০৭:১৪ পি.এম
দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, পুতুলনাট্য গবেষক, এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের চিকিৎসার জন্য সরকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২২ জুন) সকালে যখন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে যান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, তখন তারা মুস্তাফা মনোয়ারের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এসময় তারা হাসপাতালের ওই গুণী শিল্পীর শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে অবহিত হন।
এরপর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মুস্তাফা মনোয়ারের চিকিৎসার জন্য একটি আর্থিক সহায়তার চেক তার পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন সংস্কৃতি মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, দেশের শিল্প-সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়াতে সরকার বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে তারা বরেণ্য এই শিল্পীর দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ১৪ জুন মুস্তাফা মনোয়ারকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের স্ত্রী মেরী মনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান যে, তার স্বামীর রক্তচাপ ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন মুস্তাফা মনোয়ার। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। কিছুটা সুস্থ হলেও সম্প্রতি নিউমোনিয়ার জীবাণুতে আক্রান্ত হয়ে তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নাম মুস্তাফা মনোয়ার। শিক্ষকতা দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন, তবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিতি পান পুতুলনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে। টেলিভিশনে শিশুদের জন্য নির্মিত তার নানা অনুষ্ঠান বহু প্রজন্মের কাছে সমান জনপ্রিয়।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাকে ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ প্রদান করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
