০১:২০ পি.এম
বরিশাল বিমানবন্দরে আধুনিকায়নের কাজ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে শেষের দিকে রয়েছে। নতুন টার্মিনাল ভবন, যাত্রীসেবার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিমানবন্দরটির চিত্র পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে উন্নত অবকাঠামো গড়ে উঠলেও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ফ্লাইট সংকটে প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না।
বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহে মাত্র তিন দিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রী সংকটের অজুহাতে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো এ রুট থেকে সরে গেছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে আকাশপথে যাতায়াত করতে না পেরে যাত্রীদের সড়ক ও নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে অবস্থিত বিমানবন্দরে গিয়ে সরজমিনে দেখা যায়, আধুনিকায়নের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। নতুন টার্মিনাল ভবনে কাঁচ বসানো, সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিভিন্ন কাজে নির্মাণশ্রমিকেরা ব্যস্ত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে সড়কের দুই পাশে ১৬ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহের বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও রোববার ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফলে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াত করতে হলে যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা বেছে নিতে হচ্ছে। সড়কপথে বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা, নৌপথে লাগে প্রায় আট ঘণ্টা। অন্যদিকে আকাশপথে যাত্রার সময় মাত্র ২০ মিনিট।
সচেতন সমাজের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় বরিশাল রুটে বিমানযাত্রীর সংখ্যা কমেছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি যাতায়াতের ক্ষেত্রে বরিশাল বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও সীমিত ফ্লাইটের কারণে এ সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বরিশাল নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম রাজন মন্তব্য করেন, 'বরিশাল বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ফ্লাইট চালু করা গেলে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াতকারী মানুষের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।'
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ বলেন, 'বরিশাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর। অথচ এখানকার মানুষ প্রয়োজনের সময় নিয়মিত বিমানসেবা পাচ্ছেন না। বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো যাতে আবার এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে, সে জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।'
আরও পড়ুন: বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণে মামলা গ্রেপ্তার নেই
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বিমানবন্দরটি উন্মুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন পর যাত্রীসেবার মান বাড়ানো ও অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে আধুনিকায়ন প্রকল্প।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তিন বছর মেয়াদি চুক্তিতে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে দুই তলাবিশিষ্ট টার্মিনাল ভবন। এছাড়া কনভেয়ার বেল্ট স্থাপন, পার্কিংয়ের পরিসর বাড়ানো, সাবস্টেশন নির্মাণ, উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের দুটি এপ্রোন সম্প্রসারণ, পিএপিআই লাইট স্থাপন এবং টয়লেট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ।
বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায় জানান, 'আধুনিকায়নের আওতায় যাত্রীসেবা ও পরিচালনাগত অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। এসব উন্নয়নের মাধ্যমে বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। তবে ফ্লাইটের সংখ্যা ও রুট সম্প্রসারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।'
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, 'দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বরিশাল বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ চালু করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে।'
আরও পড়ুন: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে আছে সরকার, ‘সংখ্যালঘু’ বলতে কোনো শব্দ নেই: প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর এমপি
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মন্তব্য করেন, 'বরিশাল বিমানবন্দরে আধুনিকায়নের কাজের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লাইট চালু রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করা গেলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম রুট চালুর উদ্যোগ নেয়া হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।'
তথ্য অনুযায়ী, চার বছর আগেও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও নভোএয়ারসহ একাধিক বেসরকারি সংস্থা এ রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করত। বর্তমানে এ রুটে কেবল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসই ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন