শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২২ পি.এম
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের পরিবার। গতকাল বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার আজ শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়। ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’
মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াত শাহরিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন।
তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এইরকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ বাবা–মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এরআগে আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা–বাবার সঙ্গে থাকত সে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে গতকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল ইশায়াত। পরে আর বাসায় ফেরেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মালদ্বীপে চলমান বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ হাইকমিশন সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য অর্থ প্রেরণ ব্যবস্থা আরও সহজ, নিরাপদ ও বৈধ করার উদ্দেশ্যে কার্যকরী সমাধানের পথ খুঁজছে।
আজ মালে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজতর করার লক্ষ্যে মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম সম্প্রতি দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে কার্যরত ভারতীয় স্টেট ব্যাংক, শ্রীলঙ্কার ব্যাংক অব সিলন এবং পাকিস্তানের হাবিব ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
বৈঠকগুলোতে মালদ্বীপের বর্তমান ডলার সংকট, ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতি, প্রবাসীদের অর্থ প্রেরণ, মুদ্রা রূপান্তর এবং অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মালদ্বীপের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে কার্যরত ব্যাংকগুলোর জন্য স্থানীয় মুদ্রা (রুফিয়া) থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর এবং বহির্মুখী অর্থপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এটি কেবল বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা নয়, বরং মালদ্বীপের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও আঞ্চলিক সোয়াপ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে হাইকমিশন জানায়, বৈঠকে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের মাধ্যমে একসময় ভারতীয় প্রবাসীরা যেখানে মাসে ৭০০ ডলার পর্যন্ত পাঠাতে পারতেন, তা পর্যায়ক্রমে কমে বর্তমানে ১৫০ ডলারে নেমে এসেছে। আলোচনায় ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যকার মুদ্রা রূপান্তর ও কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থার আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা থেকেও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার ব্যাংক অব সিলন জানিয়েছে, মুদ্রা রূপান্তর জটিলতায় নতুন রেমিট্যান্স হিসাব খোলার ক্ষেত্রে তারা ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছে। পাকিস্তানের হাবিব ব্যাংকের ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর সীমা ১ হাজার ডলার থেকে কমে বর্তমানে ৩০০ ডলারে নেমে এসেছে। তবে পাকিস্তানি প্রবাসীর সংখ্যা তুলনামূলক কম (৪০০ থেকে ৭০০ জন) হওয়ায় তাদের রেমিট্যান্স রূপান্তর কিছুটা সহজ হচ্ছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ একটু ভিন্ন উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকগুলো থেকে উঠে আসে যে, অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের একটি বড় অংশ দক্ষ ও পেশাজীবী হওয়ায় তারা মার্কিন ডলারে বেতন পান বা বৈদেশিক মুদ্রায় সরাসরি প্রবেশাধিকার রাখেন। কিন্তু মালদ্বীপে অবস্থানরত ১ লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর সিংহভাগই অর্ধদক্ষ ও নিম্নদক্ষ কর্মী, যারা স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়ায় বেতন পান। ফলে তাদের উপার্জিত রুফিয়াকে ডলারে রূপান্তর করে দেশে পাঠানোর চাহিদা ও চাপ ব্যাংকগুলোর ওপর অনেক বেশি, যা বাংলাদেশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে এক বিশেষ কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ৫০ থেকে ১০০ ডলার প্রেরণের সুযোগ খুঁজতে হাইকমিশন আহ্বান জানাচ্ছে। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান আইন, বিধিবিধান ও ব্যাংকিং কাঠামোর মধ্যে থেকে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট পরিমাণের— যেমন অন্তত ৫০ থেকে ১০০ ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তা মালদ্বীপে অবস্থিত ব্যাংকগুলোর কর্তৃপক্ষকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার আহ্বান জানান হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম।
হাইকমিশনার স্পষ্ট করে বলেন, এর উদ্দেশ্য কোনো বিশেষ বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দাবি করা নয়; বরং অনুমোদিত ব্যাংকিং কাঠামোর আওতায় স্বল্প পরিমাণের হলেও একটি নির্ভরযোগ্য রেমিট্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
রুফিয়ায় বেতন পাওয়া একজন শ্রমিকের ৫০ বা ১০০ ডলারও তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা প্রবাসীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশে বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বৈঠকে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সুবিধার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও অন্যান্য আঞ্চলিক অংশীদারদের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও বাণিজ্যিক লেনদেন জোরদারের ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোকপাত করা হয়।
প্রবাসীদের সহায়তায় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রম করে দেশে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠান। তাদের বাস্তব সমস্যা বুঝে বিদ্যমান ব্যাংকিং কাঠামোর মধ্যে থেকে সম্ভাব্য প্রতিটি টেকসই পথ অনুসন্ধান করা আমাদের দায়িত্ব।
মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য সহজ, নিরাপদ ও বৈধ রেমিট্যান্স ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হাইকমিশনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহের উদ্দেশ্যে বই ছাপা ও বাঁধাইয়ের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে চলছে। কিছু অসাধু ছাপাখানা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানোর মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে।
পাঠ্যপুস্তক বোর্ড যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়োগ করেছে, তারা নিজেই ছাপাখানার কাছ থেকে ঘুস গ্রহণ করে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানোর অনুমোদন প্রদান করছে।
তদারককারী প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডি এবং ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি। ইনফিনিটি প্রাথমিক স্তরের বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্বে রয়েছে এবং ইনডিপেনডেন্ট মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির বইয়ের মান পরীক্ষা করছে।
এদিকে, ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডিকে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানোর অনুমোদন দেওয়ার কারণে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) শোকজ নোটিশ প্রদান করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক স্তরের প্রায় ৯ কোটি পাঠ্যবইয়ের কাগজ, বাঁধাই এবং কাটিংসহ সার্বিক মান পরীক্ষা করছে।
সম্প্রতি এনসিটিবির সচিব শাহ মুহাম্মদ আল ফেরদৌসের সই করা শোকজ নোটিশটি প্রদান করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে শোকজ নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিদল গত ৩০ আগস্ট ঢাকার আমুলিয়ায় সরকার প্রেস পরিদর্শনকালে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির বই মুদ্রণের পাশাপাশি নিষিদ্ধ বিভিন্ন শ্রেণির নোট ও গাইড ছাপানোর কাজ চলমান দেখতে পায়। সেখানে বিভিন্ন মানের কাগজ (নিউজ প্রিন্টসহ) বিশৃঙ্খলভাবে স্তূপীকৃত ছিল। স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী প্রি-প্রাইমারি বই মুদ্রণের জন্য যে মানের কাগজ ব্যবহার করার কথা, বাস্তবে তার চেয়ে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এতে আরও বলা হয়, ছাপানো ফর্মা দৈবচয়ন ভিত্তিতে পরীক্ষা করেও কাগজের জিএসএম ৭২, ৭৬, ৭৭, ৭৯, ৮১ এবং ৮২ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। আপনার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রত্যায়িত অব্যবহৃত নতুন কাগজের রোল পরীক্ষা করেও জিএসএমের মানে তারতম্য পাওয়া গেছে। আপনার পিডিআই প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও তার দায়িত্বপালনে শিথিলতা দৃশ্যমান রয়েছে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
‘এমতাবস্থায়, আপনার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দায়িত্বে অবহেলা চুক্তির শর্তভঙ্গের দায় মনিটরিং প্রতিনিধির নিষ্ক্রয়তা পাওয়া গেলে দরপত্র দলিল ও পিপিআর-২০২৫ এর শর্ত মোতাবেক কার্যাদেশ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তা তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত আকারে জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করা হলো’ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সিরাজীম মুনির বলেন, ‘আমি কোনো শোকজের চিঠি পাইনি। হয়তো অফিসের লোকজন শোকজ পেয়ে জবাব দিয়েছে। আমি বিষয়টি জানি না। সরকার প্রেসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় চিঠি দেওয়ার আগে আমিই এনসিটিবির সদস্যকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।’
তবে এনসিটিবির সচিব শাহ মুহাম্মদ আল ফেরদৌস এবং আরও দুজন কর্মকর্তা ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডিকে শোকজ করার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজার শিশুদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ঘুড়ি উড়ানোর একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তিন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া, এক নারী স্বেচ্ছাসেবীকে পরোয়ানা ছাড়াই দীর্ঘ সাড়ে ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গৃহবন্দী রেখে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ উঠেছে মুম্বাই পুলিশের বিরুদ্ধে। এই তথ্যটি ‘ইন্ডিয়ান পিপল ইন সলিডারিটি উইথ ফিলিস্তিন’ (আইপিএসপি) একটি বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি মুম্বাইয়ের কিছু সক্রিয়কর্মী গাজার শিশুদের সমর্থনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ‘গ্লোবাল গাজা কাইট উইকএন্ড’-এ অংশগ্রহণ করেছিলেন।
আইপিএসপি অভিযোগ করেছে, প্রথমে সাধারণ পোশাক পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে হর্ষদা নামের এক নারী স্বেচ্ছাসেবীর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রাখেন। পরে পোশাকধারী পুলিশ এসে কোনো ধরনের পরোয়ানা, লিখিত নোটিশ বা আইনি কাগজপত্র ছাড়াই তার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় তার বেশ কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
সংগঠনটি জানিয়েছে, ঘুড়ি উড়ানোর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অন্য দুই স্বেচ্ছাসেবীকেও পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। রাত ২টা ১৫ মিনিটে দেওয়া এক আপডেট বার্তায় আইপিএসপি জানায়, অভিযান শুরু হওয়ার ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ সদস্যরা হর্ষদার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
আইপিএসপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের লঙ্ঘন। তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "একটি শিশুর ঘুড়ি উড়ানো যদি ইসরায়েলি রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়, তবে গাজার শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতীয় তরুণদের ঘুড়ি উড়ানোও কি ভারতীয় রাষ্ট্রের জন্য হুমকি?"
নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনা করে সংগঠনটি অভিযোগ করে, ব্রিকস সম্মেলনে ভারত সরকার মুখে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার কথা বললেও বাস্তবে দেশের ভেতরের ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। মুখে মানবিক উদ্বেগের কথা বললেও ভারতের প্রকৃত অবস্থান ইসরায়েল ও আমেরিকার পাশেই রয়েছে বলে তারা দাবি করে।
পুলিশি হয়রানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আইপিএসপি আরও জানায়, "ভয় দেখিয়ে দমানোর এই চেষ্টা আমাদের ঐক্যকে আরও মজবুত করবে। মুম্বাই পুলিশের বোঝা উচিত—রাষ্ট্রের দমনপীড়ন যতই বাড়বে, আমাদের প্রতিরোধ তত শক্তিশালী হবে।" পুলিশের এই বেআইনি আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন কণ্ঠস্বর ও সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশের এমন "ডাইনি শিকার" বা হয়রানি বন্ধে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব বাণিজ্য গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিঘ্নের সম্মুখীন হয়েছে। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যবস্থায় সৃষ্ট জটিলতার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক দ্বারা উল্লেখ করা হয়েছে।
জেনেভায় ডব্লিউটিও-র ‘পাবলিক ফোরাম’-এর ফাঁকে আনাদোলুকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা জানান, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট স্থিতিস্থাপক রয়েছে; তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ১৬৬টি সদস্য দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভূ-রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও, এ বছর পণ্য বাণিজ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে ৪.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ৭২ শতাংশই ডব্লিউটিও-র নিয়মকানুন মেনে পরিচালিত হচ্ছে।
সারা বছরের জন্য পণ্য বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক পূর্বাভাস ছিল ১.৯ শতাংশ, কিন্তু বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সেই প্রত্যাশাকে অতিক্রম করেছে। তিনি জানান, এই গতিশীলতার একটি বড় অংশ এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের কারণে; এর পেছনে রয়েছে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বল্প বা শূন্য শুল্কের চুক্তিগুলো।
তিনি এই প্রবণতার স্থায়িত্ব নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই রমরমা বাণিজ্যের অর্থনৈতিক সুফল মূলত উত্তর আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়ায় কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে, যা বিশ্ব বাজারের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট বিঘ্নের ফলে যে ধাক্কা লেগেছে, তা থেকে জাতীয় মজুত ভাণ্ডার সাময়িকভাবে বাজারকে রক্ষা করেছে; তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দেবে।
ডব্লিউটিও-র পূর্ববর্তী হিসাব অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে পৌঁছালে তা সামগ্রিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধিকে ০.৫ পয়েন্ট কমিয়ে দিতে পারে—অথচ বর্তমানে তেলের দাম সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো বিকল্প পথে জাহাজ চালিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে ওকোনজো-ইওয়েলা সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ফলে পরিবহন খরচ বা প্রিমিয়াম অনেক বেড়ে যাচ্ছে, যা বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ বা 'চোকপয়েন্ট'-এ কোনো বিপর্যয় ঘটলে তা থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করছে। পাশাপাশি, সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়মকানুন ঢেলে সাজানোর বিষয়ে ডব্লিউটিও-র অভ্যন্তরীণ আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সুষম বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বর্তমান কাঠামোটি প্রায়শই উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
ওকোনজো-ইওয়েলা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আধুনিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তার আহ্বান জানান যাতে তারা অর্থনৈতিক সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে; একইসাথে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর লক্ষ্য হলো অকার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলোর সংশোধন এবং এই দেশগুলোকে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করা।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘পাবলিক ফোরাম’-এর অংশ হিসেবে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে যে, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিপর্যয় এবং বিধিবিধান আধুনিকীকরণে ব্যর্থতার ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে সম্ভাব্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ১০ শতাংশ পর্যন্ত হারিয়ে যেতে পারে। সূত্র : ডন অনলাইন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ