রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৬ পি.এম
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আইন দাবি করেছে, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত এলাকা দখল করার পর সেখানে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাব আল-মান্দেব, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইরানি বিশেষজ্ঞরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হুথিরা পশ্চিম উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ইরান ওই অঞ্চলকে নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাবের অংশ হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর, হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে মোকা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা দখল করে। এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
আল-আইনের দাবি অনুযায়ী, ইরান পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত উঁচু এলাকাগুলোতে রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। এ ছাড়া, সোমালিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম পাচারের জন্য উপকূলীয় এলাকা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে কী ধরনের রাডার স্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি।
নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালিয়ার উপকূল থেকে আসা ইরানি সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাচ্ছে। হোদেইদাভিত্তিক রেড সি ফিশারিজ অথরিটির প্রধান হাসান আল-আত্তাস এসব চালান তদারক করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
আল-আইনের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আল-আত্তাসের নেতৃত্বে একটি চোরাচালান নেটওয়ার্ক কাজ করছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইরান থেকে হোদেইদায় সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে হুথিদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে, হুথিরা পশ্চিম উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সরকারি বাহিনী যাতে দখল করা এলাকা পুনরুদ্ধার করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে পাহাড়ি এলাকায় পরিখা খননের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আল-আইনের দাবি, পশ্চিম উপকূলের উঁচু এলাকাগুলোতে নতুন সামরিক স্থাপনা ও রাডার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। লোহিত সাগরের হানিশ দ্বীপপুঞ্জের কাছে জুকার দ্বীপেও তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইরানি বিশেষজ্ঞরা বাব আল-মান্দেব, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেছেন। তারা হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রকৌশলীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আল-আইনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তৎপরতার মাধ্যমে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলকে ইরান তার আঞ্চলিক প্রভাববলয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করতে চাইছে। এর ফলে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ওপর নতুন করে হুমকি তৈরি হতে পারে।
তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত রাডার স্থাপন ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রদান করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। নিহতদের মধ্যে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসির আল-বুরশও অন্তর্ভুক্ত। শুক্রবারের হামলায় আহত একজন শনিবার মারা যান।
চিকিৎসাসূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরা জানায়, শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া, শুক্রবারের হামলায় আহত একজন শনিবার মৃত্যুবরণ করেন।
শনিবার গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান বাজার এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরাইল ড্রোন হামলা চালায়। এতে একজন নিহত হন এবং অন্তত চারজন আহত হন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে।
হামলার পর গাড়িটিতে আগুন ধরে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেটি জ্বলতে থাকে। পরে উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিভিয়ে দেন। আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া মরদেহটি এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গাজার আলজাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, গাড়িটিতে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসাকর্মী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রায় আধা ঘণ্টা গাড়িটি জ্বলছিল। নিহত ব্যক্তির মরদেহ সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাহমুদ আরও জানান, শনিবার সকাল থেকেই পুরো গাজা উপত্যকার আকাশে ইসরাইলি নজরদারি বিমান, হামলাকারী ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার খুব নিচু দিয়ে উড়ছিল।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ছেলেও নিহত
এর আগে, শনিবার উত্তর গাজার জাবালিয়ায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসির আল-বুরশ নিহত হন। আজ-জাহরা এলাকায় শরণার্থীশিবিরের পশ্চিম দিকে এ হামলা চালানো হয়, যেখানে আরও একজন গুরুতর আহত হন।
বাসিরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আল জাজিরার কাছে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুনির আল-বুরশ তার ছেলের কম্বলে মোড়ানো মরদেহ বহন করছেন। তিনি অন্য স্বজন ও শোকাহতদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি হাসপাতালে নিয়ে যান।
ভিডিওতে মুনির আল-বুরশ বলেন, ‘আমরা পাশাপাশি ছিলাম। বাসির আমাকে বলেছিল, ইসরাইলিরা আমাদের দুজনকেই লক্ষ্য করছে। আমি তাকে বলেছিলাম, ভালো, অন্তত আমরা একসঙ্গে জান্নাতে যাব। তাঁবু থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হত্যা করা হয়।’
আল জাজিরার সাংবাদিক মাহমুদ জানান, স্থানীয় সংগঠনগুলোর পরিচালিত বিকল্প শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলার সময় ওই হামলা হয়। একটি ফিল্ড হাসপাতালের পেছনে এসব শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। তাঁবু থেকে বের হওয়ার সময় বাসিরকে সরাসরি ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত করা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসিরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।
মাহমুদ বলেন, হামলাটি কেন চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দেয়নি। কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার পর সাধারণত ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ হামলার কারণ ব্যাখ্যা করে থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত মাংসের তৈরি স্ন্যাকস ‘স্লিম জিম’ সাধারণত কয়েক ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। তবে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার উদ্দেশ্যে, এবার সেই স্ন্যাকসটিকে এক বিশাল আকৃতিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহা শহরে ৪২৯ ফুটেরও বেশি লম্বা একটি স্লিম জিম তৈরি করে আন্তর্জাতিক স্তরে সাড়া ফেলা হয়েছে, যা প্রায় একটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল মাঠের সমান দৈর্ঘ্যের।
এটি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মাংসের স্ন্যাকস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি খ্যাতনামা খাদ্যপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘কনাগ্রা ব্র্যান্ডস’ তাদের কারখানায় এই বিশাল স্ন্যাকসটি তৈরি ও উন্মোচন করে। মেপে দেখা যায়, এর সঠিক দৈর্ঘ্য ৪২৯ ফুট ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। এটি পূর্ববর্তী গিনেস বিশ্ব রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ১১৬ ফুট বেশি লম্বা।
বিশাল এই স্ন্যাকসটি তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ দল ‘ব্লেজ ক্রু’ নিরলসভাবে কাজ করেছে। দলের প্রকৌশলী ও কর্মীরা জানান, স্ন্যাকসটির দৈর্ঘ্য শত শত ফুট বাড়ানো হলেও এর মূল ফর্মুলা ও স্বাদে কোনো পরিবর্তন না আনার জন্য তারা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। দৈর্ঘ্যে অতিরিক্ত বড় হওয়ায় এটি সাধারণ পাত্রে রাখা সম্ভব ছিল না; তাই প্রথমে বিশাল একটি তারের চাকায় পেঁচিয়ে, পরে অনেকগুলো সারিবদ্ধ টেবিলের ওপর লম্বালম্বিভাবে রেখে বিচারকদের সামনে প্রদর্শন করা হয়।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিসিয়াল বিচারক উপস্থিত থেকে ফিতা দিয়ে মেপে স্ন্যাকসটিকে বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতিপত্র প্রদান করেন। কনাগ্রা ব্র্যান্ডসের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেস সোয়েলি জানান, কর্মীদের সৃজনশীলতা, অনন্য দক্ষতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই তারা এই ভিন্নধর্মী উদ্যাপনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। অনবদ্য এই অর্জনের পর বিশাল স্ন্যাকসটির একটি বড় অংশ উৎসবে উপস্থিত কর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যে পাঁচটি নতুন কনটেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক উদ্বোধন করা হয়েছে। এই উদ্বোধনটি করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। উদ্বোধনের সময় তিনি একটি নতুন ট্রাক চালানোর অভিজ্ঞতাও গ্রহণ করেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গাবতলী কাঁচাবাজার এলাকায় এই কনটেইনার ক্যারিয়ারগুলোর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
ডিএনসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, নগরকে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে আরও কনটেইনার যুক্ত করা হবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায়।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিটি করপোরেশন। ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শফিকুল ইসলাম খান জানান, ‘উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় জলাবদ্ধতার পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।’ তিনি নগরবাসীর জন্য একটি বাসযোগ্য সিটি করপোরেশন গড়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের অর্থনীতি চলমান মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়া সংকটের প্রভাব সামলে প্রত্যাশার চেয়ে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঋণমান নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা মুডিস রেটিংস ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশটির প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭ শতাংশে উন্নীত করেছে। পূর্বে সংস্থাটি এই বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল।
মুডিসের মতে, শক্তিশালী ব্যক্তিগত ভোগ, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, জোরালো বিনিয়োগ, সরকারি অবকাঠামো খাতে অব্যাহত ব্যয় এবং সেবামূলকের খাতের চাঙ্গা ভাব ভারতের এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। চলতি অর্থবছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের গতি আরো বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেছে মুডিস।
এক বিবৃতিতে মুডিস জানায়, ‘আমরা শুরু থেকেই ধারণা করেছিলাম ভারত জি-২০ ভুক্ত অন্যান্য সব দেশ ও সমপর্যায়ের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে এগোবে, এখনো সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। তবে কিছু ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।’
মুডিসের এই পূর্বাভাস ভারতের সাম্প্রতিক দুর্দান্ত অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৮ শতাংশ। যদিও খনি ও কিছু ভোক্তাভিত্তিক সেবা খাত কিছুটা মন্থর ছিল, তবুও উৎপাদন ও বিনিয়োগ খাতের জোরদার পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে।
ভারতীয় সরকারের হিসাব অনুযায়ী, পূর্ববর্তী ২০২৬ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি ৭.৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ওই সময় ব্যক্তিগত ভোগ এবং স্থির মূলধন গঠন, উভয় খাতে ৭.৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা যায়।
মুডিসের ধারণা, এই শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কারণেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং বাণিজ্যের চিন্তা বাড়ানো মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ধাক্কা সহজে সামলে নিতে পেরেছে ভারত।
ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির জন্য মুডিসের নতুন ৭ শতাংশের পূর্বাভাস অন্যান্য বৈশ্বিক আর্থিক সংস্থা ও ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমানের তুলনায় অনেকটাই বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬ সালের জুলাই আপডেটে ২০২৭ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৪ শতাংশ দিয়েছিল। আইএমএফ জানিয়েছিল, জ্বালানির উচ্চমূল্য অর্থনীতির গতি কিছুটা ধীর করলেও অভ্যন্তরীণ ভোগ ও সেবা খাত শক্তিশালী থাকবে। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস এবং ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) উভয়েই ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৬.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির অনুমান করেছে।
প্রবৃদ্ধির উজ্জ্বল সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু ঝুঁকির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে মুডিস। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ভোগে আঘাত হানবে। ভারত আমদানীকৃত তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় জ্বালানির দাম দীর্ঘমেয়াদে বেশি থাকলে তা পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ অনেক বাড়িয়ে দেবে।
এ ছাড়া এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে মূল্যস্ফীতি তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ