০৯:২১ এম
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বাড়ানোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগও আবার সামনে এসেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৩৪ ডলার বা ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৩৫ ডলারে পৌঁছে গেছে। অপরদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ২১ ডলার বা ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৬২ ডলারে।
সপ্তাহান্তে তেহরান কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার পরিমাণ আরও বাড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালায়। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের উপর ভিত্তি করে চলমান হামলা-পাল্টা হামলার পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এর আগে ইরান দাবি করেছিল, একটি জাহাজ অনুমোদিত পথের বাইরে প্রবেশ করে হামলার শিকার হয়ে যাওয়ার পর তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে।
জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তৈরি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র ছয়টি জাহাজ। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পরিমাণ।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল আরও ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং সংঘাতের অবসান ঘটানো।
শুক্রবার প্রকাশিত একটি মাসিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, ওই চুক্তির পর জুন মাসে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে এটি এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় দৈনিক ৯৪ লাখ ব্যারেল কম।
আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা
এএনজেডের বিশ্লেষকরা তাদের একটি নোটে উল্লেখ করেছেন, সপ্তাহান্তের নতুন উত্তেজনা সাম্প্রতিক সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশা অনেকটাই অনিশ্চিত করে দিয়েছে। অন্যদিকে, আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, তেলের দামে তুলনামূলক সীমিত বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজার এখনো মনে করছে, এটি একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝের উত্তেজনা বাড়ানোর মাত্র, পুরো যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি নয়। এই ধারণা কতটা সঠিক, তা সময়ই বলে দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন