০৯:৫৫ এম
হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের নিয়ে ভয়ানক বাণিজ্য শুরু করেছে কিছু এজেন্সি। অভিযোগ উঠেছে যে, একটি প্রতিষ্ঠান অর্থের বিনিময়ে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাত্রী বিক্রি করছে। হাত বদলের মাধ্যমে একেক জনের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আত্মসাৎ করছে চক্রটি। এই তথ্যগুলো সময় সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি ওমানের মাস্কাট বিমানবন্দরে দেখা গেছে, ক্লান্তিতে নুয়ে পড়েছেন ওমরাহ যাত্রীরা। যাতায়াতে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ওমরাহ পালনকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, একাধিক এজেন্সি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
তারা জানাচ্ছেন, সরাসরি ফ্লাইট দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ট্রানজিটের মাধ্যমে তাদের যাত্রা করতে হয়েছে। এতে প্রায় ১৬ ঘণ্টা সময় লেগেছে। বিমানে খাবারও প্রদান করা হয়নি। এছাড়া, কথা ছিল মদিনার পাশাপাশি হোটেল দেওয়ার। কিন্তু তাদের এমন জায়গায় হোটেল দেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে আধা ঘণ্টা পথ হেঁটে আসতে হয়।
আরও পড়ুন: চাটমোহরে তিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি ও নতুন পদায়ন
বক্তব্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করে সময় সংবাদ। কয়েকজন ওমরাহ পালনকারীর তথ্য পর্যালোচনা করে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। জনপ্রতি ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর প্রথম এজেন্সি একে একে আরও তিনটি এজেন্সির কাছে যাত্রীদের ডকুমেন্ট বিক্রি করে দেয়। সবশেষ যে এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ পালনকারীরা সৌদি গিয়েছিলেন, সেই এজেন্সি পেয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। বাকি ৪৩ হাজার টাকা ভাগ করে নেয় তিনটি এজেন্সি।
সবশেষ এজেন্সি জানিয়েছে, তাদের ফুল প্যাকেজ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। অন্য কোনো এজেন্সি অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে থাকলে, সেটার জন্য তারা জবাব দিতে বাধ্য।
এবার প্রতারণার শিকার দুজনকে নিয়ে রাজধানীর পল্টনে চায়না টাওয়ারে মাস্ক হজ গ্রুপের অফিসে যায় সময় সংবাদ। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রমাণ তুলে ধরলে প্রতিষ্ঠানটি দুজনকে ১৫ হাজার টাকা করে ফেরত দেয়।
অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
হাবের সেক্রেটারি জেনারেল ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন,
"মন্ত্রীর কাছে অনেক ওমরাহযাত্রী এসে অভিযোগ করেছেন যে, তাদের ফেরার টিকিট নেই। এগুলো যাচাই করে দেখা গেছে, মাস্ক হজ গ্রুপ নামে একটা গ্রুপ এ যাত্রীদেরকে পাঠিয়েছিল ওয়ানওয়ে টিকিট দিয়ে। হাবের কাছে অভিযোগ আসার পর তাদেরকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি। এগুলোর বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে যারা প্রতারণার চিন্তা করবে, তারা অন্তত এই চেষ্টা থেকে দূরে থাকবে।"
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অর্থ আত্মসাৎ তো রয়েছেই, লাইসেন্স ছাড়াও কার্যক্রম পরিচালনা করছে অনেক এজেন্সি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রয়েছে আরও গুরুতর অভিযোগ।
আরও পড়ুন: বিএমডিএ’তে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশনা প্রদান করেছে তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন