০৪:০৮ পি.এম
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর পর ফেসবুকে প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাসপাতাল চত্বরে ঘটে যাওয়া এই হামলায় গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। হামলার সময় ভুক্তভোগীদের একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর এলাকার রহমত আলীর ছেলে সোহেল ও সোহাগ এই হামলার শিকার হন। সোহেলের ছেলে গত এক সপ্তাহ ধরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় সোহেল হাসপাতালে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী তাকে 'দালাল' আখ্যা দিয়ে ঘিরে ধরে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে। এ সময় তার ছোট ভাই সোহাগ তাকে বাঁচাতে গেলে শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসে।
আরও পড়ুন: বিএনপি মতাদর্শীকে সরিয়ে আওয়ামী মতাদর্শীকে সংযুক্ত
আত্মরক্ষার্থে সোহাগ হাসপাতালের বাইরে গিয়ে একটি ডাবের দোকান থেকে হাসুয়া নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মারধরে সোহেল জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তার অসুস্থ শিশু সন্তানকেও হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেয় পরিবার।
হামলার মূল কারণ হিসেবে একটি ফেসবুক পোস্টের কথা উল্লেখ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করেছিল শিক্ষার্থীরা। সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন সোহাগ ও সোহেল। ভুক্তভোগী সোহাগের স্ত্রী মারিয়া এবং মা চম্পা খাতুনের অভিযোগ, শনিবার হাসপাতালে ঢোকার পরই জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে 'তুই পোস্ট করলি কেন' বলে গালিগালাজ করতে করতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাদের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে মোবাইল উদ্ধার হলেও মোটরসাইকেলটির সন্ধান এখনো মেলেনি।
এই ঘটনার পর মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন সহায়তা কেন্দ্রের (আসক) কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি তানভীর আহমেদ রয়েল এবং স্থানীয় বাসিন্দা টিটু জানান, মেডিকেল কলেজ চালুর পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একাংশের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। সিভিল সার্জনকে আগে অবহিত করা হলেও কোনো সুফল মেলেনি।
সার্বিক বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ওই ব্যক্তিদের 'দালাল' সন্দেহে মারধর করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যেমন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পাশে ছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তাঁরা পাশে ছিলেন : প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল ইসলাম দাবি করেন, ঘটনাটি মূলত বহিরাগতদের দ্বারা এক চোরকে মারধর এবং পরবর্তীতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের জেরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা। তবে বর্তমানে হাসপাতাল ক্যাম্পাস পুলিশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন