সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৩ পি.এম
"নদী, জীবন ও জীবিকার অধিকার, মানুষের কণ্ঠে টেকসই আগামীর অঙ্গীকার" এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর বারনই নদীপাড়ে "নদীপাড়ের মানুষের মুখে নদী কথা: জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা এবং করণীয়" শীর্ষক একটি কমিউনিটি নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় নওহাটা বাজারসংলগ্ন বারনই নদীপাড়ে নওহাটা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, বারসিক, গ্রিন কোয়ালিশন ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নদীপাড়ের মানুষের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় জ্ঞানকে ভিত্তি করে নদী ব্যবস্থাপনায় নীতিগত অগ্রাধিকার, নির্দিষ্ট দাবি এবং বাস্তবায়নযোগ্য করণীয় নির্ধারণ করা।
কমিউনিটি নদী সংলাপের মাধ্যমে নদীর অধিকার ও নদীনির্ভর মানুষের অধিকারকে একই কাঠামোয় আনার পাশাপাশি স্থানীয় নারী ও জনগণের অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক করার আহ্বান জানানো হয়। নদী রক্ষায় প্রকল্পকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে সমন্বিত নদী শাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। নওহাটা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি সচীন হালদারের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, "নদী বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি, মৎস্য, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। নদীর পরিবর্তন শুধু পানি বা নাব্যতার পরিবর্তন নয়; এর সঙ্গে মানুষের পেশা, আয়, খাদ্য, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সরাসরি যুক্ত। নদীপাড়ের মানুষ নদীর প্রবাহ, মাছ, নৌচলাচল, পানি, নদীতীর, জলাভূমি ও জীবিকার দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তাই বৈজ্ঞানিক তথ্যের পাশাপাশি তাদের অভিজ্ঞতা, অধিকার ও প্রত্যাশাকে নদী নীতির অংশ করা জরুরি।"
নদীপাড়ের চিত্তরঞ্জন হালদার বলেন, "এই পানি দিয়ে আগে আমরা ভাত, ডাল রান্না করে খেয়েছি।" তিনি তার হাতের ঘা দেখিয়ে বলেন, "এখন এই পানি গায়ে লাগলেই চুলকানি শুরু হয়ে যায় এবং ঘা হয়ে যায়।" নুজু হালদার বলেন, "প্রতিবছর আশ্বিন-কার্তিক মাসে শহরের দূষিত পানি নদীতে ছাড়া হয় আর তখনই নদীর মাছ মরে ভেসে উঠে। এবছরও এখানে পানি ছাড়ার পর বারনই নদীতে মাছ মরা শুরু হয়েছিল।"
পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, "নদীকে শুধু পানি প্রবাহের পথ হিসেবে নয়, একটি জীবন্ত প্রতিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের নদীগুলোর জন্য সমন্বিত নদী পুনরুদ্ধার কর্মসূচি গ্রহণ এবং নদী ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। নদীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষের অভিজ্ঞতা, বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ভিত্তিতে।"
নৃবিজ্ঞানী ও পরিবেশ আইন গবেষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "নদী ব্যবস্থাপনায় নদীনির্ভর মানুষের স্থানীয় জ্ঞান ও প্রথাগত অধিকারকে স্বীকৃতি না দিলে কার্যকর নদী শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নদী দখল, দূষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি তথ্যের স্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।"
সামাজিক ও কৃষক আন্দোলনের নেতা মাহমুদ জামাল কাদেরী বলেন, "নদী রক্ষায় বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নয়, নদীর প্রবাহ, জলাভূমি, প্রাণবৈচিত্র্য ও নদীনির্ভর মানুষের অধিকারকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রয়োজন। নদী রক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিদ্যমান আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকলেও মূল প্রয়োজন হলো সমন্বিত বাস্তবায়ন। নদী সুরক্ষাকে জনঅংশগ্রহণ, জীবিকা সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির সমন্বিত বিষয় হিসেবে দেখতে হবে।"
গ্রিন কোয়ালিশন, পবা উপজেলার সভাপতি রহিমা খাতুন বলেন, "নদীর সংকট শুধু নদীর পাড়ের মানুষের সমস্যা নয়; এর প্রভাব কৃষি, খাদ্য, আয় ও স্থানীয় জীবনের ওপর পড়ে। নদী রক্ষার পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী, কৃষক, মৎস্যজীবী ও তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণকে শুধু নদী রক্ষার কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী নয়, নদী ব্যবস্থাপনার অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।"
সংলাপ থেকে ১০ দফা নীতিগত দাবি উপস্থাপন করা হয়। সংলাপে বারনই নদী ও সংযুক্ত জলপ্রবাহের পাশাপাশি পদ্মা/গঙ্গাসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের নদীগুলোর জন্য ১০ দফা নীতিগত দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো- বারনই ও সংযুক্ত নদীগুলোর সমন্বিত মানচিত্র তৈরি করতে হবে; নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও সংযোগ সুরক্ষায় বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন করতে হবে; দূষণের উৎস চিহ্নিত করে উৎসেই দূষণ বন্ধ করতে হবে; নদী ও তীরের অবৈধ দখল শনাক্ত করে সময়বদ্ধ ব্যবস্থা নিতে হবে; নদী পুনরুদ্ধারকে শুধু খনন নয়, পূর্ণাঙ্গ ইকোলজিকাল রিস্টোরেশন হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে; নদী প্রকল্পের আগে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে; নদীনির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে; স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের অংশ করতে হবে; বারনই ও সংযুক্ত নদীগুলোর জন্য কমিউনিটি নদী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে; নদী-সংক্রান্ত তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে; সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে; নিয়মিত কমিউনিটি নদী সংলাপ/গণশুনানীর ও সময়বদ্ধ নদী কর্মপরিকল্পনা এর মাধ্যমে অগ্রগতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ঈশ্বরদী আদিবাসী পল্লীতে একটি সময় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। যেখানে পাঠদানের পাশাপাশি নিজস্ব ভাষার চর্চা করা হতো। তবে, সেটি এক দশক আগে বন্ধ হয়ে গেছে। পুরানো স্কুলের ভবন, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও খেলার মাঠ সবই আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভাব রয়েছে। স্কুলের দরজায় তালা ঝুলছে। যে স্কুল চত্বর এক সময় শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত ছিল, সেখানে এখন নীরবতা বিরাজ করছে। এই এলাকার আদিবাসী শিশুরা শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক অভাব, অনটন, সামাজিক বৈষম্য, অসচেতনতা ও কুসংস্কারের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, এ উপজেলায় পাঁচ হাজার আদিবাসী বসবাস করেন। এদের মধ্যে দাশুড়িয়া ইউনিয়নের মারমী গ্রামে মাল পাহাড়িয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা বেশি বসবাস করে। এই পল্লীর শিশুদের জন্য কোনো নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তাদের নিজস্ব মালপাহাড়ি ভাষার শিক্ষা ও চর্চার ব্যবস্থা নেই। শিশুদের পার্শ্ববর্তী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে এক থেকে দেড় কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। অনেক শিশু দূরের পথ পাড়ি দিতে চায় না, ফলে তারা শিক্ষাবিমুখ হয়ে পড়ছে। মারমী আদিবাসী পল্লীতে ১৯৩২ সালে শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটি স্থানীয়দের সহায়তায় নির্মিত হয়। পরবর্তীতে এখানে পাকা অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। তবে, ২০১৬ সালে আর্থিক সংকটের কারণে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দারা জানান, স্কুলটিতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। এখানে পাঠদানের পাশাপাশি আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা মালপাহাড়ির চর্চা হতো। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হলেও অর্থাভাবে ২০১৬ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন আদিবাসী পল্লীর অনেক শিশু স্কুলে যায় না, তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে মাঠে কাজ করে। কিছু ছেলে-মেয়ে হেঁটে এক-দেড় কিলোমিটার দূরের স্কুলে গেলেও তাদের কষ্টের শেষ নেই।
মারমী গ্রামের আদিবাসী অমিত বিশ্বাস বলেন, "এক সময় আমি ও আমার বোন এ স্কুলে পড়াশোনা করেছি। আর্থিক সংকটে এটি এখন বন্ধ। আমাদের এলাকার শিশুরা এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে পাশের গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। শিশুরা অনেকেই দূরের স্কুলে যেতে চায় না। তারা মা-বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যাচ্ছে।"
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ থেকে অনার্স পাস করেছেন মারমী আদিবাসী পল্লীর সঞ্জিত দাস। তিনি বলেন, "আমিসহ এ পল্লীর শিশুরা এক সময় নিজ এলাকার স্কুলে পড়তাম। পরবর্তীতে আর্থিক সংকটের কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন পাশের গ্রামের স্কুলে এ এলাকার কিছু শিশু পড়াশোনা করে।"
মারমী আদিবাসী পল্লীর যুবক সমর বিশ্বাস বর্তমানে ঈশ্বরদী প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে মাঠ সমন্বয়কের চাকরি করছেন। তিনি বলেন, "আদিবাসী পল্লীর এ শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনার হাতেখড়ি হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করে বিএসএস পাস করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটি আদিবাসী পল্লীতে ছিল বলেই আমরা পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলাম। এখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে পরে আরও শিক্ষার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু এ শিশুশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা শঙ্কিত। কারণ এখনো আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষা নেওয়ার হার অত্যন্ত কম। নিজ পল্লীতে স্কুল থাকায় বেশির ভাগ শিশুই স্কুলে আসতো। কিন্তু এখন দূরের স্কুলে সবাই যেতে চায় না। অভিভাবকরাও শিশুদের দূরের স্কুলে না পাঠিয়ে সঙ্গে করে কাজে নিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে এভাবে চলতে থাকলে শিশুরা লেখাপড়া থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় সিঁড়ি থেকে পড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘটেছে। নিহত গৃহবধূর নাম উম্মে সাফি (৫২)। তিনি আলমপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকার আফজাল হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার দুপুরে গৃহবধূটি নিজ বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান। এই ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে কর্তরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিহত গৃহবধূ ও তার স্বামীর মধ্যে কিছুদিন ধরে পারিবারিক ঝামেলা চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের কারণে মাথা ঘুরে সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার ফলেই তার মৃত্যু হতে পারে।
ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমান জানিয়েছেন, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে পাবনার চাটমোহরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের প্রতিযোগিতা ও পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়। এই দিন দুপুরে অনুষ্ঠিত পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ।
অনুষ্ঠানটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শফিউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, একক অভিনয়, সঙ্গীতসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিজয়ীদের পুরুস্কৃত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল গণি, একাডেমিক সুপারভাইজার গোলাম মোস্তফা, দৈনিক আমাদের বড়াল সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হেলালুর রহমান জুয়েল, চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোঃ জিয়ারুল হক সিন্টু, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফুলচাদ হোসেন শামীম, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুদ রানা, জাসাস উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক আলী আহমেদ, প্রধান শিক্ষক আরকেএম আঃ রব মিঞা, প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সোনালী আঁশ আবারও সোনালী স্বপ্নের আলো দেখাতে শুরু করেছে। পাটের সুদিন ফিরে এসেছে। কৃষকরা পাটের বাম্পার ফলন এবং ভালো দামের জন্য খুশি। হাট-বাজারে পাট সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের আশা, সোনালী আঁশ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করবে।
চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের হাট-বাজারে পাট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকা মণ। গত বছরের সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা। চাটমোহরের হাট-বাজারে নতুন পাটের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার অমৃতকুন্ডা হাটে পাট বিক্রি হয়েছে ৪৪০০ টাকা মণ দরে।
চাটমোহর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে এবারে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৯০০ হেক্টর, কিন্তু আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর। বিঘাপ্রতি ফলনও ভালো। হাট-বাজারে নতুন পাটের দামও বেশি।
পাটচাষি আব্দুল মতিন প্রাংয়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান, “আমন ধান রোপনের টাকার জন্য পাট বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম ভালো পেয়েছি। কিছুটা ভেজা থাকায় ৪২০০ টাকা মণ বিক্রি করেছি। অনেক বছর পর পাটের ভালো দাম পেলাম।”
উপজেলার আরেক পাটচাষি এজাবত আলী বলেন, পাটের দাম বেশি হলেও কামলার (কৃষিশ্রমিক) মজুরী দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তাও পাওয়া যাচ্ছে না। ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা প্রতিদিনের মজুরী। এছাড়া ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি ছিল না।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ জানান, পাটে জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকট কিছুটা ছিল। তবে পাটের ভালো ফলন ও দাম হওয়া নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ