের মতো স্পেনের রাজপরিবার সেউতা সফর করছে। ওই বছর প্রতিবেশী মরক্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক সংকটের কারণে সেউতা ও উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের অপর ভূখণ্ড মেলিয়ার সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। মরক্কো সেউতা ও মেলিয়ার সার্বভৌমত্ব দাবি করে।
স্পেনের সেউতা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ৩০ ও ৩১ জুলাই নজিরবিহীনভাবে ৭০ হাজারের বেশি অভিবাসী প্রায় ৮০ হাজার বাসিন্দার ছোট শহরটিতে প্রবেশ করে। এই ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে।
অভিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে যান। তবে হাজার হাজার মানুষ সেখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থান করেন। তাদের অনেকেই রাস্তায় বা সমুদ্রসৈকতে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর পরিবেশে রাত কাটান।
এ সংকটের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ২৯ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগে সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের জনপ্রিয়তা কমে গেছে। নির্বাচনে অভিবাসন ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেউতার বাসিন্দা সুসানা রোমান মন্তব্য করেন, ‘রাজার প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই এখানে আসা উচিত ছিল। আর তাঁর আসা উচিত ছিল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পোশাকে, কারণ তিনি তা-ই।’
‘লেটস সেভ সেউতা’ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ৫৭ বছর বয়সী আইনজ্ঞ রোমান আরও বলেন, ‘সেউতার বাসিন্দাদের কাছে এটি রাষ্ট্রের উপস্থিতির একটি দ্ব্যর্থহীন বার্তা হতো।’
৬৬ বছর বয়সী কিয়স্ক ব্যবসায়ী ম্যানুয়েল ফার্নান্দেজ রাজা-রানিকে দেখতে সেদিন কাজ থেকে ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘তাঁদের সমর্থন আমাদের সত্যিই খুব প্রয়োজন ছিল।’
মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা-
সরকার জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভিবাসীদের আশ্রয় পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। এ ছাড়া অভিভাবকহীন কয়েক শত শিশুকে যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ফেরত পাঠানো যাবে না।
কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা করেছে। সমুদ্রসৈকতের প্রধান শিবিরগুলোও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কিছু অভিবাসী এখনো আশপাশের পাহাড়ি এলাকা ও রাস্তায় অবস্থান করছেন।
৩৩ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা আনা মুনোস মন্তব্য করেন, ‘রাজা যদি অনুপ্রবেশের দ্বিতীয় দিনেই আসতেন, তাহলে এখানকার পুরো বিশৃঙ্খলা দেখতে পেতেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন তিনি দেখবেন, সবকিছু পরিষ্কার। কারণ, তাদের (অভিবাসীদের) ইতোমধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ রাজতন্ত্রের ওপর আস্থা কিছুটা হারিয়েছেন বলেও জানান মুনোস।
সফরের শুরুতে ফেলিপে ও লেতিসিয়া সিটি হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তাঁরা একটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন।
পরে তাঁরা একটি কবরস্থানে যাবেন। সেখানে মৃত অভিবাসীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। তাঁদের অধিকাংশই সীমান্তের বেড়া ঘুরে সাঁতরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ডুবে মারা যান।
সেউতার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে রাজা ফেলিপের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বুধবার রাজা-রানি মেলিয়া সফর করবেন।
কূটনৈতিক ঝুঁকি-
স্পেন ও মরক্কোর ঐতিহাসিকভাবে স্পর্শকাতর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ সফর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হচ্ছে। অভিবাসীদের ঢল নামার পেছনে মরক্কোর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।
স্পেনের ডানপন্থিরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মরক্কো এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছে। তবে মরক্কো ও সানচেজ—উভয় পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) সামনের সড়কে গাড়ির ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীর পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এ ছাড়া তার মাথায়ও আঘাত রয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি প্রথমে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়াকে ধাক্কা দেয়। পরে আরও ছয় শিক্ষার্থী গাড়ির ধাক্কায় আহত হন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সাদমানের দাবি, গাড়ি চালানোর সময় আতঙ্কিত হয়ে ব্রেকের পরিবর্তে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মুহূর্তের মধ্যেই ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বদলে যায় আতঙ্কে। গাড়ির ধাক্কায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে তাহিয়ার আঘাত ছিল সবচেয়ে গুরুতর। তাঁর পায়ে গুরুতর জখম হয় এবং মাথায়ও আঘাত লাগে। মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে জানান মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুসফিকুল ইসলাম। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্য আহত শিক্ষার্থীদেরও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
দুর্ঘটনার পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা গাড়িচালক সাদমান সাকিবকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
‘ব্রেক নিতে গিয়ে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিই’
দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে সাদমান সাকিব ‘আমার দেশ’-কে বলেন, ‘আমি আগে তেমন গাড়ি চালাইনি। আজকে শখের বসে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। সঙ্গে ড্রাইভারও ছিল। চালাতে চালাতে আমি কলা ভবনে একটা রাউন্ড দিয়ে আসি। ওই মুহূর্তে বেশি মানুষ দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। এফবিএসের সামনে এসে ব্রেক নিতে গিয়ে আমি অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে দিই।
তিনি আরও বলেন, সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে। সামনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রথমে গাড়ি ধাক্কা দেয়। পরে ড্রাইভারের সহায়তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে দুর্ঘটনার আগেও গাড়িটির চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিনহা মল্লিক। তাঁর ভাষ্য, গাড়িটি একাধিকবার সড়কে ঘোরাঘুরি করছিল এবং চলার সময় সামনে থাকা রিকশা ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জোরে হর্ন দিচ্ছিল।
সিনহা মল্লিক বলেন, আমি আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে স্যাডো থেকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস রোডে উঠতেই গাড়িটি আমাকে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করে এফবিএসের দিকে যায়। সামনে যত রিকশা বা শিক্ষার্থী আসছিল, তাদের উদ্দেশে অনেক জোরে হর্ন দিচ্ছিল। সম্ভবত সেবার দুর্ঘটনাটি ঘটেনি। পরবর্তী চক্করে ঘটেছে।
আহতদের চিকিৎসা, মামলা নিয়ে প্রশাসনের আশ্বাস
আহত সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জন মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁদের হাত, পা, হাঁটু ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। অন্য আহত শিক্ষার্থী ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়া। তাঁর পায়ের আঘাতের মাত্রা এবং হাড় ভেঙেছে কি না, তা চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হাসপাতালে নেওয়ার পর আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। অন্যদের ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁদের সহপাঠীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তাঁদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর প্রক্টর কার্যালয়ে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার আহ্বান জানান। এ দাবির পক্ষে তারা লিখিত আবেদন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শান্টু বড়ুয়া বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় মামলা করার জন্য লিখিতভাবে আমাদের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। প্রক্টর অফিসও এ বিষয়ে ইতিবাচক।
তিনি আরও বলেন, প্রক্টর অফিসের উদ্যোগে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে বলে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি।
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুজুকি বাংলাদেশ (র্যাংকন মোটর বাইকস লিমিটেড) আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের বাজারে নতুন অ্যাডভেঞ্চার-ট্যুরার মোটরবাইক ‘সুজুকি ভি-স্ট্রোম এসএক্স ২৫০’ উন্মোচন করেছে। এই উন্মোচন অনুষ্ঠানটি পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (BCFEC) অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘সুজুকি ডে ২০২৬’ উপলক্ষে হাজারো বাইকার ও বাইকিংপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন। নতুন মডেলটির পর্দা উন্মোচন করা হয় এক জমকালো অনুষ্ঠানে।
নতুন ভি-স্ট্রোম এসএক্স ২৫০ মডেলটির বাজারমূল্য (MRP) ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, বাজার উন্মোচন উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ লঞ্চ অফার ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে বাইকটি প্রি-বুক অথবা ক্রয় করলে গ্রাহকরা ২০ হাজার টাকা ছাড়ে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৯৫০ টাকায় বাইকটি কেনার সুযোগ পাবেন।
দিনব্যাপী এই মেগা ইভেন্টে আমন্ত্রিত বাইকারদের জন্য লাইভ স্টান্ট শো, ডার্ট রেস, ডিজে পারফরম্যান্স এবং বাইকিং অ্যাকসেসরিজ এক্সিবিশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হিসেবে শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হয় মেগা মিউজিক্যাল কনসার্ট, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও কিংবদন্তি রকব্যান্ড জেমস, ওয়ারফেজ এবং কার্নিভাল তাদের রোমাঞ্চকর পারফরম্যান্সে পুরো প্রাঙ্গণ মাতিয়ে তোলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার গুতিয়ারা এলাকায় মাদক কারবারিদের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় জয়নুল আবেদীন মেমোরিয়াল হাইস্কুলের পাশে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেছেন যে, এলাকার রাসেল ও জসিমের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। প্রতিবাদ করায় গত ১১ অক্টোবর রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাফিজুর রহমান রুবেলের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়। এ হামলায় হাফিজুর রহমান, তাঁর ভগ্নিপতি হাসান শরীফ ও বাবা হযরত আলীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। বক্তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
বক্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় গাছা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাঁরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, আহতদের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল, শাহ-আলম, অহনা, ইউসুফ, সেলিম, রাফাত, তানভীর, রাসেল খান ও সোহাগ হুজুরসহ অনেকে।
বক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হয়, তাহলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গাছা এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে গাছা থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, "অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ