০৭:০৯ পি.এম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্রোহী হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগ নিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ জুন) রাতের এই ঘটনার স্থান ছিল বিদ্রোহী হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষ। এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সিনিয়র ও জুনিয়র, এবং উভয়ই আহত হয়ে হাসপাতালের ভর্তি হয়েছেন। জানা গেছে, বিদ্রোহী হলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী হান্নান এবং দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধ। মুগ্ধের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে হল প্রশাসনকে জানান হান্নান। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম কক্ষটি পরিদর্শন করলেও সেখানে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি, এমনটাই জানা যায়। পরবর্তীতে হান্নান কক্ষে ফিরে অ্যাশট্রেটে গাঁজার অংশবিশেষ দেখতে পান বলে দাবি করেন। এই ঘটনার মধ্যেই দুজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে হান্নান অভিযোগ করেছেন যে, মুগ্ধের প্রতি তিনি চড় মারেন। পরে রাতের বেলা ৬১৫ নম্বর কক্ষে খাবার খাওয়ার সময় মুগ্ধসহ কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী হান্নানের ওপর হামলা চালান, বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আহত হান্নান জানিয়েছেন, রাতের বেলা ৬১৫ নম্বর কক্ষে হঠাৎ ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিদ্রোহী হলের হাউজ টিউটর ও দর্শন বিভাগের প্রভাষক খাইরুল ইসলামও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। অপরদিকে, গাঁজা সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করে মুগ্ধ বলেছেন, প্রভোস্ট স্যারের উপস্থিতিতে তার রুম তল্লাশি করা হলে মাদকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এরপর তিনি রুম থেকে চলে যান। পরবর্তীতে রুমমেটের ডাকে কক্ষে গেলে তার অ্যাশট্রেটে গাঁজা রেখে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তার ওপর মারধর করা হয়। মুগ্ধের অভিযোগ, তখন হান্নান ভাই তার বুকে লাথি মারেন, গালে চড় দেন এবং ইচ্ছেমতো মারধর করেন। এরপর তিনি বিষয়টি সিনিয়র ও বন্ধুদের জানালে, পরে হাউজ টিউটরকে সঙ্গে নিয়ে তার কাছে গেলে তিনি উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং মারধর শুরু করেন। এরপর এই ঘটনার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন