বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৩ পি.এম
চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন—এটাই সবার স্বাভাবিক প্রত্যাশা। তবে, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সময় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, স্বাস্থ্যসেবা নিতে যাওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৩০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। সংস্থাটি জানায়, এসব ক্ষতির অর্ধেকেরও বেশি প্রতিরোধযোগ্য।
আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস’। ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘অসংক্রামক রোগের নিরাপদ চিকিৎসা’ এবং স্লোগান ‘জীবনের জন্য নিরাপদ সেবা’। অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিরাপদ চিকিৎসা এবং জীবনভর নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করার ওপর এবারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় চিকিৎসা, পরীক্ষা, ওষুধ সেবন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকতে হয়। ফলে তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগও বেশি হয়ে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় ভুল রোগ নির্ণয়, ভুল ওষুধ ব্যবহার, সংক্রমণ, চিকিৎসার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে বাধার কারণে রোগী ক্ষতির শিকার হতে পারেন। বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৪ শতাংশই অসংক্রামক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রোগী সুরক্ষার ঝুঁকি হাসপাতালের শয্যায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক ও বহির্বিভাগের চিকিৎসাতেও ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, এসব ব্যবস্থায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রতি ১০ জনে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত ক্ষতির শিকার হতে পারেন। এর বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য।
ওষুধ ব্যবহারে ভুল, রোগ নির্ণয়ে ভুল, অনিরাপদ অস্ত্রোপচার, হাসপাতালে সংক্রমণ, রোগীর পরিচয় শনাক্তকরণে ভুল এবং অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন রোগী সুরক্ষার প্রধান ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অনিরাপদ চিকিৎসার বোঝা আরও বেশি। শুধু হাসপাতালেই এসব দেশে বছরে আনুমানিক ১৩ কোটি ৪০ লাখ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। রোগী সুরক্ষাসংক্রান্ত ক্ষতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশও এসব দেশে ঘটে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
রোগী সুরক্ষা শুধু চিকিৎসকের ব্যক্তিগত সতর্কতার বিষয় নয়; এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানের সঙ্গে জড়িত। নিরাপদ ওষুধ ব্যবস্থাপনা, নির্ভুল রোগ নির্ণয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসকদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ, রোগীর তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় রোগী ও স্বজনকে সম্পৃক্ত করা—এসব ব্যবস্থা জোরদার করলে চিকিৎসাজনিত ক্ষতি কমানো সম্ভব।
চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিরাপদ চিকিৎসা পাওয়াও রোগীর অধিকার। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় পুরো চিকিৎসাযাত্রার প্রতিটি ধাপে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নবায়ন করেছে। নতুন চুক্তির আওতায়, ২০৩২ সাল পর্যন্ত স্পেনের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইউরো এবং বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।
আরএফইএফ সভাপতি রাফায়েল লুজান ওয়ার্ল্ড ফুটবল সামিটে আনুষ্ঠানিকভাবে দে লা ফুয়েন্তের চুক্তির মেয়াদ চার বছর বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন। পূর্বে তার চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত।
মাঠে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে নতুন চুক্তিতে দে লা ফুয়েন্তের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে, তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবল কোচদের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন।
আগের চুক্তির আওতায় ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে উভয় পক্ষ দীর্ঘমেয়াদে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিল। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন মনে করে, যে নেতৃত্ব দলকে ধারাবাহিক সাফল্য এনে দিচ্ছে, তা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে রাফায়েল লুজান মন্তব্য করেন, ‘তার অর্জন এবং কাজের নিষ্ঠাই সব কথা বলে দেয়... ভক্তরা তাকে ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। আর্থিক দিক থেকে তিনি এতদিন সেরা ১০ আয়কারী কোচের তালিকায় ছিলেন না বলেই আমি তাকে এই নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছি। নতুন চুক্তিতে তিনি ঠিকই সেরা ১০-এ ঢুকবেন। চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে যাতে তিনি আরও কয়েক বছর আমাদের সঙ্গে থাকতে পারেন। তিনি গত ১৪ বছর ধরে স্প্যানিশ ফুটবলের সঙ্গেই আছেন, আর আমি চাই তিনি এখান থেকেই নিজের কোচিং ক্যারিয়ার শেষ করুন।’
বিশ্বকাপ জয়ের পর দুই পক্ষ গ্রীষ্মকালীন বিরতির পর বাকি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কোনো জটিলতা ছাড়াই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
দে লা ফুয়েন্তে মাত্র চার বছরেরও কম সময়ে স্পেনের ইতিহাসের অন্যতম সফল জাতীয় দল কোচে পরিণত হয়েছেন। তার সাফল্যের তালিকায় একটি বিশ্বকাপ, একটি ইউরো এবং একটি নেশনস লিগ শিরোপা অন্তর্ভুক্ত। এভাবে, তিনি স্পেনের কিংবদন্তি কোচ ভিসেন্তে দেল বোস্কের কাতারে নিজের নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছেন।
বিশ্বকাপ জয়ের পর স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘এএস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দে লা ফুয়েন্তে বলেছেন, ‘আশা করি চার বছর পর আবার এই অসাধারণ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করতে পারব। কারণ এই আসরটি ছিল সত্যিই অনন্য—আনন্দের দিক থেকে, অভিজ্ঞতার দিক থেকে এবং পুরো দেশ যেভাবে এক হয়ে এই সাফল্য উদ্যাপন করেছে, সেদিক থেকে।’
চুক্তি নবায়নের ঘোষণা এসেছে নেশনস লিগের জন্য স্পেনের প্রথম দল ঘোষণার ঠিক দুই দিন আগে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর অনুশীলনে নামবে স্পেন। এরপর নেশনস লিগে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচ খেলবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিন শুরু হয় খুব ভোরে, যোগব্যায়াম ও ধ্যানের সঙ্গ নিয়ে। খাবারের তালিকায় সাদাসিধে নিরামিষ পদ অন্তর্ভুক্ত থাকে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং ব্যস্ত সফরের মধ্যেও রুটিন ধরে রাখার চেষ্টা—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবনযাপন নিয়ে মানুষের আগ্রহের প্রধান কারণ এই ধারাবাহিকতা।
আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, ৭৬ বছরে পা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা আয়োজনের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার ধরন।
তার জীবনযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, তিনি দিনের শুরুটা বেশ ভোরে করেন। কিছু প্রতিবেদনে তার ঘুম থেকে ওঠার সময় *ভোর ৪টার কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সকালের রুটিনে ধ্যান, প্রাণায়াম, যোগব্যায়াম এবং দেশ-বিদেশের খবর পড়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় বলে জানা যায়।
যোগব্যায়ামই শরীরচর্চার অন্যতম সঙ্গী
নরেন্দ্র মোদির জনসমক্ষে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যেও যোগব্যায়ামের গুরুত্ব বারবার উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, যোগব্যায়ামের জন্য বয়স কোনো বাধা নয় এবং এটি শুধুমাত্র শরীরচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
তাহলে তার ফিটনেস রুটিনকে প্রচলিত জিমকেন্দ্রিক অনুশীলনের চেয়ে কিছুটা আলাদা বলা যায়। শরীরের নড়াচড়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং মনোযোগ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেই এসবকে যুক্ত রাখার ওপর তিনি জোর দেন।
খাবারে সাদাসিধে নিরামিষ
মোদির খাদ্যাভ্যাসেও সরলতার ছাপ দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি একজন নিরামিষভোজী হিসেবে পরিচিত। তার খাবারের তালিকায় ঘরোয়া ধরনের সাধারণ খাবারের পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল ও বিভিন্ন ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পদ থাকার কথা জানা যায়।
সজনে বা মরিঙ্গা দিয়েও তৈরি কিছু খাবার তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে মরিঙ্গা পরোঠার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
উপবাসও রুটিনের অংশ
ধর্মীয় বিভিন্ন উপলক্ষে উপবাস পালন করার কথাও নরেন্দ্র মোদি নিজেই বিভিন্ন সময়ে বলেছেন। এসব সময়ে তার খাবারের পরিমাণ বা ধরন বেশ সীমিত থাকে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তার খাবারের অভ্যাস থেকে বরং যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো—সাদাসিধে খাবার, পরিমিতি এবং নিয়ম মেনে চলা মোদির জীবনযাপন নিয়ে আলোচনায় কোনো বিশেষ ‘সুপারফুড’ বা গোপন ফিটনেস কৌশলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের কারণে তার কর্মসূচি অত্যন্ত ব্যস্ত। দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং নিয়মিত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ সফরের মধ্যেও নিজের দৈনন্দিন অভ্যাস ধরে রাখার বিষয়টি তার জীবনযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তার ঘুমের সময় নিয়েও নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও কোথাও রাতে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর কথা বলা হয়েছে। তবে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ; কম ঘুমকে তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের লক্ষ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়।
সাধারণ মানুষের জন্য তার রুটিন থেকে অনুসরণযোগ্য বিষয় হিসেবে বরং নিয়মিত শরীরচর্চা, পুষ্টিকর খাবার, মানসিক প্রশান্তি ও দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো সামনে আসে।
পোশাকেও নিজস্ব পরিচিতি
জীবনযাপনের মতো পোশাকেও নরেন্দ্র মোদির রয়েছে আলাদা পরিচিতি। হাফহাতা কুর্তার সঙ্গে ফিটিং জ্যাকেট তার স্বাভাবিক পোশাকের অন্যতম পরিচিত ধরন হয়ে উঠেছে। এই ধরনের জ্যাকেটই পরে ‘মোদি জ্যাকেট’ নামে পরিচিতি পায়।
বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও বিশেষ আয়োজনে রঙিন পাগড়ি এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রও তার পোশাকে দেখা যায়। বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রং ও নকশার পাগড়ি তার পোশাকের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
৭৬-এও একই ছন্দ
৭৬ বছর বয়সে নরেন্দ্র মোদির জীবনযাপনের আলোচনায় তাই কোনো একটি বিশেষ খাবার, ব্যায়াম বা ‘গোপন ফর্মুলা’ নয়, বরং রুটিন মেনে চলার ধারাবাহিকতাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।
ভোরের যোগব্যায়াম, সাদাসিধে নিরামিষ খাবার কিংবা কুর্তা-জ্যাকেটের পরিচিত পোশাক—সবকিছুর মধ্যেই তার ব্যক্তিগত জীবনযাপনের একটি নির্দিষ্ট ছন্দ ফুটে ওঠে।
তথ্যসূত্র: নিউজ ১৮, হিন্দুস্তান টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের মধ্য দিয়ে বালু পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত একটি খালি নৌযান টেকেরঘাটের দিকে যাওয়ার সময় বজ্রাঘাতে মো. শিপু মিয়া (৩৫) নামের এক নৌ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে মাটিয়ান হাওরের মাঝখানে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের নয়াহাটি গ্রামের আতাবুর রহমানের বড় ছেলে ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে শিপু মিয়া নিজ বাড়িতে ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বালু পরিবহনের নৌযানটি টেকেরঘাটের উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা হন। নৌযানটি মাটিয়ান হাওরের মাঝখানে পৌঁছানোর পর হঠাৎ বজ্রাঘাত ঘটে। এতে শিপু গুরুতর আহত হয়ে নৌকার ওপর পড়ে যান। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, ‘আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিহত শিপু মিয়ার মরদেহ তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের রামুতে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি চলাকালীন জেলা যুবলীগ নেতা মোনাফ সিকদার এবং তার সহযোগী রানা সিকদারকে পুলিশ আটক করেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের চা বাগান-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বুধবার রাতে কক্সবাজার শহরের বদর মোকাম এলাকায় মোনাফ সিকদারের ছবি ও ব্যানার ব্যবহার করে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। পরে রামুতেও অনুরূপ মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোনাফ সিকদার ও রানা সিকদারকে আটক করে।
রামু থানার ওসি এ কে ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মিছিলের প্রস্তুতিকালে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আটক মোনাফ সিকদার কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সংগঠক হিসেবে পরিচিত এবং তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী ধারায় মামলা করা হয়েছে বা কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ