শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২২ পি.এম
খাদ্য উৎপাদনে পরিমাণ বৃদ্ধির দিকে নজর না দিয়ে গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘বিশ্বজুড়ে খাদ্যের অভাবের চেয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যের অভাব বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। কৃষিপণ্যে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিপণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। সিস্টেম এমনভাবে করতে হবে যাতে তারা দাম ভালো পায় আবার কোয়ালিটিও নিশ্চিত হয়, সরকার এমন পরিকল্পনা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে সারা বছর ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। দেশের মাটিও কৃষির জন্য অত্যন্ত উর্বর। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যতটা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার কথা ছিল, দেশ ততটা হতে পারেনি। কৃষির নীতি ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোথাও ভুল থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সংশোধন করতে হবে।’
কৃষিপণ্যে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমিন উর রশিদ বলেন, ‘অনেক সবজিতে ফসল তোলার কয়েক দিন আগে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। অথচ ব্যবহৃত কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নিরাপদ মাত্রায় নেমে আসতে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। এভাবে উৎপাদিত খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে খাদ্যকে মানুষের অসুস্থতার কারণ হতে দেওয়া যাবে না। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষিত তরুণদের কৃষিতে ফিরে আসা আশাব্যঞ্জক। কৃষিকে লাভজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আরও তরুণ এ খাতে যুক্ত হবেন।’
কৃষিবিজ্ঞানীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সীমিত জমিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিপণ্যে জিনগত পরিবর্তন ছাড়াও উৎপাদনশীলতা ও মান বাড়ানোর বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় পুলিশ যখন হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করে, তখন নেহা বোরা প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন। তিনি বারবার ব্যারিকেড টপকে দৌড়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে এড়িয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন।
শেষ পর্যন্ত ২৯ বছর বয়সী নেহাকে পুলিশ টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলার পরও তিনি জানালা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। আটকের পর মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবার রাস্তায় নেমে আসেন, আর পুলিশ তাকে আবারো ধাওয়া করতে শুরু করে।
এই ছাত্রনেতার আপসহীন মনোভাব ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিক্ষোভ দমনে মোতায়েন করা শক্তি প্রদর্শনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
ভারতের ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ নামক যুব আন্দোলনের নেতারা যখন আটক হন এবং বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা যখন বাধাগ্রস্ত হয়, তখনও নেহা ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো রাজপথে চাপ অব্যাহত রেখেছে।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো নেহাকে জাতীয় পর্যায়ের বিরোধী রাজনীতির পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।
কখনো সোমবারে বিরোধী দলের এক সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ নেহাকে ঘিরে ফেলেছে। কখনো মঙ্গলবার তিনি কয়েক ডজন নেতার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই পুরুষ এবং বয়সে নেহার দ্বিগুণ। তার এই উত্থান ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং বিশেষ করে রাজধানীতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভেরই প্রতিফলন। বিশেষ করে রাজধানীতে এসব উদ্বেগ তীব্র। রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।
নরেন্দ্র মোদি নিজেকে একজন ‘শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন; একই সঙ্গে তিনি ভিন্নমত দমন করেছেন এবং আন্দোলনকারীদের কারাগারে পাঠিয়েছেন, যাদের অনেকেই বছরের পর বছর ধরে বিচার ছাড়াই কারাবন্দি রয়েছেন। মোদি যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন নেহার বয়স ছিল ১৭ বছর। ক্যাম্পাসের বামপন্থী রাজনীতিতে এক দশকের সক্রিয়তার সুবাদে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন।
টানা ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সম্পর্কে নেহা বলেন, “তারা গণতন্ত্রের সীমা নতুন করে নির্ধারণ করেছে, জবাবদিহিতার সীমা নতুন করে নির্ধারণ করেছে, এমনকি ভিন্নমত প্রকাশের সীমাও নতুন করে নির্ধারণ করেছে। যেহেতু তারা সবকিছুর সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছিল, তাই আসলে কী ঘটছিল, বা আমাদের জন্য তারা ঠিক কী ধরনের কৌশল বা ‘প্লেবুক’ তৈরি করছিল, তা বুঝতে আমাদের কিছুটা সময় লেগেছে।”
গত সপ্তাহান্তে তরুণদের বিভিন্ন সংগঠন ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় কারচুপি করে অন্যায্য নির্বাচনী সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তোলে এবং তাদের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়। পুলিশ এই বিক্ষোভকে অবৈধ ঘোষণা করে, নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকা অবরুদ্ধ করে এবং আয়োজকদের আটক করে। কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের জমায়েত ঠেকিয়ে দিলেও, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ছোট বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র সংগঠনগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিক্ষোভের বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং আন্দোলনটি যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, সেই আবহ বজায় রাখে।
মোদি-সমর্থিত ডানপন্থী দল বিজেপির আদর্শে বিশ্বাসী এক সামরিক পরিবারে বেড়ে ওঠা নেহা, ২০১৬ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন, যা তার পরিবারের ভেতরে মতপার্থক্যের সৃষ্টি করে।
তিনি ‘সাংওয়ারি’ নামের একটি পথনাট্য দলের সঙ্গে যুক্ত হন। এই দলটি বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নাটক পরিবেশন করত। পাশাপাশি অধ্যাপক ও কবিদের নিয়ে সামাজিক ন্যায়বিচারবিষয়ক আলোচনা আয়োজন করত। এই দল থেকেই নেহা গান গাওয়া, অভিনয় এবং রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার সঙ্গে যুক্ত হতে শেখেন। পাঁচ বছর আগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কৃষকদের এক বিক্ষোভে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় নেহা চা পান করছেন। সেখানে তাকে সাংবাদিকের অবজ্ঞাসূচক সুর এবং বারবার কথার মাঝে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বেশ বিরক্ত হতে দেখা যায়।
ক্যাম্পাসভিত্তিক সক্রিয়তা এবং দীর্ঘদিনের পথনাটকের অভিজ্ঞতা নেহাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপের মাধ্যমে শক্তিশালী শাসক এবং তার অনুসারীদের দ্বারা তাকে ‘দেবতুল্য’ করে তোলার প্রবণতাকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে আরও দক্ষ করে তুলেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ক্ষোভের মুখে, নেহা অন্যান্য ছাত্রনেতাদের সঙ্গে মিলে একটি অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেন। এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন ভারতের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। পুলিশ শুরুতে জোরপূর্বক এই অবস্থান কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হওয়ার পর মোদি নতি স্বীকার করেন এবং তার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। এই ঘটনাটি পুরো দেশের নজর কাড়ে এবং নেহাকেও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
বর্তমানে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিষয়ে ডক্টরেট গবেষণারত নেহা নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে প্রতিবাদ প্রদর্শনের জন্য সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ক্ষমতার একটি বিশাল প্রদর্শনী তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এর উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া। তবে এটাও সত্য এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, এই ক্ষমতাকে কেবল একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্তই সুসংহত রাখা সম্ভব।”
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ১৪ ঘণ্টা পর দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার সময় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা দুই পুলিশ সদস্য হলেন: ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান এবং কনস্টেবল রোহিত।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। এই সময় ব্রাহ্মণপাড়া থানায় নতুন যোগদান করা কনস্টেবল রোহিত পথ চিনতে না পেরে ধাওয়া করতে করতে এক মাদক কারবারির বাড়ির দিকে চলে যান। একপর্যায়ে তিনি ভুলবশত ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়লে তাকে আটক করে বিএসএফ। পরে কনস্টেবল রোহিতকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে এএসআই ইমরানকেও আটক করেন বিএসএফ সদস্যরা।
পরবর্তী সময়ে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্তবর্তী মেইন পিলারের কাছে বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এবং বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের মধ্যে কমান্ডার পর্যায়ে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে দুই পুলিশ সদস্যকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিজিবির পক্ষ থেকে তাদের বাংলাদেশ পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এর আগে কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল মাহবুব মোরশেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘যোগাযোগ চলছে, আমরা তাদের ফেরত পাব। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাদের আনহার্মড (অক্ষত) রাখা হয়েছে। তাদের ফেরত আনার বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে। গত ১১ অক্টোবর রাতে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে সবাই না ফেরার দেশে চলে যান।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্ট সার্জন (ইমার্জেন্সি) ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দগ্ধদের মধ্যে রোজিনা (৩০) গত বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এর পরদিন, বৃহস্পতিবার, মারা যান শরীফ (৩৪), যার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। একই দিনে মৃত্যু ঘটে রিয়াজ (২২) নামের এক যুবকের, যার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এছাড়া আজ শুক্রবার ১৯ বছর বয়সী রনি মারা যান, যার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার দুঃখ প্রকাশ করে জানান, সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ৪ জন রোগীকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত থেকে নতুন ১৮টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। প্রথম চালানে ১৮টি বগি এসেছে।
বাংলাদেশে প্রবেশের পর দর্শনা কাস্টমসে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে রেলকোচগুলো সৈয়দপুরের কারখানায় নিয়ে যাওয়া হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনে বগিগুলো প্রবেশ করে।
১২ অক্টোবর ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাপরতলা এলাকা থেকে ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচগুলো যাত্রা শুরু করে। এরপর কোচগুলো কলকাতার রানাঘাট স্টেশনে অবস্থান করে।
শুক্রবার দুপুরে রওনা দিয়ে ভারতের গেদে চেকপোস্টে আনুষ্ঠানিকতা শেষে চুয়াডাঙ্গা দর্শনা জয়নগর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর রেলওয়ে পাকশীর বিভাগীয় কর্মকর্তারা বগিগুলো বুঝে নেন।
বগিগুলো লাল সবুজ রঙে রাঙানো হয়েছে। এসি চেয়ার কোচ ৩টি, এসি বাথ, লাগেজ ভ্যান ও ১১টি শোভন চেয়ার কোচের বগি এসেছে।
কোচগুলো দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৈয়দপুরের রেলওয়ে নিজস্ব কারখানায় নিয়ে যাওয়া হবে। ২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রডগেজ রেলকোচ কেনার জন্য চুক্তি করে ভারতের রাইটস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে। সৈয়দপুর রেলওয়ের কারখানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রেলের বহরে যুক্ত হবে।
ভারতের রাইটস লিমিটেড নামের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলবগি সরবরাহ করছে বাংলাদেশে। ২০০টি কোচ সংগ্রহ করা হবে কয়েক ধাপে। বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে নতুন করে যুক্ত হবে কোচগুলো। পাকশী বিভাগের রেলওয়ে কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচগুলো গ্রহণ করেন। ভারত থেকে এখনও ১৮২টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলবগি দেশে আসবে।
স্থানীয়রা জানান, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। যাত্রী সেবার মান আগের চেয়ে কিছুটা হলেও এখন বাড়বে। পুরাতন যে বগিগুলো আছে সেগুলো মেরামত করে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে হবে। রেলের লোকসান কাটাতে নানামুখী উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ২০০ বগি দেশে আসলে রেলে অনেকটা পরিবর্তন আসবে। আমরা চাই দ্রুত বাকি বগিগুলো দেশে প্রবেশ করুক।
রেলওয়ে পাকশীর বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম জানান, ভারত থেকে আজকে ১৮টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বগিগুলো বিভিন্ন ক্যাটাগরির রয়েছে। যাত্রী সেবার মান বাড়াতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। পশ্চিম অঞ্চলের যাত্রী সেবার মান অনেক বেড়ে যাবে। রেলখাতের আয় বৃদ্ধি পাবে। বগিগুলো মানসম্মত ও উন্নত মানের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ