ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজউকের সেবায় নতুন গতি, ৭ মাসে ১১ হাজার আবেদন জমা


রাজউকের সেবায় নতুন গতি, ৭ মাসে ১১ হাজার আবেদন জমা

রাজধানীর ভবন নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর আওতাধীন আটটি জোনে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন এবং অনুমোদন কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে অনলাইনে হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের দাপ্তরিক দৌড়ঝাঁপ অনেকাংশে কমে গেছে।

এছাড়া, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি এবং আবেদনে কোনো ঘাটতি থাকলে মোবাইল ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে তা জানানো হচ্ছে, যা সেবায় গতি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করছে।

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের আটটি জোনে প্লানিং পারমিটের জন্য অনলাইনে মোট ৭ হাজার ৫৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩৯৩টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য ৩ হাজার ৯৩০টি আবেদন জমা পড়ে এবং এর মধ্যে ২ হাজার ৬০০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সাত মাসে দুই ধরনের পারমিটের জন্য মোট ১০ হাজার ৯৮৫টি আবেদন জমা পড়েছে এবং ৭ হাজার ৯৯৩টি আবেদন অনুমোদন লাভ করেছে।

আরও পড়ুন: ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোখলেছুর রহমানের মৃত্যু

রাজউক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্লানিং পারমিট নিষ্পত্তির জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে, কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটিতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবেদনকারীর দাখিল করা কাগজপত্র ও নকশা সঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কোনো কাগজপত্রে ঘাটতি বা আবেদনে ত্রুটি থাকলে তা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, অতীতে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট নিতে সেবাগ্রহীতাদের অনেক হয়রানির শিকার হতে হতো। এজন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে যেতে হতো এবং এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরতে হতো। সেবাগ্রহীতাদের এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতেই প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগে এসব সেবা পেতে দীর্ঘ সময় লাগত এবং মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার জন্য সময়সীমা কমিয়ে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

রাজউক চেয়ারম্যান জানান, নকশা অনুমোদন আগে থেকেই অনলাইনে দেওয়া হতো। তবে আগের সময়ে এর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল না। বর্তমানে কনস্ট্রাকশন পারমিট ও প্লানিং পারমিট অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটিতে আবেদন উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং বিষয়টি রাজউক মনিটর করছে।

আরও পড়ুন: ডিএমপির ট্রাফিক আইনে ২,৩৮৯ মামলা, অভিযান অব্যাহত

তিনি আরও জানান, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকেও অনলাইন সেবা নিয়ে ইতিবাচক ফিডব্যাক পাওয়া যাচ্ছে। তারা সেবা পাওয়ার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

রাজউক চেয়ারম্যান জানান, রাজউকের সব ধরনের সেবা ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে। দরপত্র, এস্টেট কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন) প্রকৌশলী নূর-ই-খোদা জানান, মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্লানিং পারমিটের জন্য জোন-১ এ ১ হাজার ৫৯টি, জোন-২ এ ৭৯৭টি, জোন-৩ এ ১ হাজার ৩০টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ৬৬৩টি, জোন-৫ এ ৫০৩টি, জোন-৬ এ ১ হাজার ১৭০টি, জোন-৭ এ ৪৮৩টি এবং জোন-৮ এ ৩৫০টি আবেদন জমা পড়েছে।

এসব আবেদনের মধ্যে জোন-১ এ ৮৭৮টি, জোন-২ এ ৫৮৯টি, জোন-৩ এ ৭৪১টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ৬০৯টি, জোন-৫ এ ৩০৫টি, জোন-৬ এ ৭৬৭টি, জোন-৭ এ ২২৮টি এবং জোন-৮ এ ২৭৬টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি আবেদনগুলো কাগজপত্রের ঘাটতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত কারণে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় পুলিশের ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৫৪৩ জন গ্রেপ্তার

একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জোন-১ এ ৭০৭টি, জোন-২ এ ৪১৩টি, জোন-৩ এ ৫২৬টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ১৮৯টি, জোন-৫ এ ২২৯টি, জোন-৬ এ ৪৬১টি, জোন-৭ এ ১৮৮টি এবং জোন-৮ এ ২১৭টি আবেদন জমা পড়ে।

এর মধ্যে জোন-১ এ ৪০১টি, জোন-২ এ ২২৫টি, জোন-৩ এ ৩৬৫টি, জোন-৪ এ ৭৫৩টি, জোন-৫ এ ৯৭টি, জোন-৬ এ ৪০৫টি, জোন-৭ এ ১৪৮টি এবং জোন-৮ এ ২০৬টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক জানান, যেসব আবেদনে ত্রুটি বা কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীর কাছে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আবেদনকারী ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় দাখিল করলে তা অনলাইনেই অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল করা হচ্ছে।

তবে রাজউকের পারমিট ব্যবস্থা অনলাইনে করা হলেও পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো ডিজিটাল হয়নি। নকশা অনুমোদনের পর ভবন নির্মাণকালীন তদারকির কাজ এখনও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের আগে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি সংগ্রহ করতে হয়।

আরও পড়ুন: মঙ্গলবার রাজধানীর কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, বসুন্ধরা সিটি ও নিউ মার্কেট বন্ধ

ফায়ার সার্ভিস, সিভিল এভিয়েশন এবং কেপিআইডিসিসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তি নিতে হয়। এসব সংস্থার অনেক ক্ষেত্রেই অনাপত্তিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনও ম্যানুয়াল। ফলে রাজউকের নিজস্ব অনুমোদন ব্যবস্থা অনলাইন হলেও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার কারণে পুরো অনুমোদন ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত গতি সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্লানিং পারমিট ও নকশা অনুমোদনের ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সালে। বিশ্বব্যাংকের আইএফসি অর্থায়নে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। প্রথমে শুধু জোন-৫, অর্থাৎ ধানমন্ডি এলাকায় ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু করা হয়। পরবর্তীতে রাজউকের আওতাধীন আটটি জোনে এ কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।

তিনি বলেন, ঢাকা আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের আওতায় ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম চালু হয়, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, প্লানিং পারমিট বা নকশা অনুমোদনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে ওয়ান উইন্ডো সেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একই ছাতার নিচে এনে সেবা দিতে পারলে অনুমোদনের সময় আরও কমবে এবং জনভোগান্তিও কমবে।

আরও পড়ুন: কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ, কারণ ক্রেতা সংকট

রাজউকের কর্মকর্তাদের মতে, তাদের আট জোনে পারমিট আবেদন ও অনুমোদন অনলাইনে হওয়ায় সেবাপ্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে। তবে পুরো ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে ‘ওয়ান-স্টপ’ সেবায় রূপ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার অনাপত্তি প্রদান, নির্মাণকালীন পরিদর্শন এবং অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা সম্ভব হলে ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময় ও জনভোগান্তি আরও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার: আন্তর্জাতিক ব্যবসার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ পি.এম


আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার: আন্তর্জাতিক ব্যবসার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য বিশ্ব অর্থনীতির সাথে সমন্বয় করে ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করছে।

বাজারে চাহিদামতো বৈদেশিক মুদ্রার জোগান থাকা সত্ত্বেও, গত কয়েক দিন ধরে ডলারের মূল্য ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং টাকার মান কমছে। কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ১২২ টাকা ৭০ পয়সা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (২৫ অক্টোবর ২০২৬) সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা

ইউরো : ১৩৮ টাকা ৫১ পয়সা

পাউন্ড : ১৬৫ টাকা ৩৪ পয়সা

কানাডিয়ান ডলার : ৮৮ টাকা ২৮ পয়সা

অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৯৬ পয়সা

চায়নিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ৫৪ পয়সা

সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৬ টাকা ৬৯ পয়সা

ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ৩০ পয়সা

মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ২৫ পয়সা

সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৯৪ পয়সা

কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৯৩ পয়সা

কুয়েতি দিনার : ৩৯৯ টাকা ৩৭ পয়সা

আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৬৫ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাস আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৬

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৪৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে। এ ছাড়া একজনকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৪০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৬ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, সুধারাম মডেল থানায় সাতজন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় আটজন, কবিরহাট থানায় চারজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় আটজন, সোনাইমুড়ী থানায় একজন, চাটখিল থানায় চারজন এবং চরজব্বর থানায় পাঁচজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাতিয়া থানায় আটক নয়জনের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল, একজনকে পরোয়ানামূলে আদালতে পাঠানো এবং তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের জন্য সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে জনসচেতনতামূলক এবং সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা ৭ দিন বন্ধের পর পুনরায় চালু হলো ইরান-পাকিস্তান সীমান্তপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


টানা ৭ দিন বন্ধের পর পুনরায় চালু হলো ইরান-পাকিস্তান সীমান্তপথ

পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে গাবদ-রিমদান সীমান্তপথ টানা সাত দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আবার শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আটকে থাকা এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ পেয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদনে রোববার (২৫ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটি অনুযায়ী, শনিবার সকালে পাকিস্তানের গোয়াদর এলাকার গাবদ-রিমদান সীমান্তপথ দিয়ে বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। ‘গেট ২৫০’ নামে পরিচিত সীমান্তপথে যেসব পণ্যবাহী ট্রাকের চালানপত্র ১৬ অক্টোবর বা তার আগে ইস্যু করা হয়েছিল, সেগুলোকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গোয়াদর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মীর নাভিদ জান কালমাতি সীমান্তে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার সকালে সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর আমদানি-রপ্তানির পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন দুই দেশের মধ্যে চলাচল করতে পারছে।

সীমান্তপথ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কালমাতি বলেন, বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়ায় সীমান্তের দুই পাশে আটকে থাকা ব্যবসায়ী ও পরিবহনকারীরা তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবেন। সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে পাকিস্তানজুড়ে এলপিজির সংকট কমতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে সপ্তাহের শুরুতে হামলার ঘটনার পর সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্থানীয় প্রশাসন। বাণিজ্যিক পণ্যবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পর শনিবার সীমান্তটি পুনরায় চালু করা হয়।

বৃহস্পতিবার অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা গাবদ-রিমদান সীমান্তের কাছে আটকে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোতে হামলা চালায়। এতে কয়েক ডজন ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং আরও কয়েকটি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গত ১৭ অক্টোবর থেকে ট্রাকগুলো সীমান্তে আটকে ছিল। ওই দিন পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গাবদ-রিমদান ও তাফতান—উভয় সীমান্তপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত করে। মন্ত্রণালয় একটি স্মারকলিপির মাধ্যমে ৩ অক্টোবর জারি করা বাণিজ্য আদেশও তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। তবে বাণিজ্য স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। তথ্যসূত্র: দ্য ডন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্দরে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


বন্দরে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে গুরুতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নবজাতকের বাবা হোসেন রয়েল অভিযোগ করে বলেছেন যে, তিনি ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসক ডা. ময়না বেগমের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। শনিবার দুপুরে আমিন আবাসিক এলাকার স্কুলঘাটসংলগ্ন ময়না ক্লিনিকে এই ঘটনাটি ঘটে।

হোসেন রয়েল অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২৩ অক্টোবর সকালে প্রসববেদনা শুরু হলে তাঁর স্ত্রীকে ময়না ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দুপুরের দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। জন্মের পর শিশুটি ক্রমাগত কাঁদতে থাকে, এই বিষয়টি চিকিৎসক ময়না বেগমকে জানানো হলে তিনি বলেন, শিশুটির কোনো সমস্যা নেই।

শনিবার সকালে শিশুটির কান্নার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসককে ফোন করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, চিকিৎসক ক্লিনিকে এসে শিশুটিকে দেখতে আসেননি। দায়িত্বরত নার্সদেরও ডাকা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি, এমনটাই দাবি করেন রয়েল।

রয়েল আরও জানান, শিশুর অবস্থার অবনতি হলে ময়না বেগমের পরামর্শ অনুযায়ী ঝাউতলা এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসককে না পেয়ে পুনরায় যোগাযোগ করলে তাঁকে ময়না বেগমের ব্যক্তিগত চেম্বারে এবং পরে ফরাজীকান্দা এলাকার আরেক চিকিৎসকের কাছে যেতে বলা হয়। কিন্তু কোথাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। পরে মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং জানান যে, শিশুটি প্রায় এক ঘণ্টা আগে মারা গেছে।

ময়না ক্লিনিকের কর্মকর্তা কাউছার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘শিশুটি মারা যাওয়ার আগে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। আমরা যথোপযুক্ত চিকিৎসা দিয়েছি। পরিবারকে মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার না দিতে বলা হয়েছিল। শিশুটির মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে।’

বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আলাউল কবির দিপু জানান, ‘সিভিল সার্জনের নির্দেশে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।’

বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%