সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৪ পি.এম
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় সিঁড়ি থেকে পড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘটেছে। নিহত গৃহবধূর নাম উম্মে সাফি (৫২)। তিনি আলমপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকার আফজাল হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার দুপুরে গৃহবধূটি নিজ বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান। এই ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে কর্তরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিহত গৃহবধূ ও তার স্বামীর মধ্যে কিছুদিন ধরে পারিবারিক ঝামেলা চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের কারণে মাথা ঘুরে সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার ফলেই তার মৃত্যু হতে পারে।
ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমান জানিয়েছেন, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে পাবনার চাটমোহরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের প্রতিযোগিতা ও পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়। এই দিন দুপুরে অনুষ্ঠিত পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ।
অনুষ্ঠানটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শফিউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, একক অভিনয়, সঙ্গীতসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিজয়ীদের পুরুস্কৃত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল গণি, একাডেমিক সুপারভাইজার গোলাম মোস্তফা, দৈনিক আমাদের বড়াল সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হেলালুর রহমান জুয়েল, চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোঃ জিয়ারুল হক সিন্টু, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফুলচাদ হোসেন শামীম, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুদ রানা, জাসাস উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক আলী আহমেদ, প্রধান শিক্ষক আরকেএম আঃ রব মিঞা, প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সোনালী আঁশ আবারও সোনালী স্বপ্নের আলো দেখাতে শুরু করেছে। পাটের সুদিন ফিরে এসেছে। কৃষকরা পাটের বাম্পার ফলন এবং ভালো দামের জন্য খুশি। হাট-বাজারে পাট সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের আশা, সোনালী আঁশ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করবে।
চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের হাট-বাজারে পাট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকা মণ। গত বছরের সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা। চাটমোহরের হাট-বাজারে নতুন পাটের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার অমৃতকুন্ডা হাটে পাট বিক্রি হয়েছে ৪৪০০ টাকা মণ দরে।
চাটমোহর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে এবারে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৯০০ হেক্টর, কিন্তু আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর। বিঘাপ্রতি ফলনও ভালো। হাট-বাজারে নতুন পাটের দামও বেশি।
পাটচাষি আব্দুল মতিন প্রাংয়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান, “আমন ধান রোপনের টাকার জন্য পাট বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম ভালো পেয়েছি। কিছুটা ভেজা থাকায় ৪২০০ টাকা মণ বিক্রি করেছি। অনেক বছর পর পাটের ভালো দাম পেলাম।”
উপজেলার আরেক পাটচাষি এজাবত আলী বলেন, পাটের দাম বেশি হলেও কামলার (কৃষিশ্রমিক) মজুরী দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তাও পাওয়া যাচ্ছে না। ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা প্রতিদিনের মজুরী। এছাড়া ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি ছিল না।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ জানান, পাটে জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকট কিছুটা ছিল। তবে পাটের ভালো ফলন ও দাম হওয়া নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়েছেন মিনারুল ইসলাম প্রামাণিক (৩২) নামের এক মাছ শিকারী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পদ্মা নদীর খানপুর নিচ পলাশি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানায়, মিনারুল ইসলাম প্রামাণিককে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুলিবিদ্ধ মিনারুল ইসলাম প্রামাণিক খানপুর নিচপলাশি চরের মৃত জামাত আলী প্রামাণিকের সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে খানপুর নিচপলাশি চরের পদ্মা নদীর রাজুর ঘাটে কাকন বাহিনির সদস্যরা স্পিডবোটে এসে এলোপাতাড়িভাবে গুলি ছোড়ে। তারা ঘাটে বেধে রাখা মোমতাজ বাহিনির স্পিডবোট নিয়ে যায়। মাছ ধরার সময় তাদের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন মিনারুল ইসলাম প্রামাণিক। তার পিঠে গুলি লাগে। তিনি সকালে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বাঘা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, "দুস্কৃতিকারীরা আতঙ্গ ছড়ানোর জন্য গুলি ছোড়ে। এতে মিনারুল নামের একজন আহত হয়েছেন। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে।" পিঠে গুলি লাগা মিনারুলকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করেছে তার স্বজনরা। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগিরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জোয়াদ্দার পাড়া মহল্লায় সরকারি খাস জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নির্মাণ কাজ চলছে। এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পর প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
লিখিত অভিযোগের সূত্র অনুযায়ী, ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জোয়াদ্দার পাড়া মসজিদের সামনে সরকারি খাস জমিতে আশরাফ হোসেন ভবনটি নির্মাণ করছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই স্থানে মসজিদের সামনে অবৈধভাবে একটি ল্যাট্রিন, একটি টিউবওয়েল ও প্রস্রাবখানা ভেঙে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, সরকারি খাস জমির দাগ নম্বর ৭৫৩, ৭৭১ ও ৭৭২। এসব দাগে বিভিন্ন পরিমাণের সরকারি খাস জমি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গেছে, সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত বা লিজ নিয়ে অস্থায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলেও সেখানে স্থায়ী কোনো ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই।
তবে অভিযোগ উঠেছে যে, সংশ্লিষ্ট নিয়ম-নীতি না মেনে ওই ব্যক্তি সেখানে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে সরকারি খাস জমি দখলমুক্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, মূলত সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নিলেও সেখানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের কোনো নিয়ম নেই এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় না।
স্থায়ীভাবে ভবন নির্মাণ করতে হলে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) লিখিত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে, ভবনটির নির্মাণকারী আশরাফ হোসেন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আশরাফ হোসেনের মেয়ে আঁখি জানান, "আমার বিয়ে হয়ে গেছে আমি স্বামীর বাসায় থাকি। এই জমি আমার আব্বা ৯৯ বছরের জন্য সরকারের কাছ থেকে লীজ নিয়েছে। আমরা ৯৯ বছর ভোগদখল করব সেখানে যা পারি তাই করব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ