মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৩ এম
ফরিদপুরের নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কারণে চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
এটি ঘটেছে সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় কিছু ব্যক্তিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে নগরকান্দা প্রেসক্লাবে সারের ডিলার নিয়োগের অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন খোরশেদ আহমেদ দোলন এবং অন্যান্য ভুক্তভোগীরা। এর ফলস্বরূপ ক্ষিপ্ত হয়ে আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সারের ডিলারশিপ প্রাপ্ত মেসার্স এসএস এন্টার প্রাইজের মালিক শিবলী সাদিক, যিনি তুষার মন্ডল নামেও পরিচিত, ২০-২৫ জন লোক নিয়ে বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে যান।
সেখানে খোরশেদ আহমেদ দোলন, সুমন তালুকাদার, ওয়াজেদ মোল্যা এবং মোস্তাক আহমেদ কলি মন্ডলের ওপর অতর্কিত হামলা চালান শিবলী সাদিক ও তার সঙ্গীরা।
হামলার সময় চারজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, নগরকান্দা পৌরসভা এবং উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খোরশেদ আহমেদ দোলন ও অন্যান্য ভুক্তভোগীরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিবলী সাদিক তাদের ওপর হামলা চালান।
হামলার বিষয়ে মেসার্স এসএস এন্টার প্রাইজের মালিক শিবলী সাদিককে ফোন করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে চার্জ নেই বলে কল কেটে দেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বারবার ফোনের লাইন কেটে দেন।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জে গত সাত মাসে ৮৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে, জেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশগত কারণে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ নেই এবং এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় সকলেই ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও চট্টগ্রামের মতো ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় কাজকর্ম করা শ্রমজীবী মানুষ। এপ্রিলের শেষার্ধ থেকে চলতি অক্টোবর পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৯ জন এবং ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই রোগীদের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, শান্তিগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ধর্মপাশায় রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার ডেঙ্গু আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে ছয়টি শয্যার মধ্যে মাত্র একজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। রোগীরা জানিয়েছেন, বড় শহরগুলোতে কাজের প্রয়োজনে অবস্থানকালে তারা সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গ্রামে ফেরেন। পরে জ্বর না কমায় হাসপাতালে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ মো. আফজাল হোসেন মন্তব্য করেন, ‘আক্রান্তদের সবাই ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় কাজ করতেন। সাধারণ জ্বর নিয়ে বাড়ি ফেরার পর পরীক্ষায় তাদের ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। ভ্রমণের সময় সতর্কতা অবলম্বন এবং দূরপাল্লার বাসে অ্যারোসল স্প্রে করলে এর প্রকোপ আরও কমে আসবে। এছাড়া দুর্গাপূজার ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের অসচেতনতার কারণে রোগীর সংখ্যা কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
আইসোলেশন ওয়ার্ডের নার্স মিনা ফারিহা জানান, ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা থেকে আসা কারও জ্বর দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে এসে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত। এতে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার পাশাপাশি রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. যশোবন্ত ভট্টাচার্য জানান, দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সুনামগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অনেক কম। মূলত যাদের ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলে ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে, তারাই আক্রান্ত হচ্ছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণের জন্য প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি নারীস্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান জনগণের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।’
রোববার জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাও: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে কীভাবে নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়, বাংলাদেশ তা করে দেখাবে।’
তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।
ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, ‘খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন।’
তিনি উল্লেখ করেন, নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়; এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়িয়ে কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের আক্রান্তকারী প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলোও নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।’
তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কর্মী নিয়োগের সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।
মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’
জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের কোনো নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না।’
তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা কখনোই ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, এটি কেবল স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়; বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’
নারীর ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছেন। যার সুফল পাচ্ছেন নারীরা। ‘
তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবার পরিকল্পনার ওপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।’
অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান।
নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।
এ উদ্যোগে অংশীদারত্বের জন্য তিনি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকারী। আর গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া উচিত।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিগণ প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনায় অংশ নেয়।
এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে- ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিন।
নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস:
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ২ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর। বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার কারণে সেখানে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন। তাদের অন্য বিমানবন্দর দিয়ে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বিকেল আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে সংঘটিত ওই হামলায় ১৩ জন বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিহত হন এবং ৩০৯ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের একজন হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. শাহেদ আহম্মেদ। তিনি সৌদি আরবের জেদ্দায় সা'দ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন এবং দেশে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার জন্য বিমানবন্দরে ট্রানজিট ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন। অপরজন হলেন মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। তিনি পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
এদিকে আহত ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদিপ্রবাসী কর্মী এবং ১৬ জন ওমরাহ যাত্রী। তাদের মধ্যে ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন বাকি ১৫ জনের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে আইসিইউতে থাকা নওগাঁর সাফফাত রহমানের ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে। অন্যদিকে রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাকার লালবাগের মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভের বাম পা কেটে ফেলতে হয়েছে।
হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দরে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে ১৭ জনকে ম্যারিয়ট হোটেল, ২৫ জনকে রেডিসন ব্লু এবং ৪০ জনকে রিয়াদস্থ প্রিন্সেস নুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে সৌদি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দাম্মামস্থ কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলা ৩ জন বাংলাদেশির জন্য জরুরি ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেছে দূতাবাস।
এদিকে সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। এর ফলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে রিয়াদে কর্মী আগমন এবং রিয়াদ থেকে দেশে সাধারণ কর্মী, অসুস্থ ব্যক্তি ও মৃতদেহ প্রেরণ বাধাগ্রস্ত হবে বলে দূতাবাস জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে।
এ বৈঠক সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে বাড়ানোর বিষয়টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে আলোচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ