রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৪ পি.এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব এন.এস. (আইইউসানস)-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম. আবু জাফর খান শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইইউসানসের সভাপতি আসাদুল্লাহ আল গালিব, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রাকিব, দপ্তর সম্পাদক খাইরুল ইসলাম এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আবু জাফর খান শুভেচ্ছা বিনিময়কালে আইইউসানসের উত্তরোত্তর সাফল্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষা, নৈতিকতা, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করে দেশ, জাতি ও সমাজের কল্যাণে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
আইইউসানসের সভাপতি আসাদুল্লাহ আল গালিব মন্তব্য করেন, অধ্যাপক ড. এম. আবু জাফর খান স্যার ঝালকাঠি এন. এস. কামিল মাদরাসার একজন কৃতী শিক্ষার্থী হিসেবে নিজ মেধা, প্রজ্ঞা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে আজ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তার এই অর্জন আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি বলেন, "তাঁর আদর্শ ও কর্মময় পথ অনুসরণ করে আমরাও দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের নিবেদিত করতে চাই।"
আইইউসানসের নেতৃবৃন্দ নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আবু জাফর খানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কর্মময় জীবনের সাফল্য কামনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, তার নেতৃত্বে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব যশোরের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সভাপতি পদে জাহিদ হাসান টুকুন পুনরায় নির্বাচিত হন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ হিসেবে নূর ইসলাম বিজয়ী হন।
গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবের মোট ১২১ জন ভোটারের মধ্যে ১১৮ জন সদস্য পরম উৎসাহের সাথে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু উপস্থিত সকলের সামনে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে জাহিদ হাসান টুকুন ৬৮ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফকির শওকত পান ৫৯ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে বিজয়ী নূর ইসলাম পান ৪৫ ভোট। এই পদে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওহাবুজ্জামান নান্টু ৪১ ভোট পান এবং অপর প্রার্থী জুয়েল মৃধা পান ২৯ ভোট।
ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে দেওয়ান মোর্শেদ আলম ৫৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুর রহমান সাইফ পান ৫২ ভোট।
কার্যনির্বাহী সদস্যের ৬টি পদে বিজয়ী ছয়জন হলেন, শহিদ জয় (৯৬ ভোট), রফিকুল ইসলাম (৯২ ভোট), গালিব হাসান পিল্টু (৮০ ভোট), মুর্শিদুল আজিম হিরু (৭৯ ভোট), এস এম সোহেল (৬২ ভোট) এবং তৌহিদ জামান (৫৯ ভোট)।
এর আগে একাধিক প্রার্থী না থাকায় সহ-সভাপতি পদে আনোয়ারুল কবীর নান্টু ও সরোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক পদে কাজী আশরাফুল আজাদ ও ফিরোজ গাজী, কোষাধ্যক্ষ পদে জাহিদ আহমেদ লিটন এবং দফতর সম্পাদক পদে তহীদ মনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়েছে এবং নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সদস্য ও সাংবাদিকবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) ‘ক্যাম্পাস টু করপোরেট সেমিনার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞান ও বাস্তব কর্মজগতের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারভিত্তিক দিকনির্দেশনা ও পেশাগত উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এসটিসি অডিটোরিয়ামে ডিআইইউ বিজনেস ক্লাব ও স্কিল জবসের যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। ‘ক্যাম্পাস ও করপোরেটের মধ্যকার দূরত্ব কমানো’ এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৮০-এর বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে শিল্পখাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের করপোরেট জগতের বাস্তবতা, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, ক্যারিয়ার প্রস্তুতি ও পেশাগত উন্নয়ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেটোপিয়া গ্রুপের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাজেদুল ইসলাম, জেডটিই করপোরেশন বাংলাদেশ লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের কান্ট্রি হেড মো. ইফতেখাইরুল আলম শেহাব, ড্যাফোডিল গ্রুপের গ্লোবাল হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ও এআই বিজনেস হেড পলাশ আহমেদ এবং স্কিল জবসের আইটুআই প্রোগ্রামের প্রধান মো. মামুনুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে ডিআইইউর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান বুশরা ফেরদৌসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ক্যারিয়ার নির্দেশনা, শেখার সুযোগ এবং পেশাগত উন্নয়নে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর সহযোগিতার পথ তৈরি হবে বলে আয়োজকরা জানান।
ডিআইইউ বিজনেস ক্লাবের সভাপতি শেখ সোয়েব বলেন, "আজকের আয়োজনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও অর্থবহ একটি উদ্যোগ। ‘ক্যাম্পাস টু করপোরেট সেমিনার ২০২৬’-এ ১৮০-এর বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এ ধরনের ক্যারিয়ারভিত্তিক উদ্যোগের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহকে তুলে ধরে।"
তিনি আরও বলেন, "ডিআইইউ বিজনেস ক্লাব সবসময়ই শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নির্দেশনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাস্তব কর্মজগতের সঙ্গে পরিচিত করার জন্য বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা ও ইন্ডাস্ট্রি এক্সপোজারের আয়োজন করে আসছে। আজকের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ শিল্প বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে করপোরেট জগতের প্রয়োজনীয়তা ও নিজেদের প্রস্তুত করার বিষয়ে বাস্তব দিকনির্দেশনা পেয়েছে।"
এমওইউ স্বাক্ষরের বিষয়ে শেখ সোয়েব বলেন, "ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নিয়মিত ও কার্যকর ক্যারিয়ারভিত্তিক নির্দেশনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি শেখার সুযোগ, ক্যারিয়ার নির্দেশনা এবং পেশাগত উন্নয়নের পথ তৈরি করবে।"
তিনি আরও বলেন, "ডিআইইউ বিজনেস ক্লাব ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনকে সামনে রেখে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
[[KEEP_1]]
[[KEEP_2]]
[[KEEP_3]]
[[KEEP_4]]
[[KEEP_5]]
[[KEEP_6]]
[[KEEP_7]]
[[KEEP_8]]
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আইন দাবি করেছে, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত এলাকা দখল করার পর সেখানে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাব আল-মান্দেব, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইরানি বিশেষজ্ঞরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হুথিরা পশ্চিম উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ইরান ওই অঞ্চলকে নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাবের অংশ হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর, হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে মোকা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা দখল করে। এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
আল-আইনের দাবি অনুযায়ী, ইরান পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত উঁচু এলাকাগুলোতে রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। এ ছাড়া, সোমালিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম পাচারের জন্য উপকূলীয় এলাকা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে কী ধরনের রাডার স্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি।
নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালিয়ার উপকূল থেকে আসা ইরানি সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাচ্ছে। হোদেইদাভিত্তিক রেড সি ফিশারিজ অথরিটির প্রধান হাসান আল-আত্তাস এসব চালান তদারক করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
আল-আইনের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আল-আত্তাসের নেতৃত্বে একটি চোরাচালান নেটওয়ার্ক কাজ করছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইরান থেকে হোদেইদায় সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে হুথিদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে, হুথিরা পশ্চিম উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সরকারি বাহিনী যাতে দখল করা এলাকা পুনরুদ্ধার করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে পাহাড়ি এলাকায় পরিখা খননের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আল-আইনের দাবি, পশ্চিম উপকূলের উঁচু এলাকাগুলোতে নতুন সামরিক স্থাপনা ও রাডার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। লোহিত সাগরের হানিশ দ্বীপপুঞ্জের কাছে জুকার দ্বীপেও তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইরানি বিশেষজ্ঞরা বাব আল-মান্দেব, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেছেন। তারা হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রকৌশলীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আল-আইনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তৎপরতার মাধ্যমে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলকে ইরান তার আঞ্চলিক প্রভাববলয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করতে চাইছে। এর ফলে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ওপর নতুন করে হুমকি তৈরি হতে পারে।
তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত রাডার স্থাপন ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রদান করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। নিহতদের মধ্যে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসির আল-বুরশও অন্তর্ভুক্ত। শুক্রবারের হামলায় আহত একজন শনিবার মারা যান।
চিকিৎসাসূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরা জানায়, শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া, শুক্রবারের হামলায় আহত একজন শনিবার মৃত্যুবরণ করেন।
শনিবার গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান বাজার এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরাইল ড্রোন হামলা চালায়। এতে একজন নিহত হন এবং অন্তত চারজন আহত হন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে।
হামলার পর গাড়িটিতে আগুন ধরে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেটি জ্বলতে থাকে। পরে উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিভিয়ে দেন। আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া মরদেহটি এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গাজার আলজাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, গাড়িটিতে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসাকর্মী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রায় আধা ঘণ্টা গাড়িটি জ্বলছিল। নিহত ব্যক্তির মরদেহ সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাহমুদ আরও জানান, শনিবার সকাল থেকেই পুরো গাজা উপত্যকার আকাশে ইসরাইলি নজরদারি বিমান, হামলাকারী ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার খুব নিচু দিয়ে উড়ছিল।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ছেলেও নিহত
এর আগে, শনিবার উত্তর গাজার জাবালিয়ায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসির আল-বুরশ নিহত হন। আজ-জাহরা এলাকায় শরণার্থীশিবিরের পশ্চিম দিকে এ হামলা চালানো হয়, যেখানে আরও একজন গুরুতর আহত হন।
বাসিরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আল জাজিরার কাছে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুনির আল-বুরশ তার ছেলের কম্বলে মোড়ানো মরদেহ বহন করছেন। তিনি অন্য স্বজন ও শোকাহতদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি হাসপাতালে নিয়ে যান।
ভিডিওতে মুনির আল-বুরশ বলেন, ‘আমরা পাশাপাশি ছিলাম। বাসির আমাকে বলেছিল, ইসরাইলিরা আমাদের দুজনকেই লক্ষ্য করছে। আমি তাকে বলেছিলাম, ভালো, অন্তত আমরা একসঙ্গে জান্নাতে যাব। তাঁবু থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হত্যা করা হয়।’
আল জাজিরার সাংবাদিক মাহমুদ জানান, স্থানীয় সংগঠনগুলোর পরিচালিত বিকল্প শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলার সময় ওই হামলা হয়। একটি ফিল্ড হাসপাতালের পেছনে এসব শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। তাঁবু থেকে বের হওয়ার সময় বাসিরকে সরাসরি ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত করা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসিরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।
মাহমুদ বলেন, হামলাটি কেন চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দেয়নি। কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার পর সাধারণত ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ হামলার কারণ ব্যাখ্যা করে থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ