বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৭ পি.এম
জার্মানি জাতীয় ফুটবল দলের স্কোয়াডে জাতিগত বৈচিত্র্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বর্ণবাদী মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা ব্যক্ত করেছেন দলের নবনিযুক্ত প্রধান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। তিনি দাবি করেছেন যে জার্মান দল ‘যথেষ্ট শ্বেতাঙ্গ নয়’—এমন বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে ‘অর্থহীন’ এবং ‘মূর্খতা’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।
উয়েফা নেশনস লিগে গ্রিসের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে জার্মানির আকস্মিক পরাজয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু কট্টরপন্থী ও বর্ণবাদী অ্যাকাউন্ট থেকে দলের খেলোয়াড়দের জাতিগত পরিচয় নিয়ে আক্রমণ শুরু হয়। আজ (১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্লপ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এর জবাব দেন।
ক্লপ বলেন, ‘বাস্তব জীবন হোক বা সোশ্যাল মিডিয়া—এই ধরনের মূর্খতার পেছনে নষ্ট করার মতো সময় আমার নেই। যারা এই ধরনের মন্তব্য করে, তাদের কথাকে আমাদের গুরুত্ব দেওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না।’
দলের ভেতরকার সংহতি ও ঐক্য তুলে ধরে ক্লপ আরো বলেন, ‘আমাদের দলটি এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। একটি ক্রীড়া ড্রেসিংরুম থেকে সারা বিশ্বের অনেক কিছু শেখার আছে। সেখানে কে কোন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে তা দেখা হয় না, বরং বাস্তব যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সবাইকে সম্মান করা হয়।’
ক্লপ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাঠের বাইরের এই ধরনের সস্তা সমালোচনা ও বর্ণবাদী অপপ্রচারে দলের মনোযোগ নষ্ট করতে পারবে না এবং তারা মাঠের খেলাতেই পুরোপুরি মনোনিবেশ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে পৃথক দুটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামাল, নগদ টাকা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি থানাধীন সুন্দরপুর ইউনিয়নের সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব ও মগধেশ্বরী মন্দিরে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ রাত আনুমানিক ০২:০০ ঘটিকায় লেলাং ইউনিয়নের শ্রী শ্রী মা মঙ্গল চন্ডী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। পৃথক ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় মামলা রুজু করা হয়।
ঘটনার পরপরই ফটিকছড়ি থানা পুলিশ চুরির ঘটনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনা করে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকে চুরি হওয়া মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে—৩টি পিতলের ঘট, ২টি পিতলের পঞ্চবটি প্রদীপ, ২টি ত্রিশূল, ১টি পিতলের ঘণ্টা, ৬টি পিতলের সরই, ৬টি স্টিলের ছোট-বড় প্লেট, ২টি চামচ, ১টি পিতলের বড় ঘট, ২টি পিতলের কোষা, ১টি বদনা, ১টি কাঁসার গামলা, ১টি গ্লাস, ৬টি পিতলের ছোট থালা, ১টি আরতি, ১টি দুর্গামূর্তি, ৪টি পিতলের বাটি, প্রণামী বক্সে থাকা ১,২০০ টাকা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত ১টি সিএনজি।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়:
১। মোঃ ইউসুফ (৩২)
পিতা-মৃত জয়নাল আবেদীন, মাতা-মৃত মাজেদা বেগম, সাং-কালাকুনা, মালিগাঁও, থানা-দাউদকান্দি, জেলা-কুমিল্লা।
২। মোঃ হাশেম (৪২)
পিতা-রফিকুল আলম, মাতা-মৃত জাহানারা বেগম, সাং-উত্তর ধুরুং, ছিদ্দিক চৌকিদার বাড়ি, থানা-ফটিকছড়ি, জেলা-চট্টগ্রাম।
৩। মোঃ সাহাব উদ্দিন (৪১)
পিতা-মৃত বেলায়েত হোসেন, মাতা-রেজিয়া বেগম, সাং-উত্তর রাঙ্গামাটিয়া, হামজা টিলা, ০১ নং ওয়ার্ড, ফটিকছড়ি পৌরসভা, থানা-ফটিকছড়ি, জেলা-চট্টগ্রাম।
৪। রুহুল আমিন (২৯)
পিতা-মৃত জামির হোসেন, মাতা-আছমা বেগম, সাং-চন্দ্রপুর, থানা-কসবা, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বর্তমান ঠিকানা-ষোলশহর, আই কলোনি, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরের দানবাক্সসহ অন্যান্য মালামাল চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে এবং চক্রটির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফটিকছড়ি থানা পুলিশ চুরি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে অবৈধভাবে সার পাঁচারের চেষ্টার অভিযোগে বেলাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ সকালে এ অভিযান পরিচালনা করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিধান কান্তি হালদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে বেলাল হোসেন সার পাঁচারের চেষ্টা করছেন—এমন গোপন সংবাদ পেয়ে ইউএনও বিধান কান্তি হালদার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার বাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সার (ব্যবস্থাপন) আইনে ২০০৬,এর ১২(১) ধারায় তাকে ৩,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, বাজারে কৃষি উপকরণের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ২০২৪ সালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ ১১ কর্মকর্তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষকেরা হলেন বেরোবির গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “শহীদ আবু সাঈদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের কপি আমরা গত পরশুদিন পেয়েছি। কপি পাওয়ার পর বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। শহীদ আবু সাঈদের প্রতি সম্মান এবং তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘকাল ধরে নীরবভাবে দ্বিপক্ষীয় সংঘাত এড়ানোর পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার। বাণিজ্য শুল্ক, সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত পাকিস্তানপ্রীতি এবং ভিসা বিধিনিষেধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের 'একপেশে' সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সরব হয়েছেন।
সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির একটি অনুষ্ঠানে, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে চরম 'স্বার্থপর' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে ওয়াশিংটন ভারতের সংবেদনশীলতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যে নমনীয়তা দেখাচ্ছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে যেসব একক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য বড় সংকট তৈরি করছে।"
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন দুই দেশের মধ্যে মতভেদের বিষয়গুলো নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা হলেও, মোদী সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এবার প্রকাশ্যে বার্তা দিচ্ছে দিল্লি। বিশেষ করে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের হুমকি এবং সম্প্রতি রুশ তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর বিলে স্বাক্ষর করায় দুদেশের সম্পর্কে বড় ধরণের চিড় ধরেছে।
এছাড়া ভারত-পাকিস্তান গত বছরের চার দিনের সীমান্ত সংঘর্ষের পর ট্রাম্প বারংবার যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে দাবি করায় দিল্লি অসন্তুষ্ট হয়েছে। ভারত কাশ্মীর ইস্যুকে কেবলই দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে দেখলেও, ট্রাম্পের ইসলামাবাদঘেঁষা নীতি এবং মার্কিন ভিসা (H-1B) ফি বৃদ্ধি সাধারণ ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে।
কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পের এই অননুমেয় পররাষ্ট্রনীতির কারণে মোদী সরকার এখন 'ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ' (Waiting out Trump) করার কৌশল গ্রহণ করেছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ