বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৪৬ পি.এম
রংপুর নগরীতে জমির মালিকানা ও মন্দির দখলকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে বিসর্জন না দিয়ে প্রতিমা মন্দিরে ফেরানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যরা শোভাযাত্রা থেকে প্রতিমা পুনরায় মন্দিরে রাখেন।
মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার নগরীর ঠিকাদারপাড়ায় সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ দুই পক্ষের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা চালায়।
স্থানীয়দের মতে, ২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর স্থানীয় দশরথের তিন শতক জমিতে অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরি করে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চলতি বছর পূজা উদ্যাপন কমিটি দুর্গাপূজার পর কালী প্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা বসানোর মাধ্যমে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের প্রস্তুতি নেন মহানগর কৃষক লীগের সভাপতি প্রাণ কৃষ্ণ গোস্বামী।
অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি কৌশলে সেখানে কালীমন্দির স্থাপন করে জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা করছেন। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা হয়েছিল, যেখানে পূজা-অর্চনা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু অস্থায়ী মন্দির কমিটির সদস্যরা সুকৌশলে জায়গাটি দখল করার জন্য নতুন করে প্রতিমা স্থাপন করে ওই জায়গায় রেখে দুর্গোৎসবের প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়ার প্রস্তুতি নেন; আর তাতেই বিপত্তি ঘটে।
গণেশ চন্দ্র, শ্যামল কান্তিসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, এত দিন পূজা উদযাপন সুস্থভাবে চললেও বিসর্জনের আগে একই স্থানে পুনরায় নতুন প্রতিমা স্থাপন নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। সেই উত্তেজনা রাতভর চলতে থাকে। প্রশাসনের লোকজন সারা রাত চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারেনি। রাতের বেলা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান এবং মণ্ডপের জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা বরাদ্দ দিলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় উপকৃত হতো বলে উল্লেখ করেন।
অনিমেষ চন্দ্র রায় জানান, বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের সময় জমির মালিক দশরথ সব প্রতিমা সরিয়ে নিয়ে মন্দির খালি করার দাবি জানালে তার ও পূজা উদ্যাপন কমিটির মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরপর প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে পূজা উদযাপন কমিটিসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি পক্ষ। আরেক পক্ষ, নিজের জমি উদ্ধার করার জন্য সব প্রতিমা সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে জমির মালিক দশরথ ও তার লোকজন রাস্তার অপর পাশে অবস্থান নেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন গভীর রাত পর্যন্ত উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়।
তবে অস্থায়ী পূজা উদ্যাপন কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রিতা রানীর স্বামী ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের মন্দির করার জন্য এই জায়গাটি ভাড়া দিয়েছেন। সেই আলোকেই তারা সেখানে মন্দির স্থাপন করেছেন।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বৃহস্পতিবার জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা ও অচলাবস্থা এখনো বিদ্যমান। যে পক্ষ পূজা করেছে, তারা প্রতিমা বিসর্জন দিতে চাইলেও মন্দির খালি করতে চাইছে না এবং দখলেই রাখতে চাইছে।
অন্যদিকে জমির মালিকপক্ষের দাবি, মন্দির খালি করে দিয়ে সব প্রতিমা সরিয়ে নিতে হবে। উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সেখানে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। রাতে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক বিদ্যমান ব্রিটেনের। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই সম্পর্ক বিভিন্ন পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য সেখানে যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান ও সামরিক পরামর্শক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার জানাচ্ছে, এই সহায়তার উদ্দেশ্য হলো সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি করা। তবে হুথিদের ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্য নেই।
ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর টাইফুন যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা প্রদান করবে। এ ছাড়া এ৪০০এম পরিবহন বিমান ও সামরিক পরামর্শকরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য হলো, এই সহায়তা সৌদি আরবকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ব্রিটেনের নতুন পদক্ষেপকে দুই দেশের দীর্ঘ সামরিক সম্পর্কের সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সম্পর্কের সূচনা ঘটে। সৌদি আরবের সঙ্গে ব্রিটেনের সামরিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ কর্মকর্তা পার্সি কক্স ও আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের মধ্যে দারিন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ইবনে সৌদকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছিল ব্রিটেন।
১৯২৭ সালে জেদ্দা চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। পাঁচ বছর পর, ১৯৩২ সালে সৌদি আরবের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
যুদ্ধবিমান কেনা থেকে সামরিক সহযোগিতা
১৯৬৬ সালে সৌদি আরব ব্রিটেনের কাছ থেকে ৪০টি লাইটনিং যুদ্ধবিমান, ২৫টি প্রশিক্ষণ বিমান ও রাডার কেনে। সেই সময় ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছিল। সৌদি আরবের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স সুলতান সৌদি বাহিনীর সহায়তায় ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর একটি স্কোয়াড্রন চেয়েছিলেন। ব্রিটেন সৌদি পতাকার অধীনে ব্রিটিশ পাইলট ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর আলাদা স্কোয়াড্রন মোতায়েনের প্রয়োজন হয়নি।
১৯৬৬ সাল থেকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমসের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৭৩ সালে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৮৫ সালে দুই দেশের মধ্যে আল-ইয়ামামা নামে বড় অস্ত্র চুক্তি হয়। এর আওতায় সৌদি আরব টর্নেডো ও হক যুদ্ধবিমান কেনে। চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ছয় লাখ ব্যারেল তেল পাওয়ার ব্যবস্থা ছিল ব্রিটেনের।
এই চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০০৪ সালে ব্রিটেনের গুরুতর জালিয়াতি তদন্ত দপ্তর তদন্ত শুরু করে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও সৌদিতে ব্রিটিশ বিমান ছিল। ১৯৯০ থেকে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর টর্নেডো যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের ধাহরান ও তাবুক ঘাঁটি থেকে অভিযান চালায়। ওই যুদ্ধে ব্রিটেনের একটি টর্নেডো যুদ্ধবিমান হারিয়ে যায়। পরে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ইরাকে নো-ফ্লাই জোন কার্যকর রাখার অভিযানে অংশ নেয় ব্রিটিশ বিমানবাহিনী।
২০০৭ সালে সৌদি আরব ৪৪৩ কোটি পাউন্ডে ৭২টি টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে। ২০১৮ সালে আরো ৪৮টি টাইফুন কেনার পরিকল্পনা করা হলেও তা আটকে যায়। সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার পর জার্মানি সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র রপ্তানিতে বাধা দিয়েছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জার্মানি সেই আপত্তি তুলে নেয়। এরপর সৌদি আরবের সঙ্গে টাইফুন যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করে বিএই সিস্টেমস।
ইয়েমেন যুদ্ধে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের ভূমিকার কারণে দেশটির কাছে ব্রিটিশ অস্ত্র বিক্রি নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ২০১৯ সালে ব্রিটেনের আপিল আদালত রায় দেয়, ইয়েমেনে ব্যবহারের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির অনুমতি দেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অতীত ঘটনাগুলো মূল্যায়ন করা হয়নি। এ কারণে ওই অনুমতিগুলো বেআইনি ছিল।
২০২০ সালের জুলাইয়ে ব্রিটিশ সরকার আবার অস্ত্র রপ্তানির অনুমতি দেয়। সরকারের যুক্তি ছিল, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের স্পষ্ট ঝুঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হুথিদের হামলার জবাবে ২০২৪ সালে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অংশ নেয় ব্রিটিশ টাইফুন যুদ্ধবিমান। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেও সৌদি আরবে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর টাইফুন যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ভয়েজার ট্যাংকার বিমান পাঠায় যুক্তরাজ্য।
সৌদি আরবকে হুথিদের হামলা থেকে রক্ষায় এবার নতুন করে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান ও সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় শুরু হওয়া এই সম্পর্ক বর্তমানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইয়েমেন সংঘাতের বাস্তবতায় নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে (এসআইআর) প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। দিল্লির ৫৩ বছর বয়সী দর্জি কামতা প্রসাদ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভোটাধিকার ফিরে পেতে।
কামতা প্রসাদ, যিনি জীবিত এবং নিয়মিত কাজ করছেন, ভোটার তালিকায় নিজেকে মৃত হিসেবে দেখতে পেয়েছেন। তিনি বছরের পর বছর ভোট দিয়ে আসছেন এবং এখন নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে সরকারি দপ্তরে দপ্তরে যেতে হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে কামতা প্রসাদের এই ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে প্রায় ৪২ লাখ ভোটারের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কামতা প্রসাদের নাম ভোটার তালিকায় ‘কান্তা প্রসাদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন তালিকায় তাকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করায় ভোটাধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিনের ভোটার থাকা সত্ত্বেও নিজের নাম ও পরিচয় সংশোধন করতে তাকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, পরিচয় যাচাই এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে তার ভোগান্তি বাড়ছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ায় প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তারা দাবি করেছেন, ক্ষমতাসীন বিজেপিকে নির্বাচনে সুবিধা দিতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে এই নাম বাদ পড়ার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব, ঠিকানা যাচাই এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকের পক্ষে নিজেদের ভোটার পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কার পাশাপাশি সরকারি রেশন ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিতর্কের মধ্যে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাদ পড়া ভোটাররা আবেদন করে তালিকায় নিজেদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ এবং সরকারি দপ্তরে বারবার যাতায়াতের কারণে আবেদনকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
কামতা প্রসাদের ঘটনা কেবল একজন জীবিত ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় মৃত দেখানোর বিষয় নয়। এটি ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর, ২২ অক্টোবর ২০২৬ : গারো পাহাড় এলাকায় বন্য হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের জন্য বন বিভাগের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনের সমন্বিত পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের প্রশিক্ষক আদনান আজাদ বাসসকে জানিয়েছেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাতির নিরাপদে বেঁচে থাকার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, হাতি লোকালয়ে প্রবেশ করলে আতঙ্কিত হয়ে হাতিকে ঘিরে ধরা, আঘাত করা কিংবা অনিরাপদভাবে তাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত রেসপন্স টিমের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বন বিভাগের সঙ্গে মানুষের সমন্বয় জোরদার করেও এই সংঘাত কমানো সম্ভব।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার বনাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১২০টি বন্য হাতি বিচরণ করছে। প্রতিটি দলে হাতির সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ টি।
এছাড়া খাদ্যের সন্ধানে হাতির পাল প্রায়ই লোকালয় ও কৃষি জমিতে ঢুকে পড়ছে। এতে ফসল নষ্ট হচ্ছে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে, হাতিরাও হারাচ্ছে নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ও স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ। ফলে মানুষ ও বন্য হাতি উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র জানায়, জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কাটাবাড়ি, মধুটিলা ও ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচি, ছোটো গজনী ও বড় গজনী এবং শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ী ও রানী শিমুল ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় হাতির বিচরণ রয়েছে। বর্তমানে হাতির দলগুলো নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা-পোড়াবাড়ি পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থান করছে।
মধুটিলা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আব্দুল করিম জানান, হাতিগুলো কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে শেরপুর ও জামালপুরের প্রায় ১২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় বিচরণ করছে। এসব দলে ২৫ থেকে ৩০টি শাবকও রয়েছে। বনাঞ্চলে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় হাতিরা প্রায়ই কৃষিজমি ও লোকালয়ে প্রবেশ করছে।
জানা যায়, ২০০০ সালের দিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে ১৫ থেকে ২০টি বন্যহাতি বাংলাদেশের গারো পাহাড় এলাকায় আসে। পরবর্তী সময়ে বংশ বিস্তারের ফলে হাতির সংখ্যা দিনদিন বাড়তে থাকে। একসময় হাতিগুলো বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে নিয়মিত চলাচল করত।
২০০৭ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মেঘালয় রাজ্য সংলগ্ন শেরপুর এলাকায় কয়েক কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়। সেসময় হাতির চলাচলের সুবিধার্থে ৪৪টি গেট ও নদী-ছড়ার ওপর ১১টি আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু, অজানা কারণে সেই গেটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতির স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে মেঘালয় থেকে আসা হাতিগুলো আর নিজ আবাসস্থলে ফিরতে পারেনি।
স্থানীয়রা জানান, দিনের আলোয় জমিতে ফসলের পরিচর্যা করেন কৃষকেরা। আর রাত নামলেই শুরু হয় ফসল পাহারা। কেউ টর্চলাইট জ্বালিয়ে, কেউ আগুনের আলো দেখিয়ে, আবার কেউ দল বেঁধে হাঁকডাক করে হাতির পাল ঠেকানোর চেষ্টা করেন। তবুও কোনো কোনো রাতে হাতির আক্রমণে নষ্ট হয়ে যায় কয়েক মাসের পরিশ্রমে ফলানো ফসল।
ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া এলাকার কৃষক সুনীল মারাক বাসসকে বলেন, ‘আমরা কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে জমিতে ধানসহ অন্যান্য ফসল ফলাই। কিন্তু বন্য হাতি রাতে এসে ক্ষেতের সব ফসল নষ্ট করে দেয়। এক রাতেই আমাদের কয়েক মাসের পরিশ্রম শেষ হয়ে যায়। হাতির ভয়ে রাতে জমি পাহারা দিতে হয়, আবার জীবনের ঝুঁকিও থাকে।’
তিনি হাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।
নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা এলাকার কৃষক চিন্ময় ম্রং বলেন, ‘হাতির ভয়ে আমরা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। কখন হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, কখন ঘরবাড়ি বা ফসলের ক্ষতি করে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। হাতি তাড়াতে গিয়ে মানুষ আহত হওয়ার বা প্রাণ হারানোর আশঙ্কাও থাকে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা হাতি মেরে ফেলতে চাই না। আমরা চাই মানুষ ও হাতি দুই পক্ষই নিরাপদে থাকুক। এজন্য বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি, আগাম সতর্কবার্তা এবং স্থানীয় মানুষের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।’
শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ী এলাকার কৃষক হারেজ আলী বলেন, শুধু হাতি তাড়িয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। হাতির চলাচলের পথ সংরক্ষণ, বনের খাদ্য ও আবাসস্থলের উন্নয়ন, ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ এবং গ্রামবাসীর সঙ্গে বন বিভাগের সমন্বয় বাড়াতে হবে।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেরপুরে মানুষ-হাতির সংঘাতের ঘটনায় প্রায় ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ২৯ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি গাছপালাসহ ৮২৯টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, মানুষের তৈরি বৈদ্যুতিক ফাঁদসহ বিভিন্ন কারণে ৩০টি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে।
বন বিভাগ জানায়, এসব ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে ৫৫ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে ৯ লাখ টাকা এবং বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা সরকারি সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।
তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ফসলের ক্ষতি, প্রাণহানির আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে যাচ্ছে। তাই ক্ষয়ক্ষতির পর সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সংঘাত প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পাহাড়ি জনপদের স্থানীয় বাসিন্দারা।
মধুটিলা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আব্দুল করিম বলেন, হাতির আবাসস্থলে পর্যাপ্ত খাবার না থাকলে তারা খাদ্যের সন্ধানে কৃষি জমি ও লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি বলেন, হাতির লোকালয়ে প্রবেশ বন্ধ করতে হাতির চলাচলের পথ প্রশস্ত করা, বনাঞ্চলে খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং মানুষের কৃষিজমি ও বসতি সম্প্রসারণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
গত ১০ অক্টোবর শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্কে মানুষ-হাতির সংঘাত নিরসন ও বন্যহাতি সংরক্ষণ বিষয়ক এক আলোচনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘বিদ্যমান প্রটোকলের আওতায় ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
হাতির স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে সীমান্তের গেট খুলে দেওয়ার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে বলেও মন্ত্রী ঐ আলোচনায় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শেরপুরের বনাঞ্চলকে হাতির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্য হাতিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।’
শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকায় হাতি-মানুষের সংঘাত এখন শুধু ফসলের ক্ষতি কিংবা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয় নয়। এটি মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। একদিকে কৃষকেরা নিজেদের ফসল ও পরিবার রক্ষায় রাত জাগছেন, অন্যদিকে হাতিরা খাদ্য ও নিরাপদ চলাচলের সংকটে লোকালয়ের দিকে আসছে।
এ পরিস্থিতিতে হাতি তাড়ানো বা ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। সীমান্তের গেটগুলো নিয়ে ভারতের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা, হাতির চলাচলের পথ সংরক্ষণ, বনাঞ্চলের উন্নয়ন, আগাম সতর্ক ব্যবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মানুষ ও বন্যহাতি দুই পক্ষের জীবন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে গারো পাহাড়ে দীর্ঘদিনের এই সংঘাত কমিয়ে আনা সম্ভব। এখন সীমান্তবাসীর প্রশ্ন একটাই, কবে শেষ হবে ফসল রক্ষার এই লড়াই, আর কবে ফিরবে পাহাড়ি জনপদে বসবাসকারী মানুষ ও হাতির নিরাপদ সহাবস্থান ?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক রোড শো ও প্রচারাভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো—‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, ২, ৩ ও ৪-এর উদ্যোগে রাজধানীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাবতলী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দর এলাকার সামনের সড়ক এবং কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি, হ্যান্ডমাইকে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়।
এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিআরটিএ ঢাকা বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমসহ সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া, মোটরযান মালিক ও শ্রমিক, রোভার স্কাউট, ড্রাইভারস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, নিরাপদ সড়ক চাই এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সদস্যরাও এতে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ