প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : মরক্কো থেকে অভিবাসীদের ঢল নামার পর থেকে সংকটে থাকা স্পেনের সেউতা শহরে সফর করছেন রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রানি লেতিসিয়া। মঙ্গলবার তাদের এই সফর কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সংকটের মাঝে শহরটির প্রতি সমর্থন প্রদানের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে যাচ্ছেন।
২০০৭ সালের পর এই প্রথমবারের মতো স্পেনের রাজপরিবার সেউতা সফর করছে। ওই বছর প্রতিবেশী মরক্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক সংকটের কারণে সেউতা ও উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের অপর ভূখণ্ড মেলিয়ার সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। মরক্কো সেউতা ও মেলিয়ার সার্বভৌমত্ব দাবি করে।
স্পেনের সেউতা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ৩০ ও ৩১ জুলাই নজিরবিহীনভাবে ৭০ হাজারের বেশি অভিবাসী প্রায় ৮০ হাজার বাসিন্দার ছোট শহরটিতে প্রবেশ করে। এই ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে।
অভিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে যান। তবে হাজার হাজার মানুষ সেখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থান করেন। তাদের অনেকেই রাস্তায় বা সমুদ্রসৈকতে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর পরিবেশে রাত কাটান।
এ সংকটের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ২৯ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগে সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের জনপ্রিয়তা কমে গেছে। নির্বাচনে অভিবাসন ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেউতার বাসিন্দা সুসানা রোমান মন্তব্য করেন, ‘রাজার প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই এখানে আসা উচিত ছিল। আর তাঁর আসা উচিত ছিল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পোশাকে, কারণ তিনি তা-ই।’
‘লেটস সেভ সেউতা’ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ৫৭ বছর বয়সী আইনজ্ঞ রোমান আরও বলেন, ‘সেউতার বাসিন্দাদের কাছে এটি রাষ্ট্রের উপস্থিতির একটি দ্ব্যর্থহীন বার্তা হতো।’
৬৬ বছর বয়সী কিয়স্ক ব্যবসায়ী ম্যানুয়েল ফার্নান্দেজ রাজা-রানিকে দেখতে সেদিন কাজ থেকে ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘তাঁদের সমর্থন আমাদের সত্যিই খুব প্রয়োজন ছিল।’
মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা-
সরকার জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভিবাসীদের আশ্রয় পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। এ ছাড়া অভিভাবকহীন কয়েক শত শিশুকে যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ফেরত পাঠানো যাবে না।
কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা করেছে। সমুদ্রসৈকতের প্রধান শিবিরগুলোও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কিছু অভিবাসী এখনো আশপাশের পাহাড়ি এলাকা ও রাস্তায় অবস্থান করছেন।
৩৩ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা আনা মুনোস মন্তব্য করেন, ‘রাজা যদি অনুপ্রবেশের দ্বিতীয় দিনেই আসতেন, তাহলে এখানকার পুরো বিশৃঙ্খলা দেখতে পেতেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন তিনি দেখবেন, সবকিছু পরিষ্কার। কারণ, তাদের (অভিবাসীদের) ইতোমধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ রাজতন্ত্রের ওপর আস্থা কিছুটা হারিয়েছেন বলেও জানান মুনোস।
সফরের শুরুতে ফেলিপে ও লেতিসিয়া সিটি হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তাঁরা একটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন।
পরে তাঁরা একটি কবরস্থানে যাবেন। সেখানে মৃত অভিবাসীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। তাঁদের অধিকাংশই সীমান্তের বেড়া ঘুরে সাঁতরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ডুবে মারা যান।
সেউতার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে রাজা ফেলিপের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বুধবার রাজা-রানি মেলিয়া সফর করবেন।
কূটনৈতিক ঝুঁকি-
স্পেন ও মরক্কোর ঐতিহাসিকভাবে স্পর্শকাতর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ সফর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হচ্ছে। অভিবাসীদের ঢল নামার পেছনে মরক্কোর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।
স্পেনের ডানপন্থিরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মরক্কো এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছে। তবে মরক্কো ও সানচেজ—উভয় পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন