০৮:২৫ এম
নিত্যপণ্যের দাম, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিলসহ বিভিন্ন খরচ সামলাতে অনেক পরিবারকে সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। মাসের শুরুতে আয় এবং ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকলেও মাসের শেষে দেখা যায়, বাজেটের তুলনায় খরচ বেড়ে গেছে। তবে কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি সঞ্চয় করাও সম্ভব। সংসারের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে। আসুন জেনে নিই ৭ কৌশল—
কেনাকাটার আগে প্রয়োজন বুঝুন
দোকানে পছন্দের কিছু দেখলেই কিনে ফেলার অভ্যাস অনেক সময় বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোনো জিনিস কেনার আগে ভাবুন, সেটি এখনই প্রয়োজন কিনা। যদি জরুরি না হয়, তাহলে কেনার সিদ্ধান্ত কিছুদিন পিছিয়ে দিতে পারেন। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সহজ হবে।
আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা
বাজারের তালিকা তৈরি করুন
বাজারে যাওয়ার আগে কী কী প্রয়োজন, তার একটি তালিকা তৈরি করুন। ঘরে চাল, ডাল, তেল বা অন্যান্য নিত্যপণ্যের মজুত কতটুকু আছে, সেটিও খেয়াল করুন। তালিকা ধরে কেনাকাটা করলে প্রয়োজনের বাইরে পণ্য কেনার প্রবণতা কমে যাবে।
সংসারের মোট আয় কত, এবং কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে—তা হিসাব করে মাসিক বাজেট তৈরি করুন। খাবার, বাসাভাড়া, যাতায়াত, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো প্রয়োজনীয় খরচকে অগ্রাধিকার দিন। পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী সঞ্চয় এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য কিছু টাকা আলাদা রাখুন।
প্রতিদিনের খরচ লিখে রাখুন
আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির অর্থভাগ্যে সতর্কতা, জেনে নিন রাশিফল
ছোট ছোট খরচের হিসাব না রাখলে মাস শেষে বড় অঙ্কের টাকা কোথায় ব্যয় হলো, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতিদিনের কেনাকাটা ও অন্যান্য ব্যয়ের হিসাব খাতায় বা মোবাইলে লিখে রাখুন। মাস শেষে হিসাব পর্যালোচনা করলে কোন খাতে খরচ কমানো সম্ভব, তা সহজেই বুঝতে পারবেন।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির অপচয় বন্ধ করুন।
অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু রাখবেন না। রান্নার সময় গ্যাসের ব্যবহারেও সচেতন থাকুন। পানির কল ব্যবহারের পর ভালোভাবে বন্ধ করুন। এসব ছোট অভ্যাস একদিকে সম্পদের অপচয় কমাবে, অন্যদিকে মাসিক বিলের চাপও কমাতে সাহায্য করবে।
ছাড়ের প্রলোভনে অতিরিক্ত কিনবেন না
আরও পড়ুন: ৫৩ বছরেও ফিট থাকার জন্য শচীন ছেড়ে দিলেন দুই বদঅভ্যাস
বিভিন্ন দোকান ও সুপারশপে প্রায়ই বিশেষ ছাড় বা একটির সঙ্গে আরেকটি পণ্য বিনা মূল্যে দেওয়ার অফার থাকে। তবে শুধুমাত্র ছাড় পাওয়ার জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা ঠিক নয়। পণ্যটি সত্যিই কাজে লাগবে কিনা, মেয়াদ কত দিন আছে এবং ছাড়ের পর দাম যুক্তিসংগত কিনা—এসব যাচাই করে কিনুন।
বাজার করার সময় ও স্থান বুঝে নিন।
একই পণ্যের দাম দোকান বা বাজারভেদে আলাদা হতে পারে। তাই কেনাকাটার আগে কয়েকটি জায়গার দাম তুলনা করে দেখতে পারেন। কিছু বাজারে দিনের শেষ দিকে নির্দিষ্ট পণ্যে ছাড় পাওয়া যায়। তবে সব পণ্যের দাম তখন কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পণ্যের মান ও সতেজতা বিবেচনায় রেখেই কেনার সিদ্ধান্ত নিন।
অভ্যাসের পরিবর্তনেই মিলতে পারে সাশ্রয়।
আরও পড়ুন: ২৮ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা
সংসারের খরচ কমানোর জন্য সব সময় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। পরিকল্পিত কেনাকাটা, নিয়মিত হিসাব রাখা এবং অপচয় এড়িয়ে চলার মতো অভ্যাসই দীর্ঘ মেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আয় বাড়ানো সব সময় সম্ভব না হলেও ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন