দিরাই, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: হামিদুল ইসলাম
০১:৩২ পি.এম
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৭ নম্বর জগদল ইউনিয়নের মিঠাপুর হাওরে অতিরিক্ত পানি কমে যাওয়ায় বোরো ধানের চারা রোপণের জমিগুলো দ্রুত শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে বোরো মৌসুমে ধানের চারা রোপণ ও জমি প্রস্তুত করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাওরের জমি থেকে পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় অনেক জমির মাটি শক্ত হয়ে গেছে। ফলে এসব জমিতে হালচাষ ও চারা রোপণের উপযোগী করে তুলতে আগের তুলনায় বেশি পরিশ্রম ও খরচের প্রয়োজন হতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু জমিতে পানি দেওয়া শুরু করেছেন কৃষকেরা, যাতে মাটির আর্দ্রতা বজায় রেখে জমি চাষের উপযোগী করা যায়।
কৃষকদের আশঙ্কা, শক্ত মাটিতে হালচাষ করতে অতিরিক্ত খরচ হবে। পাশাপাশি জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকলে ধানের চারা রোপণ ও সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা ব্যাহত হতে পারে। জমির অবস্থা অনুযায়ী সেচের পানি, শ্রমিক, জমি চাষ এবং সার ব্যবহারে অতিরিক্ত ব্যয়ও বাড়তে পারে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘সু-খবর, সু-খবর, সু-খবর’— দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার অনেক বাসিন্দার প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভাঙে মাইকের উচ্চ শব্দে। কখনো বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাওয়ার ঘোষণা আসে; কখনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি, দোকান-হোটেল ও শোরুম উদ্বোধনের প্রচার করা হয়। এর পাশাপাশি কম দামে মুরগি, গরুর মাংস, মোবাইল সিমসহ বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনও প্রচারিত হয়। সকাল থেকে শুরু হয়ে কোথাও রাত ৮টা, আবার কোথাও রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এই মাইকিং। প্রতিদিনের এই কোলাহলে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি হারাচ্ছেন।
উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে মাইক লাগানো ভ্যান ও ইজিবাইক চলার সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞাপনের শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরে থেকেও অনেকের রেহাই মেলে না। শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বিশ্রামেও বিঘ্ন ঘটে। দোকানে বসে ব্যবসা করতে গিয়ে ক্রেতার কথাও ঠিকমতো শুনতে পান না অনেকে। প্রচারের এই আয়োজন কারও কাছে ব্যবসা বাড়ানোর কৌশল হলেও সাধারণ মানুষের জন্য তা প্রতিদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোর হলেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং শুরু হয়। বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকদের প্রচার, কোচিং সেন্টারে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানে পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার করা হয়। কখন, কতটা শব্দে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মাইকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ কাজের জন্য তাঁদের দৈনিক আটশত থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভ্যান ও ইজিবাইকে একাধিক মাইক লাগিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান তাঁরা। কোচিং সেন্টার ও শোরুমের বিজ্ঞাপনেও উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার করা হয়।
শিক্ষার্থী ইমন ইসলাম বলেন, “উচ্চ শব্দে মাইকিংয়ের কারণে বাসায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এমন শব্দ খুবই বিরক্তিকর। প্রচারের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও শব্দের মাত্রা মেনে চলা উচিত। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চাই।”
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে। চা বিক্রেতা রকিবুল ইসলাম রকি বলেন, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইকিং চলায় দোকানে বসে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে সমস্যা হয়, অনেক সময় অর্ডারও ঠিকমতো শুনতে পাই না। প্রচারের নামে এভাবে শব্দ সৃষ্টি না করে নির্দিষ্ট সময় ও সহনীয় মাত্রায় মাইকিং করা উচিত।”
মোটরসাইকেল পার্টস বিক্রেতা শাকিল বলেন, “দোকানে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলা ও পণ্যের বিষয়ে বোঝাতে গিয়ে মাইকের উচ্চ শব্দে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন শব্দ চলায় কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে মাইকিংয়ের শব্দ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।”
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধিমালা থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারপাশের ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা দিনে ৫০ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপরিসরে মাইক ও লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল ওহাব বলেন, “উচ্চ শব্দে মাইকিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় পড়ার সময় এমন প্রচার তাদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। প্রচার-প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় ও শব্দের মাত্রা মেনে চলা উচিত। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফেরদৌস আলম রাসেল বলেন, সাধারণত মানুষের শ্রবণের জন্য ৪৫ ডেসিবেল শব্দ সহনীয় মাত্রা। তবে তা ৬৫ থেকে ৭০ ডেসিবেল অতিক্রম করলে ক্ষতিকর হতে পারে। ১৩০ ডেসিবেল শব্দে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর আশঙ্কা থাকে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত যে হারে মাইকিং করা হয়, তাতে শব্দের মাত্রা প্রায়ই ৭০ ডেসিবেলের ওপরে থাকে, যা শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস বলেন, শব্দদূষণের বিষয়টি আমাকে জানিয়ে খুব ভালো করেছেন। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, শব্দদূষণ রোধে সংশ্লিষ্টদের লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হবে। কেউ শব্দদূষণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বাড়ানো কিংবা চিকিৎসাসেবার তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেই প্রচার যেন অন্যের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। খানসামার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, শুধু নির্দেশনা নয়, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে মাইকিংয়ের সময় ও শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ‘সুখবরের’ নামে চলা এই কোলাহল কমিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে-এমনটাই তাদের দাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুলাইমান, পিপিএম।
তিনি টাঙ্গাইল সদর থানাধীন ঐতিহ্যবাহী বড় কালীবাড়ী পূজামণ্ডপ এবং বাসাইল উপজেলার সাহাপাড়া পূজামণ্ডপসহ জেলার একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধি ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি আবহমান বাংলার চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য সকলের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।
এই পরিদর্শনের সময় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ. এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, সহকারী পুলিশ সুপার (সখীপুর সার্কেল) এ. কে. এম. মামুনুর রশীদ, টাঙ্গাইল সদর ও বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ (ওসি), প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ এবং এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় সুপারস্টার বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা সম্প্রতি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পর, তারা প্রথমবারের মতো একসঙ্গে তাদের নতুন সিনেমা নিয়ে হাজির হয়েছেন। রাহুল সাংকৃত্যায়ন পরিচালিত ‘রণবলী’ সিনেমাটি পূজায় মুক্তি পেয়েছে।
বর্তমানে এই সিনেমা নিয়েই তাদের ব্যস্ততা চলছে। সিনেমাটি তেলুগু, তামিল, হিন্দি, মালায়ালাম ও কন্নড় ভাষায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে।
সম্প্রতি, পরিচালক ও সঞ্চালক করণ জোহরের জনপ্রিয় টকশো ‘কফি উইথ করণ ৯’-এর নতুন পর্বের ট্রেলারে তাদের দেখা গেছে। সেই অনুষ্ঠানে খোলামেলা কথোপকথনে অংশগ্রহণ করেন সদ্য বিবাহিত এই তারকা দম্পতি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের পর, তাদের প্রেমের গল্প নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে। তাদের বিয়ের আয়োজনে তেলুগু ও কোডাভা— দুই ঐতিহ্যের ছাপ ছিল। তবে প্রেমের গল্পে কে কাকে আগে মনের কথা জানিয়েছিলেন, তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। আর বিয়ের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ উঠলে তো কথাই নেই!
এবার নিজেদের প্রেম ও বিয়ের গল্প বলতে গিয়ে মজার এক তথ্য ফাঁস করেছেন দক্ষিণী তারকা রাশমিকা মান্দানা। তিনি জানিয়েছেন, বিজয় দেবেরাকোন্ডার কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাবের জন্য তিনি অপেক্ষা করেননি। বরং, তিনি একটানা এক বছর ধরে বিজয়কে বিয়ের কথা বলেছেন।
ট্রেলারে আরও দেখা যায়, পরিচালক করণ জোহর এ তারকা দম্পতিকে তাদের সম্পর্কের গল্প নিয়ে প্রশ্ন করেন। বিজয়কে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি রাশমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন? উত্তরে রাশমিকা মাথা নেড়ে সম্মতি না জানালে বিজয় বলেন— ‘ও-ই বলেছিল, চলো বিয়ে করি।’
এরপর মজার ছলে অভিনেতা বলেন, ‘তুমি আমাকে প্রায় ১০০ বার জিজ্ঞেস করেছ।’ করণ তখন রাশমিকার দিকে ফিরে জানতে চান, সত্যিই কি তিনি বিজয়কে এতবার বিয়ের কথা বলেছিলেন?
মুচকি হেসে রাশমিকা বলেন, ‘আমি তো পুরো এক বছর ধরেই ওকে বলেছি।’ তার এই স্বীকারোক্তিতে অবাক হয়ে যান সঞ্চালক করণ জোহর।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজয় বলেন, ‘আমি তো আর খারাপ মানুষ নই!’ এ তারকা দম্পতির এমন খুনসুটিতে ট্রেলারজুড়ে উঠে এসেছে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের মজার সব ঘটনা।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার পরিচয় ঘটে তেলুগু রোমান্টিক সিনেমা ‘গীতা গোবিন্দম’-এর মাধ্যমে। পরের বছর ‘ডিয়ার কমরেড’ সিনেমাতেও তারা একসঙ্গে অভিনয় করেন। সেই সময় পর্দায় তাদের রসায়ন দেখে বাস্তব জীবনেও প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। তবে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন তারা মুখ খোলেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় পাকিস্তান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মাদ ওয়াসিফ এবং পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল উপস্থিত ছিলেন। বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুরও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বৈঠকে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নিতে তার দেশ আগ্রহী। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় উন্নীত হচ্ছে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক সফরও হয়েছে।
হাইকমিশনার এ সময় ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেন। এছাড়া, বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরের বিষয়েও আলোচনা হয়। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তানের উন্নত শিক্ষা কাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও গবেষণায় যৌথ সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া, পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা।
বৈঠকটি আন্তরিক, ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ