ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আমেরিকা প্রবাসী নিখোঁজ হারুনুর রশিদের সন্ধান চেয়ে ঢাকায় পরিবারের সংবাদ সম্মেলন


আমেরিকা প্রবাসী নিখোঁজ হারুনুর রশিদের সন্ধান চেয়ে ঢাকায় পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের সন্ধান চেয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে।

সংবাদ সম্মেলনে হারুনুর রশিদের বড় মেয়ে রিতা আক্তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় তার মা শরিফা খানম, আবুল হোসেন ভূঁইয়া, মাওলানা ফিরোজ আশরাফী, মো. মঈন খান, ফয়জুল ইসলাম রিফাত, আবদুল্লাহ আল মামুন, এডভোকেট এমদাদ হোসেন, মো. কামরুল ইসলাম ও সোহেল মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন মাবকল্যাণ সংস্থার সভাপতি প্রিন্সিপাল শফিউল্লাহ মিয়া।

লিখিত বক্তব্যে রিতা আক্তার জানান, "আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সাথে জানাচ্ছি, আমাদের পরিবারের একমাত্র অভিভাবক আমার বাবা আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের অপেক্ষায় আছি। দীর্ঘদিন ধরে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে আমরা চরম মানসিক যন্ত্রণা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা আমাদের বাবার সন্ধান চাই। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, দয়া করে আমার বাবাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন। আমার বাবা কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নন, তিনি একজন আমেরিকা প্রবাসী। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিলে আমরা আমাদের বাবাকে ফিরে পাবো। বিমানবন্দর থানার সিসিটিভির ফুটেজ ধরে অগ্রসর হলে তার সন্ধান অনেক সহজ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।"

আরও পড়ুন: আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা-ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন

তিনি আরও জানান, "২০১৫ সাল থেকে আমরা সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছি। পারিবারিক প্রয়োজন, ছুটি এবং ব্যক্তিগত কাজের কারণে আমরা নিয়মিত বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করি। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আমার বাবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টায় এসে পৌঁছান। সে সময় আমার মা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। আমি আগে থেকেই ঢাকায় আমাদের ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলাম। বাবা দেশে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই তিনি ঢাকার বাসায় কিংবা গ্রামের বাড়িতে যাবেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ঢাকার বাসায় কিংবা গ্রামের বাড়িতেও পৌঁছাননি। তাঁর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ পরিস্থিতিতে আমার মা গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে আসেন এবং দেশে ফিরে তিনিও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা বাবার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পেয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।"

জিডির সূত্র ধরে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে বাবার বিমানবন্দরে অবতরণ, ইমিগ্রেশন কার্যক্রম এবং বাইরে বের হওয়ার দৃশ্য সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। ফুটেজে বিমানবন্দর থেকে বাবাকে গ্রহণ করতে আসা কয়েকজন ব্যক্তিকেও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন চাইলে প্রাপ্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে মো. সাগর, শাহিদা আক্তার স্বাথী ও রুসি আক্তারের যোগাযোগের বিষয়টি ধরে অগ্রসর হলে, ১০ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার কলাবাগান ও ধানমন্ডি এলাকায় শাহ আলমের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানাচ্ছি।

আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে কয়েকটি দাবি জানাচ্ছি। ১. নিখোঁজ হারুনুর রশিদের সন্ধানে অবিলম্বে কার্যকর ও সমন্বিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা। ২. বিমানবন্দর থানায় করা সাধারণ ডায়েরিটি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা। ৩. বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত তথ্য, প্রাসঙ্গিক মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করলে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সহজ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় সর্বনিম্ন বেতন ২ হাজার রিঙ্গিত, উপকৃত হবেন প্রবাসীরাও

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেন্টাগনের হিসাব: ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের সংখ্যা ২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


পেন্টাগনের হিসাব: ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের সংখ্যা ২১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন সামরিক সদস্যদের মৃত্যুর সংখ্যা সংশোধন করে ২১-এ উন্নীত করেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬৫ জনে। ৯ অক্টোবর পেন্টাগনের প্রকাশ্য হতাহত-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার হালনাগাদ হওয়ার পর ১০ অক্টোবর এই তথ্য প্রকাশিত হয়।

সংশোধিত হিসাবের মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন দুজন সামরিক সদস্য, যাদের মৃত্যু সরাসরি যুদ্ধের আঘাতে হয়নি। তাদের একজন হলেন নিউইয়র্ক আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের মেজর সরফ্লাই ডেভিয়াস, যিনি গত ৬ মার্চ কুয়েতে দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থায় মারা যান। অন্যজন হলেন নৌবাহিনীর একজন তালিকাভুক্ত সদস্য, যার মৃত্যু সেপ্টেম্বর মাসে আত্মহত্যাজনিত। তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

আগে কেন বাদ পড়েছিল মৃত্যুর তথ্য?

পেন্টাগনের হতাহত-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যভান্ডারের নাম ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিসিএএস)। এই ব্যবস্থায় ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর হিসাব সংশোধনের পর মোট সংখ্যা ২১ হয়েছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট গত মাসে জানিয়েছিল, সরকারি তথ্যভান্ডারে যতজনের মৃত্যুর কথা প্রকাশ করা হচ্ছিল, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে বেশি হতে পারে। ছয়জন মার্কিন কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমটি এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সে সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। পরে পেন্টাগনের সরকারি হিসাব সংশোধন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ অক্টোবরের হালনাগাদের আগে ডিসিএএসের তথ্য সর্বশেষ সংশোধন করা হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। ফলে নতুন করে যুক্ত হওয়া মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে সরকারি হিসাবের যথার্থতা ও হালনাগাদের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আহত ৮৬৫ জন, হিসাবেও পরিবর্তন

পেন্টাগনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট অভিযানে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা ৮৬৫। তবে যুদ্ধের সময় আহত ও নিহতদের হিসাব কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে, তা নিয়েও আগে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শুরুর দিকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ অবস্থায় পেন্টাগন পরবর্তী সময়ের কিছু হতাহতের ঘটনা আগের অভিযানের নামের অধীনে না রেখে ‘ওভারসিজ কনটিনজেন্সি অপারেশনস’ নামে পৃথক শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে।

এতে যুদ্ধের সামগ্রিক মানবিক মূল্য নিরূপণ করা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আইনপ্রণেতাদের জন্যও কঠিন হয়ে পড়ে। শ্রেণিবিন্যাসের এই পরিবর্তন সরকারি হিসাবের পূর্ণতা বোঝার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মোট মৃত্যু ২২, তবে একটি ঘটনা ইরান যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত নয়।

পেন্টাগন আরও একজন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য স্বীকার করেছে। সার্জেন্ট ডেভিন এ. সিবেল মে মাসে ইরাকে একটি প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনায় মারা যান। তবে তাঁর মৃত্যু ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; সরকারি হিসাবে তাঁকে ইসলামিক স্টেটবিরোধী দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই মৃত্যুসহ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সদস্যের মোট মৃত্যুসংখ্যা ২২। তবে এ সংখ্যার মধ্যে ইরান যুদ্ধসংশ্লিষ্ট ২১ জনের পাশাপাশি পৃথক প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনায় নিহত ওই সেনাসদস্যও রয়েছেন। তাই যুদ্ধসংশ্লিষ্ট মৃত্যু এবং ওই সময়কালে অঞ্চলে ঘটে যাওয়া সব সামরিক মৃত্যুকে একই হিসাব হিসেবে দেখলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের সমালোচনা

হতাহতের হিসাব সংশোধনের পর প্রতিনিধি পরিষদের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির দুই শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ ও ক্রিসি হুলাহান সংশোধনকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলেন, এত বড় ধরনের ভুল সংশোধনের জন্য কংগ্রেসকে হস্তক্ষেপ করতে হওয়া সামরিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিব্রতকর।

অন্যদিকে, পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামরিক সদস্যদের হতাহতের তথ্য স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে প্রকাশে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দপ্তরটি আরও জানিয়েছে, হিসাবের অনিষ্পন্ন ঘটনাগুলো পর্যালোচনার জন্য ‘পেন্ডিং অ্যাডজুডিকেশন’ নামে নতুন একটি শ্রেণি যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যেসব মৃত্যুর ঘটনা বা শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলো আলাদাভাবে পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।

যুদ্ধের প্রকৃত মূল্য নিরূপণে স্বচ্ছতার গুরুত্ব।

যুদ্ধে হতাহতের হিসাব কেবল পরিসংখ্যান নয়; এটি সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা, তাঁদের পরিবারের অধিকার, সরকারি জবাবদিহি এবং যুদ্ধের সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। মৃত্যুর কারণ, আহতের সংখ্যা এবং বিভিন্ন অভিযানের অধীনে হতাহতের শ্রেণিবিন্যাসে অসংগতি থাকলে যুদ্ধের প্রকৃত মানবিক মূল্য নিরূপণ কঠিন হয়ে পড়ে।

ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সরকারি হিসাব সংশোধনের ঘটনা তাই শুধু সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয় নয়; বরং সামরিক হতাহতের তথ্য সংগ্রহ, শ্রেণিবিন্যাস ও প্রকাশের পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। পেন্টাগন হিসাব আরও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন তথ্য যুক্ত হলে সরকারি সংখ্যায় আবারও পরিবর্তন আসতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, টাস্ক অ্যান্ড পারপাস ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে যাত্রীদের অনুরোধ : হুথির সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


সৌদি বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে যাত্রীদের অনুরোধ : হুথির সতর্কবার্তা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করার জন্য। এই সতর্কবার্তা গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেওয়া হয়েছে।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ সতর্কবার্তা প্রদান করেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমায় হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের বাহিনীর রয়েছে। তবে, তিনি জানান যে মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর এ হামলার হুমকির আওতার বাইরে থাকবে।

ইয়াহিয়া সারি বিমান সংস্থা, নৌপরিবহন সংস্থা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও যাত্রীদের সতর্কবার্তাটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

তিনি আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে এর দায় দেশটির সরকারকে নিতে হবে।

হুথিদের সামরিক বাহিনী জানায়, নিজেদের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘোষিত অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

বিমানবন্দরে হামলার জবাবে তারা বিমানবন্দরে হামলা, অবরোধের জবাবে অবরোধ এবং উত্তেজনা বাড়লে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার নীতি অনুসরণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মারুবেনি করপোরেশনের বিনিয়োগ আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মারুবেনি করপোরেশনের বিনিয়োগ আলোচনা

জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি কর্পোরেশন বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে, প্রতিষ্ঠানটি দেশে দ্বিতীয় একটি কাফকো স্থাপনের ব্যাপারেও আগ্রহী রয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মারুবেনি কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোটোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

এ সময় আলোচনাকালে মারুবেনি তাদের আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

বৈঠকে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশে দ্বিতীয় একটি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি মারুবেনি কর্পোরেশনকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "মারুবেনি কর্পোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।" তিনি এ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া, বাংলাদেশের প্রকৌশল স্নাতকদের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় আরও দক্ষ করে তোলার সরকারি পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক সেবার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।"

বৈঠকে আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার চালুর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রকল্পে মারুবেনি কর্পোরেশনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে মারুবেনির বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে উভয়পক্ষ আলোচনা করে।

এছাড়াও, সার উৎপাদন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে বৈঠকে কাফকোতে মারুবেনি কর্পোরেশনের বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ উঠে আসে। একই সঙ্গে দেশে দ্বিতীয় একটি কাফকো স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে মারুবেনি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

মারুবেনি কর্পোরেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসুমু ওয়াকামোরি এবং বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি হেড মানাবু সুগাওয়ারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেসবুক পোস্টের জেরে কুষ্টিয়ায় স্বজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করল শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


ফেসবুক পোস্টের জেরে কুষ্টিয়ায় স্বজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করল শিক্ষার্থীরা

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর পর ফেসবুকে প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাসপাতাল চত্বরে ঘটে যাওয়া এই হামলায় গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। হামলার সময় ভুক্তভোগীদের একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর এলাকার রহমত আলীর ছেলে সোহেল ও সোহাগ এই হামলার শিকার হন। সোহেলের ছেলে গত এক সপ্তাহ ধরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় সোহেল হাসপাতালে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী তাকে 'দালাল' আখ্যা দিয়ে ঘিরে ধরে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে। এ সময় তার ছোট ভাই সোহাগ তাকে বাঁচাতে গেলে শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসে।

আত্মরক্ষার্থে সোহাগ হাসপাতালের বাইরে গিয়ে একটি ডাবের দোকান থেকে হাসুয়া নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মারধরে সোহেল জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তার অসুস্থ শিশু সন্তানকেও হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেয় পরিবার।

হামলার মূল কারণ হিসেবে একটি ফেসবুক পোস্টের কথা উল্লেখ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করেছিল শিক্ষার্থীরা। সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন সোহাগ ও সোহেল। ভুক্তভোগী সোহাগের স্ত্রী মারিয়া এবং মা চম্পা খাতুনের অভিযোগ, শনিবার হাসপাতালে ঢোকার পরই জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে 'তুই পোস্ট করলি কেন' বলে গালিগালাজ করতে করতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাদের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে মোবাইল উদ্ধার হলেও মোটরসাইকেলটির সন্ধান এখনো মেলেনি।

এই ঘটনার পর মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন সহায়তা কেন্দ্রের (আসক) কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি তানভীর আহমেদ রয়েল এবং স্থানীয় বাসিন্দা টিটু জানান, মেডিকেল কলেজ চালুর পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একাংশের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। সিভিল সার্জনকে আগে অবহিত করা হলেও কোনো সুফল মেলেনি।

সার্বিক বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ওই ব্যক্তিদের 'দালাল' সন্দেহে মারধর করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল ইসলাম দাবি করেন, ঘটনাটি মূলত বহিরাগতদের দ্বারা এক চোরকে মারধর এবং পরবর্তীতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের জেরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা। তবে বর্তমানে হাসপাতাল ক্যাম্পাস পুলিশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%