মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১০ পি.এম
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ফিলিপাইনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে একটি সম্মতি অর্জিত হয়েছে। মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় উভয় পক্ষ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মতি প্রকাশ করেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইইউ এবং ফিলিপাইনের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা বেশ কয়েক দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মে মাসে ষষ্ঠ দফার আলোচনা সম্পন্ন হয়। ওই দফায় পণ্যবাজারে প্রবেশের সুযোগ, সরকারি ক্রয় এবং বাণিজ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। ইইউ এবং ফিলিপিন্সের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো। অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি করতে উভয় পক্ষ একটি বিস্তৃত ও ভারসাম্যপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে আসছিল।
আরো পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভিয়েতনামের বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি : তো লাম
নতুন চুক্তির ফলে ফিলিপাইনের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজতর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ফিলিপাইন ইইউর দেওয়া বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা উপভোগ করছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে দেশটি সেই সুবিধার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় আসবে। এই চুক্তির মাধ্যমে উভয় পক্ষের সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় এবং ফিলিপাইনের বিনিয়োগকারীদের একে অপরের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি করার প্রচেষ্টা থাকবে। এছাড়া পণ্য ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার সুযোগও সৃষ্টি হবে। এর ফলে উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি কার্যকর হলে পণ্য ও সেবার বাণিজ্যে বিভিন্ন বাধা কমানোর পাশাপাশি ব্যবসা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি করার পথ তৈরি হবে। তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে পরবর্তী ধাপে এর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, সরকার তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার… আমরা তো এই তিনটা দাবিতে রাজপথে আছি। সরকার তো এই দাবিগুলো মানছে না। দাবিগুলো মানলে তো ককটেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।’
গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে এনসিপির প্রতিবাদ মিছিল শেষে তিনি এই বক্তব্য দেন। নেভি গলিতে দাঁড়িয়ে দেওয়া বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাদের দাবি মানলে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে এবং দলটি নিষিদ্ধ হলে তাদের কর্মীদের (আওয়ামী লীগের) ককটেল মারার সুযোগও থাকবে না।
আরো পড়ুন
স্থায়ী বিচারপতি হলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী।
তিনি আরো বলেন, ‘গতকালও দুটি মিছিল হয়েছে। আওয়ামী লীগকে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বাংলাদেশে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার। ১১ দলীয় জোট এটাই তো বলে আসছে।’
১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো মিছিল না করার অভিযোগের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এটা সত্য নয়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তিন বোনের ৩০ দিনের আটকাদেশের বিরুদ্ধে লাহোর হাইকোর্টে একটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনকারীরা তাদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। সোমবার দাখিল করা এই আবেদনে আটকাদেশগুলো বাতিল করার অনুরোধ করা হয়েছে।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের বোন আলিমা খানের ছেলে শাহরাইজ খান আবেদনটি করেছেন। তিনি আদালতের কাছে তার মা এবং ইমরান খানের অন্য দুই বোনের বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশকে অবৈধ ঘোষণা করার আবেদন করেছেন। এএনআই নিউজ জানাচ্ছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর লাহোরের ডেপুটি কমিশনার জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের ৩ নম্বর ধারার আওতায় ৩০ দিনের আটকাদেশ জারি করেন। এই আদেশে ইমরান খানের বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিককে আটক করার ব্যবস্থা করা হয়। তাদের মধ্যে আলিমা খানকে এর আগেই আটক করা হয়েছিল। পরে সোমবার উজমা খান ও নরিন নিয়াজিককেও আটক করা হয়।
আবেদনে শাহরাইজ খান উল্লেখ করেন, লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের জারি করা আটকাদেশ আইনসম্মত নয়। তিনি দাবি করেন, আলিমা খানকে ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার সময় আটক করা হয়েছিল। ওই সময় জনশৃঙ্খলা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন কোনো জনসমাবেশ বা পরিস্থিতি ছিল না। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলিমা খান এবং তার গাড়িচালক মুহাম্মদ আমিরকে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়েছে। শাহরাইজ খান তার মাকে আইন মান্যকারী একজন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, আলিমা খান কখনো এমন কোনো কাজে জড়িত ছিলেন না, যা জননিরাপত্তা বা জনস্বার্থের ক্ষতি করতে পারে।
আবেদনকারীর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধীদের চাপ এবং পুলিশের মৌখিক পরামর্শের ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন এই আটকাদেশ জারি করেছে। তার দাবি, আটকাদেশের সরকারি নথিতে আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, লাহোরের ডেপুটি কমিশনার, লাহোর পুলিশের প্রধান এবং লাহোর সেন্ট্রাল জেলের কারা তত্ত্বাবধায়ককে বিবাদী করা হয়েছে। ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের একের পর এক আটকের ঘটনায় তার ছেলে কাসিম খানও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি এসব ঘটনাকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাসিম খান অভিযোগ করেন, তার খালা উজমা খান ও নরিন নিয়াজিক এবং তার চাচাতো ভাই শেরশাহ ও শাহরাইজ খানকে তাদের বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের কেন আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। কাসিম খান আরো বলেন, তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না এবং পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের এই আটকের ঘটনা ঘটেছে। আটকাদেশের বৈধতা নিয়ে করা আবেদনটি বর্তমানে লাহোর হাইকোর্টে বিচারাধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তির প্রায় এক বছর আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমা ‘রাকা’ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়ে বিশ্বমঞ্চে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তেলুগু সুপারস্টার আল্লু অর্জুন এবং প্রখ্যাত তামিল পরিচালক অ্যাটলি নির্মিত এই সিনেমাটি একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীর রিয়েল-টাইম মোশন-ক্যাপচার করার মাধ্যমে এই অনন্য কীর্তি অর্জন করেছে। খবরটি প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।
গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর), সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান পিকচার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করে এই তথ্য জানায়, যেখানে আল্লু অর্জুন এবং পরিচালক অ্যাটলিকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সার্টিফিকেট হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই রেকর্ডটি ১৫ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে গড়া হয়েছে।
ছবিটির প্রযুক্তিগত বিশালতা নিয়ে চলচ্চিত্র মহলে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসার জোয়ার বইছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে পরিচালক সিবী চক্রবর্তী মন্তব্য করেন, ছবিটির ভিজ্যুয়ালের মান এতটাই অসাধারণ যে এটি হলিউডের ‘অ্যাভাটার’-এর সঙ্গেও তুলনা করা যেতে পারে।
তিনি পরিচালক অ্যাটলিকে এস এস রাজামৌলির সঙ্গে তুলনা করে বলেন যে, রাজামৌলির মতো অ্যাটলিও ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ছবির গীতিকার বিবেকও মন্তব্য করেছেন যে, এমন বিশাল পরিসরের কাজ সাধারণত হলিউডেই দেখা যায়।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আল্লু অর্জুনের জন্মদিনে ছবিটির প্রথম লুক প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখানে তাকে সম্পূর্ণ নতুন একটি লুকে দেখা গিয়েছিল। পরিচালক অ্যাটলি জানিয়েছেন যে, এই গল্পটি তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নিজের মনে লালন করে আসছেন।
সান পিকচার্স প্রযোজিত এবং সাই অভ্যাঙ্করের সংগীতে দীপিকা পাড়ুকোন ও আল্লু অর্জুন জুটির এই সিনেমাটি কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার পরিধি ও মানকে বিশ্বমানের বিনোদনের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার একটি অনন্য উদ্যোগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মন্তব্য করেছেন যে, এলডিসি থেকে উত্তরণ মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ একটি দেশের উন্নয়নযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত না করে বরং তা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘এলডিসি-জিআইএফ মেকানিজম ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড হাই-লেভেল ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ড. তিতুমীর জানান, উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলো এখনো কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা ও সীমিত উৎপাদন সক্ষমতার মুখোমুখি রয়েছে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অভিঘাত, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পায়ন, সমন্বিত উদ্যোগ, জ্বালানি রূপান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সহায়তা প্রয়োজন।
অর্থ উপদেষ্টা এলডিসিগুলোর জন্য আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় এসব দেশে প্রযুক্তি হস্তান্তর এখনো অপ্রতুল।
ড. তিতুমীর আশা প্রকাশ করেন যে, এলডিসি গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ফ্যাসিলিটেশন (এলডিসি-জিআইএফ) উদ্যোগ প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্পে এর প্রয়োগ ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা, কাঠামোগত রূপান্তর ও টেকসই উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ