ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারি বর্ষণে সড়ক ধস, হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে


ভারি বর্ষণে সড়ক ধস, হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণের ফলস্বরূপ, ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী হাটসংলগ্ন পিয়াজখালী-চন্দ্রপাড়া সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। এর ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জানা গেছে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পিয়াজখালী বাজার থেকে চন্দ্রপাড়া হয়ে ফরিদপুর-তাড়াইল সড়কের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কটি দিয়ে চলাচল করে। এছাড়াও, পিয়াজখালী এলাকার শয়তানখালী ঘাট থেকে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই ধসে গেছে। যে অংশটি অবশিষ্ট রয়েছে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে এবং যেকোনো মুহূর্তে সেটিও ধসে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

এতে পুরো সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, এবং একই সঙ্গে সড়কসংলগ্ন কয়েকটি পাকা দোকানঘরও হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সড়কটি ধসে গেছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।’

অটোরিকশাচালক সালাম শেখ জানিয়েছেন, ‘বলাশিয়া ঘাট থেকে বিভিন্ন মালামাল এই সড়ক দিয়ে পিয়াজখালী হাটে আনা-নেওয়া করা হয়। রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। তাই দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, ‘প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। তারা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে

সদরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সড়ক ধসের বিষয়টি আমরা জেনেছি। স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই সমস্যা আর না হয়। খুব দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের বহুমুখী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


ইরানের বহুমুখী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে ধারাবাহিক মার্কিন হামলার জবাবে এবার কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই হামলাগুলো পরিচালনা করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী (আর্তেশ) যৌথ অভিযানের মাধ্যমে।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের বিশেষ সামরিক অভিযান ‘নাসর-২’ এর অংশ হিসেবে কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান লজিস্টিক ও সাপোর্ট সেন্টার ‘কেজেএল’ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, এই কেন্দ্রটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর রসদ সরবরাহের প্রধানতম হাব ছিল এবং সফল হামলায় এটি আগুনে পুড়ে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা, একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি এবং হিমার্স লঞ্চার লক্ষ্য করেও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার পর কুয়েতের জনগণের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় আইআরজিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কুয়েতের সাথে তাদের কোনো শত্রুতা নেই; তবে মার্কিন আগ্রাসন রুখতে কুয়েতের মাটি থেকে মার্কিন ঘাঁটি অপসারণের জন্য দেশটির জনগণের সোচ্চার হওয়া উচিত।

একই সময়ে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) সদর দফতরেও বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান। আইআরজিসির ১২তম বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, বাহরাইনে মার্কিন নৌবহরের জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কমান্ড ও কন্ট্রোল ইউনিট, যুদ্ধাস্ত্র ও সামরিক যন্ত্রাংশের বিশাল গোডাউন এবং জ্বালানি ডিপোগুলোতে নিখুঁত নিশানা হেনেছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো। হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার মার্কিন চেষ্টার জবাবে এই পাল্টা আঘাত আনা হয়েছে উল্লেখ করে ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস রপ্তানির সুবিধা হয় সবাই ভোগ করবে, অন্যথায় কেউ করতে পারবে না। মার্কিন আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কঠোরভাবে বন্ধ রাখা হবে বলেও ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোতে ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে তীব্র হামলা চালিয়ে মার্কিন বাহিনীর এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বিশেষ হ্যাঙ্গার এবং বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ স্ট্র্যাটেজিক ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে। এর পরপরই ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব সামরিক অভিযান ‘সায়েকাহ-৮’ এর অধীনে একই বিমানঘাঁটিতে দ্বিতীয় দফায় ড্রোন হামলা চালায়। এই হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান ও ভারী সামরিক সরঞ্জামের বিশাল হ্যাঙ্গারগুলোকে নিশানা করা হয়। জর্ডানের নাগরিকদের প্রতিও ইরান ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিয়ে বলেছে, জর্ডানের পবিত্র ভূমিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যেন কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত ১ হাজার ৯২ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক জানানো হয়েছে যে, গত এক দিনের মধ্যে হামের উপসর্গ সহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে, উল্লেখ্য যে, এই সময়ে হামের কারণে কোনো মৃত্যুর খবর নেই। ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৭৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৭২টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, এবং হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯২০। এসময় ৮৫১টি শিশু নতুন হাসপাতালের ভর্তি হয়েছেন এবং ৮৭৭টি শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত পরীক্ষা করা সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৯০৭। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ৯৬ হাজার ৮৭৮ রোগী, এবং তাদের মধ্যে ৯৩ হাজার ২৬০ জন ইতোমধ্যে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ওআইসির সদস্য ১৮ দূতবাসের সহযোগিতা

ফিলিস্তিন দূতাবাস বন্যাদুর্গত দুই হাজারের বেশি পরিবারকে ত্রাণ দেবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


ফিলিস্তিন দূতাবাস বন্যাদুর্গত দুই হাজারের বেশি পরিবারকে ত্রাণ দেবে

চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম ও সিলেটের দুই হাজারের বেশি পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করবে ঢাকায় অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাস। এই ত্রাণসামগ্রী প্যাকেটজাত করার কাজ চলমান রয়েছে দূতাবাসে, যা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওয়াইসি) সদস্যভুক্ত ১৮টি মুসলিম দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এই মানবিক উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দূতাবাসে সরেজমিনে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবী ও দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মীরা ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য প্যাকেট তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়, বাংলাদেশে অধ্যয়নরত ফিলিস্তিনের শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা অন্যদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে এসব ত্রাণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমে লিপ্ত থাকবে।

প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেটে রয়েছে চাল, খেজুর, চিড়া, মুড়ি, চিনি, লবণ, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও নুডলস। এই খাদ্যসামগ্রী এমনভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে যাতে দুর্গত মানুষ সহজে ও দ্রুত এগুলো গ্রহণ করতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রান্নার প্রয়োজনও হবে না।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ মানবিক। বাংলাদেশে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তাই এ দুর্যোগে ফিলিস্তিনের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। এটি বাংলাদেশের প্রতি ফিলিস্তিনের ঋণের সামান্য অংশ হলেও শোধ করার একটি প্রচেষ্টা।’

ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, ‘১৮টি মুসলিম দেশের দূতাবাসের সহায়তায় প্রায় ৪০ টন ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহের আশা করা হচ্ছে। যদিও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১১ লাখ মানুষের সবার কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে সরকার, সেনাবাহিনী, এনজিও এবং সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে আরো অনেক মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯১ বছর বয়সেও টানা ১৮টি বিশ্বকাপ কভার করছেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


৯১ বছর বয়সেও টানা ১৮টি বিশ্বকাপ কভার করছেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক

বয়স ৯১ বছর। তবে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবং পেশাদারিত্বের কাছে বয়স যেন শুধু একটি সংখ্যা মাত্র।

১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপ থেকে আজ পর্যন্ত ছেলেদের ফুটবলে কোন বিশ্বকাপ মিস করেননি আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক এনরিকে মাকায়া মার্কেজ। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ কাভার করার মাধ্যমে টানা ১৮টি বিশ্বকাপ সাংবাদিকতায় এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় রেকর্ড গড়লেন এই প্রবীণ ব্রডকাস্টার। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত, এমনকি আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি সংবাদ সম্মেলনের পর তার সাথে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্য বিশেষভাবে সময় নেন।

সাত দশকের এই বিশাল ক্যারিয়ারে মাকায়া ফুটবলের বিভিন্ন পরিবর্তন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ১৯৫৮ সালে ২৪ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য সুইডেন গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি দেখেছিলেন ১৭ বছরের এক তরুণ বিস্ময়—তার নাম পেলে। সেই সময় আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়ে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে ৬–১ গোলের হারে কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে পেলে, দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে লিওনেল মেসি—ফুটবল ইতিহাসের সকল মহানায়ককে তার চোখে দেখার এবং বিশ্ববাসীর কাছে তাদের পারফরম্যান্স তুলে ধরার সুযোগ হয়েছে।

দীর্ঘ সময়ে ফুটবলের ধরন অনেক পরিবর্তন হয়েছে, সম্প্রচার মাধ্যম অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল হয়েছে, এবং পরিসংখ্যান এখন তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়। তবে এত পরিবর্তনের মাঝেও মাকায়ার একটি অভ্যাস অক্ষত রয়েছে, তা হলো কাউকে নিয়ে হুট করে চূড়ান্ত মন্তব্য না করা। ২০১৮ সালে স্কালোনিকে আর্জেন্টিনার কোচ করার পর অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। মাকায়াও তখন স্কালোনিকে ঠিকভাবে চিনতেন না, তাই খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না। কিন্তু পরে স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমো এবং কাতার বিশ্বকাপ জিতলে, মাকায়ার বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয় যে, কাউকে গভীরভাবে না জেনে দ্রুত মন্তব্য করা অনুচিত।

আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ধরে রাখার সম্ভাবনা মাকায়া দেখছেন তা খুবই প্রত্যাশিত। বর্তমান দলে তার প্রিয় খেলোয়াড় জানতে চাইলে, স্বভাবসুলভ হাসিমুখে তিনি লিওনেল মেসির নাম বলেন। তবে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কে—মেসি নাকি ম্যারাডোনা? এই চিরন্তন প্রশ্নের জবাবে তিনি মনে করেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের খেলোয়াড়দের তুলনা করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন প্রতিপক্ষ এবং ভিন্ন কৌশলের কারণে সবাই একত্রে অনন্য।

বিশ্বকাপের জয় যেমন তাকে আনন্দ দেয়, তেমনই পরাজয়ের স্মৃতিগুলোও ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করেন। প্রায় ৭০ বছর ধরে ফুটবল ইতিহাসের প্রতিটি সোনালি অধ্যায় ক্যামেরার ওপাশ থেকে লেন্সবন্দি করার পর, এই কিংবদন্তি অবশেষে অবসরের কথা ভাবছেন। ৯১ বছর বয়সে এসেও তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘কোনো একসময় তো আমাকে থামতেই হবে।’ তবে ফুটবলপ্রেমী এবং সহকর্মীদের কাছে মাকায়ার এই বিদায়ের সুর কখনোই চিরতরে হারাবে না, বরং তা ফুটবল ইতিহাসের একটি জীবন্ত দলিল হিসেবে অমর হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%