রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৯ পি.এম
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বশিরের দখলি জমিতে থাকা টিনের সীমানা প্রাচীর জোরপূর্বক ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার লেবুবুনিয়া গ্রামের নুরুজ্জামান (জামাল) আকনের ছেলে মো. আলামিন আকনের বিরুদ্ধে এই আইনবহির্ভূত কাজের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কাঠালিয়া উপজেলার লেবুবুনিয়া মৌজার ১৮৬ নং খতিয়ান এবং ০৭ নং দাগে অবস্থিত ১২.৭৬ শতাংশ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ঘর তুলে ও টিনের দেওয়াল দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত সুলতান আহম্মেদ খানের ছেলে ও বটতলা ক্যাডেট মাদ্রাসার নির্ধারিত স্থানের জমির মালিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বশির।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিবাদী মো. আলামিন আকন দলবল নিয়ে বেআইনিভাবে ওই জমিতে গিয়ে বাদানবাদে জড়ান। একপর্যায়ে তিনি জাহিদুল ইসলাম বশিরের বসতঘরের টিনের দেওয়াল ও সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেন এবং জোরপূর্বক জমিতে অনুপ্রবেশ করেন।
ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম বশির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আলামিন আকন বেআইনিভাবে আমার দখলি জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে অনুপ্রবেশ করেছে এবং আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে। আমি এর বিচার চাই এবং এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলামিন আকনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকার সচেতন মহল তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে (বেরোবি) চার শিক্ষক পেলো নতুন দায়িত্ব এর মধ্যে তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আবাসিক হলের প্রভোস্ট এবং একজনকে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে তাদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। অফিস আদেশ অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন দায়িত্ব কার্যকর হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আল-রশীদকে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ.টি.এম. জিন্নাতুল বাশারকে শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মহসিনা আহসানকে শহিদ ফেলানী হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি ওই পদ থেকে তার পদত্যাগের বিষয়টি মো. মাসুদ রানা নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা নিজ নিজ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এরই ধারাবাহিকতায় নগরীর বেলস পার্ক এলাকায় সাঁড়াশি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার অলক কান্তি শর্মা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম। অভিযানে কোতোয়ালি মডেল থানার একাধিক পুলিশ সদস্য অংশ নেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও গতিশীল করার অংশ হিসেবে বেলস পার্ক এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সন্ধ্যার পর জনসমাগমপূর্ণ এ এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের ঘোষণা দেন। এরপর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, মাদক সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা এবং নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম *তালাশ বিডিকে* বলেন, “পুলিশ কমিশনার স্যারের কঠোর নির্দেশনার পর বরিশাল নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে অনেকে আটক হয়েছেন। মাদক সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, নগরীর কোথাও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বেলস পার্কসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী পুলিশের এমন তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে মাদকের উৎস, সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীতে মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের চলমান তৎপরতা অব্যাহত থাকলে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
বরিশাল নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বাস্তবায়নে কোতোয়ালি মডেল থানার এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. আব্দুল কাইয়ুম নামের এক অভিভাবক। তিনি সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর ছেলে মোত্তাকিন মো. আদনান মুছাপুর আজগর হাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগে আব্দুল কাইয়ুম উল্লেখ করেন, তাঁর ছেলে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল মুনসুর মোল্লার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে তিনি ও অন্যান্য অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়টি এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের অভিযোগ অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়ে অনাস্থা সৃষ্টি হতে পারে।
অভিভাবকের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আবুল মুনসুর মোল্লা দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে তাঁর প্রভাব ও কর্তৃত্ব বেড়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। ফলে অনেক অভিভাবক বিষয়টি নিয়ে সরাসরি অভিযোগ করতে ভয় পান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় অভিযোগটির গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও ভয়মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল মুনসুর মোল্লার বক্তব্য জানা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ