প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি প্রতিবেদনে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম উঠে এসেছে সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে। এছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নার এবং আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও রয়েছে আলোচনায়।
দৌড়ে এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। লেবার পার্টির ভেতর এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। প্রায় দশ বছর ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের দায়িত্ব পালন করে তিনি ব্যাপক প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। উত্তর ইংল্যান্ডে তার প্রভাবের কারণে অনেকেই তাকে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে অভিহিত করেন।
সম্প্রতি, তিনি পার্লামেন্টের একটি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে তাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লেবার এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। বার্নহ্যাম অতীতে দুবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ড এবং ২০১৫ সালে জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হন। এর আগে তিনি স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হচ্ছে। লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি দীর্ঘ সময় ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের সভাপতি এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ছিলেন।
দলটির ভেতরে তিনি দক্ষ বক্তা ও নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ রোগীদের সংখ্যা কমাতে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। তবে দলের মধ্যপন্থি ও ডানঘেঁষা অংশে জনপ্রিয় হলেও, কিছু সদস্য তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সংরক্ষিত মনোভাব পোষণ করেন।
আলোচনায় অ্যাঞ্জেলা রায়নারও আছেন। ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম পরিচিত নারী নেতা অ্যাঞ্জেলা রায়নারও সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় রয়েছেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা রায়নারের রাজনৈতিক যাত্রা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প। অল্প বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেও পরবর্তীতে তিনি শ্রমিক আন্দোলন ও ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
একসময় কেয়ার ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি ইউনিসন ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন, যা তার রাজনৈতিক উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০১৫ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জেরেমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আবাসন খাতে সংস্কার এবং ভাড়াটিয়াদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত। তবে ২০২৫ সালে একটি সম্পত্তি ক্রয় সংক্রান্ত কর ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মুখে পড়ে তিনি পদত্যাগ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন