ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম


বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বাড়ানোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগও আবার সামনে এসেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৩৪ ডলার বা ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৩৫ ডলারে পৌঁছে গেছে। অপরদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ২১ ডলার বা ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৬২ ডলারে।

সপ্তাহান্তে তেহরান কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার পরিমাণ আরও বাড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালায়। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের উপর ভিত্তি করে চলমান হামলা-পাল্টা হামলার পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এর আগে ইরান দাবি করেছিল, একটি জাহাজ অনুমোদিত পথের বাইরে প্রবেশ করে হামলার শিকার হয়ে যাওয়ার পর তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে।

জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তৈরি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র ছয়টি জাহাজ। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পরিমাণ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল আরও ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং সংঘাতের অবসান ঘটানো।

শুক্রবার প্রকাশিত একটি মাসিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, ওই চুক্তির পর জুন মাসে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে এটি এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় দৈনিক ৯৪ লাখ ব্যারেল কম।

আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা

এএনজেডের বিশ্লেষকরা তাদের একটি নোটে উল্লেখ করেছেন, সপ্তাহান্তের নতুন উত্তেজনা সাম্প্রতিক সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশা অনেকটাই অনিশ্চিত করে দিয়েছে। অন্যদিকে, আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, তেলের দামে তুলনামূলক সীমিত বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজার এখনো মনে করছে, এটি একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝের উত্তেজনা বাড়ানোর মাত্র, পুরো যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি নয়। এই ধারণা কতটা সঠিক, তা সময়ই বলে দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের জবাবে উপসাগরীয় তিন দেশে ইরানের পাল্টা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ এম


যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের জবাবে উপসাগরীয় তিন দেশে ইরানের পাল্টা হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে তেহরান।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ‘শত্রু ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করা হয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে যে, ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অঞ্চলজুড়ে থাকা ‘শত্রু ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে বড় পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে।

একটি ইরানি সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার জবাবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘শত্রুপক্ষের গতিবিধি’ পর্যবেক্ষণ করে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এ হামলার ফলে ঘাঁটিতে একাধিক জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে আগুন ধরেছে।

আইআরজিসি জানায়, ইরানের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের এটি প্রথম ধাপ।

পৃথক আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির একাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স বিমানঘাঁটিতে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ নজরদারি বিমান রাখা হ্যাঙ্গার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ড্রোনের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া, কুয়েতের দুটি বিমানঘাঁটিতেও হামলার অভিযোগ তুলেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি, আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার সিস্টেমে হামলা চালানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণ গেল ১৩ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণ গেল ১৩ জনের

চট্টগ্রামে টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড় ধসের ফলস্বরূপ একটি ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে এতদ্বারা পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি উপজেলা ও মহানগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও ফটিকছড়ি উপজেলার মোট ১৫২টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে উপজেলার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি পরিবার সম্পূর্ণরূপে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। দুর্ভোগে থাকা মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ২১ হাজার ৯০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য বরাদ্দ দেওয়া ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ৭১০ মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৮৫ লাখ টাকা নগদ সহায়তার মধ্যে ৬০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষের মাঝে এ পর্যন্ত ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তহবিলে বর্তমানে ৪৯০ মেট্রিক টন চাল এবং ২৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ মজুদ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুটবলাররা কেন পানি মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ এম


ফুটবলাররা কেন পানি মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দেন?

ফুটবল ম্যাচ চলাকালে প্রায়ই দেখা যায়, খেলোয়াড়রা যখন বোতল থেকে এক চুমুক পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড কুলি করেন, তখন তা গিলে না ফেলে মাঠেই ফেলে দেন। যদিও অনেকেই বিষয়টিকে পানি অপচয় মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি বিশেষ কৌশল।

এই কৌশলের নাম 'কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স'। এর মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে পরে তা ফেলে দেওয়া হয়। এটি শুধুমাত্র ফুটবলারদের জন্য নয়, বরং সাইক্লিস্ট, ম্যারাথন দৌড়বিদ এবং দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার পরিশ্রম করা অন্যান্য অনেক ক্রীড়াবিদের জন্যও কার্যকর।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মুখের ভেতরে কিছু বিশেষ রিসেপ্টর রয়েছে, যা কার্বোহাইড্রেটের উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম। যখন মুখে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় রাখা হয়, তখন সেই সংকেত দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। এর ফলে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে এমন ধারণা করে যে শরীরে নতুন শক্তির জোগান আসছে।

ফলে খেলোয়াড়ের মনোযোগ, সতর্কতা ও কর্মক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যদিও পানীয়টি শরীরে প্রবেশ করে না।

এদিকে, ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের বিরতির সময় খুবই সীমিত থাকে। এই সময়ে বেশি পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক পান করলে পেট ভারী লাগতে পারে এবং দৌড়ানোর সময় অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে পানীয় গিলে ফেললে তা হজম হয়ে শরীরে কাজ করতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু মুখে কয়েক সেকেন্ড কুলি করলেই মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় সংকেত দ্রুত পৌঁছে যায়, যা অধিকাংশ খেলোয়াড়কে এই কৌশলটি অধিক কার্যকর বলে মনে হতে সহায়ক হয়।

যদিও এই কৌশল বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে এটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে ম্যাচ চলাকালে এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি একেবারেই নয় যে, কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সক্ষম। ঘামের মাধ্যমে হারানো পানি এবং ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করতে নিয়মিত পানি বা ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতেই হয়।

সাধারণত ম্যাচ শুরুর আগে, বিরতির সময়, ম্যাচ শেষে এবং গরম আবহাওয়ায় নির্ধারিত হাইড্রেশন ব্রেকের সময় ফুটবলাররা পর্যাপ্ত পানি পান করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলটি মূলত দীর্ঘ সময়ের উচ্চমাত্রার ব্যায়াম বা প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার জন্য কার্যকর। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজ বা হালকা ব্যায়ামে এর তেমন প্রয়োজন নেই।

অতএব, মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানি কিংবা স্পোর্টস ড্রিংক নিয়ে কুলি করে ফেলে দিতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি পানি অপচয় নয়; বরং পারফরম্যান্স বাড়াতে ব্যবহৃত ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি কার্যকর কৌশল।

সূত্র: সেইস ডটকম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বউ’ বানানোর প্রলোভনে নারীদের চীনে পাচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


‘বউ’ বানানোর প্রলোভনে নারীদের চীনে পাচার

যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে মিয়ানমারের নারীদের চীনে পাচার করা হচ্ছে। এই নারীদের তথাকথিত 'বউ' হিসেবে বিক্রি করার ভয়াবহ মানবপাচার চক্রটি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সম্প্রতি জান্তা সরকারের তথ্য ও তদন্তে এই অপরাধচক্রের ব্যাপকতা নতুন করে আলোচিত হয়েছে। খবর দ্য ইরাবতি।

জান্তার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে মিয়ানমারে মানবপাচারের ৮০টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি ঘটনায় ভুয়া বিয়ের আয়োজন করে নারীদের বিদেশে পাচার করা হয়েছে, এবং প্রধান গন্তব্য ছিল চীন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মান্দালয় অঞ্চলের ২০ বছর বয়সী একটি তরুণীকে চীনা এক ব্যক্তির সন্তান জন্ম দিলে ১ কোটি ৫০ লাখ কিয়াত দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। অন্যদিকে, ইয়াঙ্গুনের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত পাকোক্কুর ২৮ বছর বয়সী এক নারীকেও ছয় মাসের জন্য এক চীনা নাগরিককে বিয়ে করতে রাজি করানোর বিনিময়ে ৮০ লাখ কিয়াতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

আরেক ঘটনায়, নেপিডোর ২৪ বছর বয়সী এক নারীকে ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চীনে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে একাধিকবার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। পরে, অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে চীনা পুলিশ তাকে নয় মাস আটক রাখে।

এছাড়া, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ২ কোটি কিয়াত দেনমোহরের বিনিময়ে ইয়াঙ্গুনের এক নারীর সঙ্গে এক চীনা নাগরিকের বিয়ের আয়োজনের তথ্যও উঠে এসেছে। আরও দুটি মামলায় তিন নারীকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেককে ১ কোটি ৫০ লাখ কিয়াত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মানবপাচার এখন শুধুমাত্র মিয়ানমার-চীন সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে।

গত মার্চে, তাইওয়ানের নিউ তাইপেই শহরে পরিচালিত একটি মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মিয়ানমারের নয় নারীকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে এই চক্রটি মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে উচ্চ বেতনের চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে নারীদের ফাঁদে ফেলত। পরবর্তী সময়ে ঋণের ফাঁদে আটকে তাদের জোরপূর্বক শ্রম ও যৌন শোষণের শিকার করা হতো। স্থানীয় গণমাধ্যম এ চক্রকে 'কেকে পার্কের তাইওয়ান সংস্করণ' হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এদিকে, গত মাসে ব্যাংককে একটি চীনা মানবপাচার চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করে থাই পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে চক্রটি অন্তত ২০ জন মিয়ানমারের নারীকে চীনে পাচার করেছে। একই সময়ে, অন্তত ২০ জন চীনা নাগরিককে ইয়াঙ্গুনে এনে অবৈধভাবে পাত্রী খুঁজে দেওয়ার কাজেও তারা সহায়তা করেছে।

চীনও দীর্ঘকাল ধরে এ সমস্যা সম্পর্কে অবগত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমারে অবস্থিত চীনা দূতাবাস সীমান্ত পেরিয়ে পাত্রী খোঁজার বিষয়ে নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করে জানায় যে, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে ক্রমেই বেশি সংখ্যক চীনা নাগরিক আইনের আওতায় আসছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, গৃহযুদ্ধ, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং আইনের শাসনের অবক্ষয়ের কারণে অসংখ্য নারী মানবপাচারকারীদের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এই অপরাধচক্র এখন আরও সংগঠিতভাবে নারীদের ফাঁদে ফেলছে, যার ফলে মানবপাচারের ঝুঁকি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%