প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সদরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত বছরেও শেষ হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী, ১৮ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে দীর্ঘসূত্রতা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং বারবার কাজ বন্ধ থাকার কারণে প্রকল্পটি এখনো অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। মেসার্স মঈনউদ্দিন এন্টারপ্রাইজ প্রায় ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায়। কিন্তু ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। এরপর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেলে অবশিষ্ট কাজের জন্য নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে।
নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু হলেও নির্মাণের গতি এখনও ধীর। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ১৫ দিন কাজ বন্ধ থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়নি।
হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহ জানিয়েছেন, কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে কাজের গতি কিছুটা ধীর হলেও ২০২৭ সালের মার্চে প্রকল্পটি হস্তান্তরের কথা রয়েছে। তিনি আরও জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মাত্র তিন-চার মাস আগে। তাই আগের ঠিকাদারের কাজের অগ্রগতি ও নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার বিষয়ে বিস্তারিত জানার সুযোগ হয়নি।
এদিকে, প্রকল্পটির নির্মাণমান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের দাবি, রড, সিমেন্ট, বালু ও পাথরসহ ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই এবং প্রকৌশলীদের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি অর্থে নির্মিত এ স্থাপনার কাজ যেন টেকসই ও নিরাপদ হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ছাবু মিয়া মন্তব্য করেন, “যে কাজ দেড় বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, সেটি সাত বছরেও শেষ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বারবার কাজ বন্ধ হওয়ার কারণ জনগণের সামনে পরিষ্কার করা দরকার। পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।”
অন্য এক বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, “ঠিকাদার পরিবর্তন হয়েছে, সময়ও পেরিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, কাজটি দ্রুত শেষ করে মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হোক।”
বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা মো. হেমায়েত হোসেন জানান, তারা দুজন যৌথভাবে প্রকল্পটির কাজ পরিচালনা করছেন। তার দাবি, নির্মাণে গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক ছুটিতে থাকায় কাজের গতি কমেছিল। শ্রমিকেরা কাজে ফিরলে পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামিক লাইব্রেরি, ইমাম প্রশিক্ষণ, হজ নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, হেফজখানা এবং কোরআন শিক্ষাসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ইতোমধ্যে উদ্বোধন করা হলেও বাহুবলের প্রকল্পটি এখনো অসমাপ্ত।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১৮ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকা প্রকল্পের কাজ সাত বছরেও কেন শেষ হলো না? নির্মাণকাজ বারবার বন্ধ হওয়ার কারণ কী এবং আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? তাদের দাবি, প্রকল্পের ব্যয়, কাজের অগ্রগতি ও নির্মাণমান নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন