০৩:৪৬ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টাকা ধার না পাওয়ার কারণে এক গৃহশিক্ষিকাকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকায়। বর্তমানে আহত গৃহশিক্ষিকা সিঁথি সীমিতা চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়ান এবং বাড়িতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান। সোমবার সকালে তিনি নিয়মিতের মতো বায়েজিদ মিয়ার বাড়িতে তার মেয়েকে পড়াতে যান। তিনি পড়ানো শেষ করে বাড়িতে ফেরার সময় ভুলবশত তার ছাতা সেখানে ফেলে চলে আসেন। পরে ছাতা আনতে আবার যখন বাড়িতে প্রবেশ করেন, তখন শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া বেগম দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিক্ষিকার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান এবং অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
আহত শিক্ষিকার পরিবারের দাবি, কয়েকদিন আগে প্রিয়া বেগম সিঁথি সীমিতার কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষিকার শ্বশুর মো. শিশু মিয়া বাদী হয়ে ভৈরব থানায় প্রিয়া বেগমকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, "টাকা ধার না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমার পুত্রবধূকে দা দিয়ে কুপিয়ে মাথা ও হাতে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
মামলার এজাহারে ধার চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ না থাকার বিষয়ে শিশু মিয়া বলেন, "ঘটনার পরপরই মামলা দায়ের করায় তখন আহত শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তার কাছ থেকেই ধার চাওয়ার বিষয়টি জানতে পারি।"
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস জানান, ঘটনার পর মামলা হয়েছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন