০১:০০ পি.এম
অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস পার্টির সিনেটর জর্ডন স্টিল-জন নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের পেছনে ‘কুৎসিত রাজনৈতিক খেলা’ রয়েছে যা তার দলের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে।
বিবিসি সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার গ্রিনস পার্টির নেতা ডেভিড শুব্রিজ জানান, ৩২ বছর বয়সী স্টিল-জন দলীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ থেকে বিরতি নিয়েছেন। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে দলের বর্তমান ও সাবেক সাত সদস্য একটি চিঠি প্রদান করেছেন।
স্টিল-জন রবিবার অনলাইনে একটি পোস্টে বলেন, অভিযোগগুলো সত্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি কোনো ছুটিতে নেই। শ্লীলতাহানির অভিযোগের ব্যাপারে তিনি জানান, পুলিশ তদন্ত শেষে মামলাটি বন্ধ করে দিয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো অভিযোগও গঠন করা হয়নি। অন্য অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বদলাচ্ছে: বিশ্লেষক
স্টিল-জনের মস্তিষ্কে পক্ষাঘাতজনিত সমস্যা রয়েছে এবং তিনি চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রথমবারের মতো সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাবে স্টিল-জন তার ডাকনাম ‘ফিলস অন হুইলস’ নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার জন্য শুরুতে এই নাম ব্যবহার করা হতো। তবে পরে নারীদের সঙ্গে তার কথিত অশালীন আচরণের প্রসঙ্গে ডাকনামটি ‘আরো ভয়ংকর অর্থ’ পেয়েছে।
স্টিল-জন দাবি করেন, দলীয় নেতা ডেভিড শুব্রিজ অভিযোগগুলো যথাযথভাবে সামাল দেননি। তিনি অভিযোগসংবলিত চিঠি পাঠানোর সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। স্টিল-জনের ভাষ্য, পরবর্তী ফেডারেল নির্বাচনে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের পরবর্তী ধাপের সময়সূচি নিয়ে সমঝোতা হওয়ার পরদিনই শুব্রিজের কাছে অভিযোগগুলো পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।’
চিঠিটি পাঠানোর কয়েক দিন পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক বছর আগে স্টিল-জনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তালিকা নিয়ে ৪৭ পৃষ্ঠার একটি নথি তৈরি করেছিল গ্রিনস পার্টি। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে এলে সংবাদমাধ্যমের খবর কীভাবে সামাল দিতে হবে, সে বিষয়ে নথিতে নির্দেশনা ছিল।
আরও পড়ুন: ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দুই নেতার আটকাদেশ দুই দিন বৃদ্ধি
স্টিল-জন বলেন, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই নারীকে যেন সংবাদমাধ্যম ‘নানা প্রশ্নে জর্জরিত’ না করে, সে জন্য নথিটি তৈরি করা হয়েছিল। তার দাবি, ওই দুই নারীর কেউই কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।
স্টিল-জন স্বীকার করেন যে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যতটা সম্ভব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রেখে কাজ করার মাধ্যমে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন