১০:১৪ এম
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে রাসায়নিক কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। মাটির উর্বরতা হুমকির মুখে পড়েছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বারবার কীটনাশক প্রয়োগ করার পরও অনেক ক্ষেত্রে পোকামাকড় দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং মাটির উর্বরতা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার পাঙ্গাসী এলাকার কৃষক জাকারিয়া শেখ বলেন, "ধানের জমিতে পোকামাকড় দমনে একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এতে চাষের খরচ বাড়ছে, অথচ কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।" ধামাইনগরের কৃষক জিন্নাহ ফকির বলেন, "ফসল ভালো রাখতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে জমির মাটির আগের অবস্থা আছে কি না, তা নিয়ে চিন্তা হচ্ছে।" কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করা প্রয়োজন।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে মাটির উপকারী অণুজীব ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদি কীটনাশক জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে দেশি প্রজাতির মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে। এতে জীববৈচিত্র্য ও কৃষির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
আরও পড়ুন: রাজিবপুরে বাদামের বাম্পার ফলনের আশা, ৮৬৭ হেক্টর চাষের পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, কীটনাশকের অপরিকল্পিত ব্যবহার কমানোর জন্য কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কৃষিচর্চা নিশ্চিত করা আবশ্যক। অন্যথায় মাটির উর্বরতা, দেশি প্রজাতির মাছ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, "মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "জৈব সারের ব্যবহার, ফসল পর্যায়ক্রমে চাষ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন