০৪:১৫ পি.এম
বয়স ৯১ বছর। তবে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবং পেশাদারিত্বের কাছে বয়স যেন শুধু একটি সংখ্যা মাত্র।
১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপ থেকে আজ পর্যন্ত ছেলেদের ফুটবলে কোন বিশ্বকাপ মিস করেননি আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক এনরিকে মাকায়া মার্কেজ। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ কাভার করার মাধ্যমে টানা ১৮টি বিশ্বকাপ সাংবাদিকতায় এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় রেকর্ড গড়লেন এই প্রবীণ ব্রডকাস্টার। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত, এমনকি আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি সংবাদ সম্মেলনের পর তার সাথে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্য বিশেষভাবে সময় নেন।
সাত দশকের এই বিশাল ক্যারিয়ারে মাকায়া ফুটবলের বিভিন্ন পরিবর্তন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ১৯৫৮ সালে ২৪ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য সুইডেন গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি দেখেছিলেন ১৭ বছরের এক তরুণ বিস্ময়—তার নাম পেলে। সেই সময় আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়ে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে ৬–১ গোলের হারে কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে পেলে, দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে লিওনেল মেসি—ফুটবল ইতিহাসের সকল মহানায়ককে তার চোখে দেখার এবং বিশ্ববাসীর কাছে তাদের পারফরম্যান্স তুলে ধরার সুযোগ হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
দীর্ঘ সময়ে ফুটবলের ধরন অনেক পরিবর্তন হয়েছে, সম্প্রচার মাধ্যম অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল হয়েছে, এবং পরিসংখ্যান এখন তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়। তবে এত পরিবর্তনের মাঝেও মাকায়ার একটি অভ্যাস অক্ষত রয়েছে, তা হলো কাউকে নিয়ে হুট করে চূড়ান্ত মন্তব্য না করা। ২০১৮ সালে স্কালোনিকে আর্জেন্টিনার কোচ করার পর অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। মাকায়াও তখন স্কালোনিকে ঠিকভাবে চিনতেন না, তাই খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না। কিন্তু পরে স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমো এবং কাতার বিশ্বকাপ জিতলে, মাকায়ার বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয় যে, কাউকে গভীরভাবে না জেনে দ্রুত মন্তব্য করা অনুচিত।
আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ধরে রাখার সম্ভাবনা মাকায়া দেখছেন তা খুবই প্রত্যাশিত। বর্তমান দলে তার প্রিয় খেলোয়াড় জানতে চাইলে, স্বভাবসুলভ হাসিমুখে তিনি লিওনেল মেসির নাম বলেন। তবে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কে—মেসি নাকি ম্যারাডোনা? এই চিরন্তন প্রশ্নের জবাবে তিনি মনে করেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের খেলোয়াড়দের তুলনা করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন প্রতিপক্ষ এবং ভিন্ন কৌশলের কারণে সবাই একত্রে অনন্য।
বিশ্বকাপের জয় যেমন তাকে আনন্দ দেয়, তেমনই পরাজয়ের স্মৃতিগুলোও ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করেন। প্রায় ৭০ বছর ধরে ফুটবল ইতিহাসের প্রতিটি সোনালি অধ্যায় ক্যামেরার ওপাশ থেকে লেন্সবন্দি করার পর, এই কিংবদন্তি অবশেষে অবসরের কথা ভাবছেন। ৯১ বছর বয়সে এসেও তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘কোনো একসময় তো আমাকে থামতেই হবে।’ তবে ফুটবলপ্রেমী এবং সহকর্মীদের কাছে মাকায়ার এই বিদায়ের সুর কখনোই চিরতরে হারাবে না, বরং তা ফুটবল ইতিহাসের একটি জীবন্ত দলিল হিসেবে অমর হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন: এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে আজ মুখোমুখি হচ্ছে কে-কার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন